Home » Madrasa: বন্ধ হচ্ছে না মাদ্রাসায় আর্থিক সাহায্য, কমিশনের নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

Madrasa: বন্ধ হচ্ছে না মাদ্রাসায় আর্থিক সাহায্য, কমিশনের নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ অক্টোবর: জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন কিছুদিন আগেই রাজ্য গুলিকে দিয়েছিল মাদ্রাসা মাদ্রাসাগুলিতে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছিল। কমিশনের যুক্তি ছিল,  একজন শিশুর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে যে শিক্ষা প্রয়োজন তা মাদ্রাসায় পাওয়া দেওয়া হয় না। কমিশনের সেই প্রস্তাবের উপর সোমবার স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। কমিশন প্রস্তাব দিলেও, তা মেনে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে না কোনও রাজ্য, তা স্পষ্ট করে দিল বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচুড়ের বেঞ্চ। কমিশনের পরামর্শে মাদ্রাসাগুলির পড়ুয়াদের সাধারণ সরকারি স্কুলে ভর্তি করার যে নির্দেশ দিয়েছিল ইউপি ও ত্রিপুরার সরকার, এদিন সেই নির্দেশিকাতেও স্থগিতাদেশ জারি করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

আরও পড়ুন: “১ থেকে ১৯ নভেম্বর এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে হামলা হতে পারে”, হুঁশিয়ারি পান্নুনের

গতমাসে শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের পরামর্শে উত্তরপ্রদেশ সরকারের একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। যে নির্দেশিকায় সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসা গুলিকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করার বিধান দিয়েছিল রাজ্যের সরকার। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল জামিয়াত উলেমা-ই-হিন্দ নামে একটি সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, সমাজে সংখ্যা লঘু সম্প্রয়ায়ে নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অধিকারকে খর্ব করছে রাজ্য সরকার। কমিশনের প্রস্তাব এবং দুই রাজ্যের নির্দেশিকার উপর সোমবার স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত। এর মধ্যে আর কোনও রাজ্য এই বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করলে সেটির উপরেও স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশের সমস্ত মাদ্রাসায় আর্থিক সাহায্য বন্ধের যে পরামর্শ দিয়েছিল কমিশন সেখানে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান গুলি মুসলমান সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষার অধিকার খর্ব করছে বলেই দাবি করেছেন আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, মাদ্রাসা গুলিতে একটি ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করার জন্য যে শিক্ষা দেওয়া উচিত, তা দেওয়া হয় না। এই নিয়ে সম্প্রতি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে জাতীয় শিশু অধিকার রক্ষা কমিশন। প্রায় ১১ অধ্যায়ের ওই রিপোর্টে কমিশনের মূল পরামর্শ, রাজ্যে রাজ্যে যত মাদ্রাসা আছে, সেখানে আর্থিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ হোক। এই পদক্ষেপ মাদ্রাসা গুলিকে বন্ধ করার প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করেছেন অনেকেই। কমিশনের চেয়ারম্যান প্রিয়াঙ্ক কানুনগো শিশু শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে মন্তব্য করেন, ‘‘শিক্ষার অধিকার আইন বা রাইট টু এডুকেশনের (আরটিই ২০০৯) লক্ষ্য হল সমতা, সামাজিক ন্যায় এবং গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু সেখানে শিশুদের মৌলিক অধিকার এবং সংখ্যালঘুদের অধিকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে।’’ কমিশনের অভিযোগ, মাদ্রাসাগুলি শিক্ষার অধিকার সংক্রান্ত আইন মানছে না। কার্যত এবার মাদ্রাসা গুলি বন্ধ করতেই পক্ষপাতী কানুনগোরা। দেশের সমস্ত ইসলাম ধর্মী সম্প্রদায়গুলিকে কমিশন পরামর্শও দিয়েছে, নিজের বাচ্চাকে মাদ্রাসার না পাঠিয়ে কোনও ভালো সরকারি স্কুলে পাঠাতে। এবার তাঁদের সেই নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

About Post Author