Home » বিষাক্ত স্যালাইনে অসুস্থ ৩ অন্তসত্ত্বা, গ্রিন করিডরে আনা হল এসএসকেএম -এ, দায়িত্বে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড

বিষাক্ত স্যালাইনে অসুস্থ ৩ অন্তসত্ত্বা, গ্রিন করিডরে আনা হল এসএসকেএম -এ, দায়িত্বে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড

সময় কলকাতা নিউজ ডেস্ক:-মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে আশঙ্কাজনক তিন প্রসূতিকে রবিবার রাতে নিয়ে আসা হল কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। গ্রিন করিডর করে অ্যাডভান্স লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। রাত সওয়া ১০টা নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছয় তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স। শুরু হয়েছে চিকিৎসা। এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসার জন্য ৫ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই হাসপাতালে বিশেষ শয্যারও ব্যবস্থা করা হয়।

মেদিনীপুর মেডিক্যালে বিষাক্ত স্যালাইন দেওয়ায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল রাজ্য। একই কারণে আরও চার অন্তঃসত্ত্বা অসুস্থ বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁদের ডায়ালিসিস ও একাধিক পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে রবিবার রাতে নিয়ে আসা হল কলকাতায়। ২ জনকে ভর্তি করা হয়েছে ক্রিটিকাল কেয়ারে। ১জন রয়েছেন আইসিইউতে। তিনজনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।

স্বাস্থ্য দফতরের ১৩ সদস্যের কমিটি প্রাথমিক তদন্ত করে অনুমান করেছে যে রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনই এঁদের অসুস্থতার কারণ। এই স্যালাইন ব্যবহারের পর থেকেই প্রসূতিদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে। ভেঙে যায় রক্ত কণিকা। যার জেরে তাঁদের শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণও কমতে শুরু করেছিল। স্যালাইন কাণ্ডের রহস্য ভেদে প্রসূতিদের থেকে নমুনা নিয়ে বায়োপসি করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে, প্রসবের পরে দেওয়া অক্সিটোসিন ইঞ্জেকশন ও রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না।

এদিকে, মেদিনীপুর মেডিক্যালের ওই স্যালাইনগুলি অনেক দিন ধরে বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে থাকায় কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কিডনিতে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় প্রসূতিদেরর ডায়ালিসিসও করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাই ওই তিন প্রসূতিকে কলকাতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রবিবার।
রবিবার এসএসকেএম হাসপাতালে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য দফতরের ১৩ সদস্যের কমিটি, স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এবং মেদিনীপুর সিএমওএইচ। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কলকাতার এসএসকেএম-এ নিয়ে এসে চিকিৎসা করানোর।

About Post Author