Home » তিরুপতিতে পদপিষ্ট হয়ে ৬ জনের মৃত্যু,অব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণহীন ভিড়, ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন,শোকপ্রকাশ মোদি-রাহুলের

তিরুপতিতে পদপিষ্ট হয়ে ৬ জনের মৃত্যু,অব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণহীন ভিড়, ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন,শোকপ্রকাশ মোদি-রাহুলের

সময় কলকাতা ডেস্ক:-তিরুপতিতে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬। বুধবার প্রাথমিকভাবে ৩ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। পরে বুধবার রাতের দিকে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত একাধিক। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বুধবার তিরুপতি মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। তিরুমালা বৈকুণ্ঠ গেটে সর্বদর্শনম টোকেন দেওয়ার সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর সেই সময়েই দুর্ঘটনা ঘটে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় মন্দির এই তিরুপতি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয় সেখানে। চড়াই রাস্তায় পায়ে হেঁটে উঠে অনেকেই পুজো দেন। বৈকুণ্ঠদ্বারে দর্শনের সময় টোকেন নিতে হয়। সেই সময় ভিড় বেড়ে যাওয়ায় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। সামাল দিতে হিমশিম খায় মন্দির কর্তৃপক্ষ।

কি ঘটেছিল?

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দর্শন করার জন্য টোকেন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ। সেই কারণে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই ভক্তদের ভিড় বাড়ছিল। তিরুপতির ৯টি কেন্দ্রে ৯৪টি কাউন্টারের মাধ্যমে বৈকুণ্ঠ দর্শনের টোকেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানেই ঘটে বিপত্তি। পদপিষ্টের ঘটনায় যে তাঁদের গাফিলতি রয়েছে তা কার্যত মেনে নিয়েছে তিরুপতি মন্দির কর্তৃপক্ষ। কারণ ভিড় সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে তাঁরা। আনুমানিক ৪ হাজার লোকের ভিড় হয়েছিল সেখানে। কিন্তু আচমকা পদপিষ্টের ঘটনা ঘটল কীভাবে? জানা গিয়েছে, পুজো দেওয়ার টোকেন নিতে গিয়ে তিরুপতিতে মাত্রাতিরিক্ত ভিড় হয়ে যায়। টোকেন দেওয়া শুরু হলে হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হন প্রচুর মানুষ। তাতেই ৬ জনের মৃত্যু হয়। সমস্যা তৈরি হয় বৈরাগী পট্টিতা পার্কে টোকেন বিলির সময়। সকাল থেকেই টিকিট বিলির সব কাউন্টারেই ভিড় ছিল। তবে সন্ধের দিকে পট্টিতা পার্কের কাউন্টারে একসঙ্গে অন্তত ৪-৫ হাজার মানুষ ভিড় জমান।

ঘটনায় শোক প্রকাশ

প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকের মতে, ভিড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এক মহিলা। তাঁকে জটলা থেকে বের করে নেওয়ার সময়ই ভিড়ের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। ফলে হুড়হুড়ি পড়ে যায়। ইতিমধ্যেই তিরুপতি মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আহতদের সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধিও শোকপ্রকাশ করেছেন।

উঠছে একাধিক প্রশ্ন

কিন্তু এসবের মধ্যেই বুধবারের ওই দুর্ঘটনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। ওই সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত ব্যবস্থা কেন করেন প্রশাসন? টোকেন সংগ্রহে এই পরিমাণ ভিড় হতে পারে জানার পরও কেন আরও বেশি সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা করা হল না? লাইনে দাঁড়ানো পুণ্যার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা আদৌ ছিল তো? প্রশ্ন একাধিক। অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ভক্তদের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন। উদ্ধারের জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসায় যাতে কোনও ত্রুটি না হয়, সেই ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন চন্দ্রবাবু নাইডু। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডিও এই ঘটনায় শোকবার্তা দিয়েছেন।

About Post Author