সময় কলকাতা, স্পোর্টস ডেস্ক, ২৪ নভেম্বরঃ সেদিনও তিনি ছিলেন, আজও থাকলেন। অনুষ্কা সাক্ষী হয়ে রইলেন প্রত্যাবর্তনের। তবে তিনি শুধু নয় কোটি কোটি ক্রিকেট অনুরাগী সাক্ষী থাকলেন বিরাটের প্রত্যাবর্তনের। যেভাবে তিনি সেঞ্চুরি করলেন, সেখানে দাঁড়িয়ে “এভাবেও ফিরে আসা যায়” লাইন টুকু ক্লিসে হয়ে যায়। তিন টেস্টে ছয় ইনিংসে দেশের মাটিতে যার একশো রাত করা নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন কিছু ক্রিকেট বোদ্ধা। তাঁদের মুখে সজোরে থাপ্পড়, পারথে বিরাট প্রত্যাবর্তন। এদিনের একটা কথাই শাশ্বত হয়ে থেকে যায়, “ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট।”

আরও পড়ুনঃ Yashasvi Jaiswal: পারথে ১৫০ পার যশস্বীর! চুরমার সচিন-গাভাস্কারদের রেকর্ড
এই প্রথম নয় এই আগেও ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চেনা ছন্দে বিরাটকে খেলতে না দেখে সরব হয়েছিলেন ক্রিকেট বোদ্ধাদের সিংহভাগ। অনেকেই মতামত দিয়েছিলেন ‘এবার ক্রিকেট ছাড়ার পালা’। সেই সমস্ত মন্তব্য কার্যত তুলে আছার দিয়েছিলেন বিরাট এই অস্ট্রেলিয়াতেই। ২০২৩ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত বনাম পাকিস্তানের ঐতিহাসিক জয়ে শ্রেষ্ঠ অবদান ছিল তাঁর। হাতের বাইরে চলে যাওয়া ম্যাচ, টেনে এনেছিলেন নিল শিবিরে। আবারও একই কীর্তি করে দেখালেন বিরাট। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্টে শতরানের পর বিরাট আর পাননি একটিও টেস্ট সেঞ্চুরি। সম্প্রতি ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৭০ রানে সাজঘরে ফিরেছিলেন তিনি। তারপর একের পর থেকে এক ইনিংসে ব্যর্থ হওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, দলে তাঁর প্রয়োজন নিয়ে। সেই সব প্রশ্নের মুখে কালিমা লেপে নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন বিরাট। আর এই প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকলেন তাঁর সব সময়ের সঙ্গী, তাঁর অর্ধাঙ্গিনী অনুষ্কা শর্মা। গতবছর বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ে ৫০তম একদিবশীয় শতরান করে ভেঙে ছিলেন ক্রিকেটের ভগবান সচিনের রেকর্ড। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তেরও সাক্ষী ছিলেন স্ত্রী অনুষ্কা। শতরানের পর হেলমেট মাঠ থেকেই খুলে স্ত্রীর দিকে চুম্বন ছুঁড়তে ভোলেননি কিংবদন্তি। আজ ফের শতরানের পর অনুষ্কার সামনেই কী নির্ভার হাসলেন কোহলি। সমাজ মাধ্যমে ঝড় উঠেছে “কিং ইজ ব্যাক।”
দেশের মাটিতে ব্যর্থ হওয়ার বিরাটের অজিভূমিতে যাওয়া নিয়ে নাক কুঁচকে ছিলেন কিছু ক্রিকেট বোদ্ধা। সেখানে প্রথম ইনিংসে নেমেই মাত্র ৫ রানে আউট হয়েছিলেন বিরাট। তার পর থেকে সমালোচনা আরও জোড়ালো হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে চুপ করিয়ে দিলেন নিন্দুকদের। ১৪৩ বলে ১০০ রান করলেন। গোটা ইনিংসে মেরেছেন ৮টি বাউন্ডারি। হাঁকিয়েছেন দুটি ছক্কা। সঙ্গে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে ৩৮ রান জুড়েছেন নীতিশ কুমার রেড্ডি। যার সৌজন্যে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে সমাপ্তি টেনেছে ৪৮৭ রানে। অর্থ্যাৎ অজিদের সামনে মোট টার্গেট ৫৬৪। যে রান তাড়া করতে নেমেই মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট হয়ে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাক সুইনি ও লাবুসেনকে ফিরিয়ে দিলেন বুমরাহ। তাল মিলিয়ে প্যাট কামিংসকেও সাজঘরের রাস্তা দেখালেন মহম্মদ সিরাজ। সাত উইকেট হাতে নিয়ে অজিদের জিততে হলে দুদিনে করতে হবে এখনও ৫২২ রান।


More Stories
ইউএস ওপেন : ছিটকে গেলেন আলকারাজ
ঈশান কিষানের পরাক্রমে দলীপ ট্রফি জয়ের দোরগোড়ায় পূর্বাঞ্চল
আবার বারাসাতে খেলতে নামছে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল