Home » One Nation One Election: ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশনের’ পথে আরও এক কদম এগোল মোদি সরকার

One Nation One Election: ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশনের’ পথে আরও এক কদম এগোল মোদি সরকার

অর্কজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর: ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন’ বা ‘এক দেশ এক নির্বাচনের’ লক্ষ্যে আরও এক কদম বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রস্তাবনা গৃহীত হল। এই কমিটি গঠিত হয়েছিল মূলত কীভাবে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই নীতি কার্যকর করা যায় সেই লক্ষ্যে। এর ফলে দেশে একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।

‘এক দেশ এক নির্বাচন’ কথার অর্থ কী?

ভারতে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ ধারণার প্রধান উদ্দেশ্য হল লোকসভা (ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ) এবং সমস্ত রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনগুলিকে একত্রিত করা। পরিকল্পনা হল এই নির্বাচনগুলি একদিনে বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একসঙ্গে আয়োজন করা। দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একসঙ্গে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করে এসেছেন। উত্তরে কাশ্মীর থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী, পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ থেকে পশ্চিমে গুজরাট পর্যন্ত কীভাবে একসঙ্গে নির্বাচনকে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা যায় তার দায়িত্ব ও রণকৌশল সাজানার দায়িত্ব দেওয়া হয় দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে। কেন্দ্রীয় সরকার যে বিষয়টি অত্যন্ত গম্ভীতার সঙ্গে দেখছে তাও স্পষ্ট করা হয়েছে। চলতি বছরেই দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। তারপরেই চলতি বছরেই দেশের আরও পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়িত হলে আগামীদিনে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই তার পরে থাকা রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।

এই পদক্ষেপ নিলে কী কী লাভ হবে?

‘এক দেশ ও এক নির্বাচন’ নীতির পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে এতে দেশ আখেরে লাভবান হবে। কিন্তু এই নীতিতে কী কী লাভ হতে পারে?

১. প্রতি রাজ্যে আলাদা বছরে নির্বাচন করতে যা ব্যয় হয় সেই ব্যয় অনেকটাই কমে যাবে। অর্থাৎ সরকারি কোষাগার আরও মজবুত হবে।
২. সারা বছর কোনও না কোনও রাজ্যে নির্বাচন থাকায় দেশের সেনা ও প্রশাসনকে ব্যস্ত থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে তাদের উপর চাপ অনেকটা কমবে।
৩. রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে এই নীতি লাগু হলে একটি সরকার অনেক বেশি উন্নয়ন, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও দেশের পরিকাঠামো গঠনে মনোযোগী হতে পারবে। কারণ প্রতি বছর নির্বাচন থাকলে সরকারে থাকা দলগুলি নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
৪. আইন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী একসঙ্গে নির্বাচনের আয়োজন করা হলে ভোটারদের ভোটদানের হার বৃদ্ধি পাবে। কারণ, জনগণের কাছে একসঙ্গে অনেকগুলি ব্যালট বেছে নেওয়া সুবিধে হবে।

এই নীতির কী কী অসুবিধে রয়েছে?

কেন্দ্রীয় সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে একযোগে সরব হয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম-সহ বিরোধী দলগুলি। গোড়া থেকেই এই নীতির তীব্র বিরোধিতা শোনা গিয়েছে। তাদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক ভাবনার পরিপন্থী। কিন্তু দেখা যাক এই নীতির কী কী অসুবিধে রয়েছে?

১. ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান ও অন্যান্য আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন করতে হবে। এই পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য একটি সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন হবে। তারপর এটিকে রাজ্য বিধানসভায় নিয়ে যেতে হবে। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন নতুন কিছু নয়। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে মোট চারবার দেশে এক পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়েছে। তবে ভারতে কম রাজ্য এবং একটি ছোট জনসংখ্যা রয়েছে যারা ভোট দিতে পারে।
২. উপরন্তু, উদ্বেগ রয়েছে জাতীয় সমস্যাগুলি আঞ্চলিক সমস্যাগুলিকে ছাপিয়ে যেতে পারে। কারণ আমাদের দেশে জাতীয় নির্বাচন হয় জাতীয় সমস্যার উপর ভিত্তি করে। আর রাজ্যস্তরের নির্বাচন হয় আঞ্চলিক সমস্যার ভিত্তিতে। ফলে এই নীতি কার্যকর হলে আঞ্চলিক সমস্যাগুলিও হিমঘরে চলে যাবে।
৩. সর্বোপরি, এই নীতি প্রণয়ন হলে আগামী দিনে আঞ্চলিক দলগুলি অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দেশের সব দলের মধ্যে এই নীতি প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে সমঝোতার অভাব দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে দেশের যে সমস্ত রাজ্যে অবিজেপি সরকার রয়েছে, তাদের দাবি যে সংসদীয় পরিকাঠামোর কথা সংবিধানে রয়েছে তাও লঙ্ঘিত হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আধিপত্য বাড়বে।

আরও পড়ুন       জুনিয়র ডাক্তারদের প্রস্তাবে সায়! আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি রাজ্য সরকার

গত বছর ১ সেপ্টেম্বর দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়ে। যেই কমিটির কাজ ছিল কীভাবে এই নীতির বাস্তবায়ন সম্ভব তার রূপরেখা খুঁজে বের করা। লোকসভা নির্বাচনের আগে এক সঙ্গে সব রাজ্যের ও দেশের নির্বাচন করার সুপারিশ করে একটি রিপোর্ট পেশ করেছিল সেই কমিটি। বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাতে সেই রিপোর্ট তুলে দেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ কমিটির বাকি সদস্যরাও।

About Post Author