Home » ‘নিপীড়ন রুখে দাঁড়াও জনগণ !”ধর্ষকেরা ধর্ষণ করে, প্রশাসন কী করে?’ উত্তাল বাংলাদেশ, পথে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-সাধারণ মানুষ

‘নিপীড়ন রুখে দাঁড়াও জনগণ !”ধর্ষকেরা ধর্ষণ করে, প্রশাসন কী করে?’ উত্তাল বাংলাদেশ, পথে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-সাধারণ মানুষ

সময় কলকাতা, নিজস্ব প্রতিনিধি ,বাংলাদেশ:- একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদে উত্তাল বাংলাদেশ। ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদে পথে নেমেছে। শনিবার গভীর রাত থেকে নিদ্রাহীন ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সহ একাধিক এলাকা। উত্তাল বাংলাদেশ, পথে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-সাধারণ মানুষ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই লাঠি হাতে পথে। খুন, ধর্ষণ, নিপীড়ন রুখে দাঁড়াও জনগণ, অবিলম্বে ধর্ষকদের বিচার করো, করতে হবে, ধর্ষকেরা ধর্ষণ করে, প্রশাসন কী করে? সমস্বরে এমন স্লোগান উঠেছে।

নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ গঠন করতে হবে

শুধু শিশুকন্যাই নয়, ঢাকার কেরানিগঞ্জে এক অন্তঃস্বত্ত্বা মহিলা গণ ধর্ষণের শিকার হন। অভিযুক্ত শহরের কুখ্যাত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সমাবেশ থেকে ধর্ষণের প্রতিটি ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, ধর্ষণ, নিপীড়নসহ নারীর ওপর সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। কিন্তু সরকার কার্যত নির্বিকার। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যান। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ গঠন করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি

পুলিশ-সহ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপদার্থতা এবং গাফিলতির অভিযোগ তুলে তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেছে। রবিবার পরিস্থিতি এতটাই উত্তাল যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সারাদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বতী সরকার জানিয়েছে, ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত শেষ করা হবে পনেরো দিনে। বিচার হবে ৯০ দিনের মধ্যে। সরকার এজন্য দ্রুত আইন পরিবর্তন করবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে

২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন নারী। এদের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২১ টি এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ জন। ফেব্রুয়ারি মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৭টি, এর মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৭টি, ধর্ষণের পর হত্যার দুইটি ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে পাঁচ জন বিশেষভাবে কিশোরী ও নারীও রয়েছেন।ফেব্রুয়ারিতে ধর্ষণের শিকার ৫৭ জনের মধ্যে ১৬ জন শিশু, ১৭ জন কিশোরী রয়েছেন। অন্যদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩ জন কিশোরী ও ১৪ জন নারী, ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন দুই জন নারী। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা ১৯টি, যৌন হয়রানি ২৬টি, শারীরিক নির্যাতনের ৩৬টি ঘটনা ঘটেছে এই মাসে। মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন এমএসএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি।

ফেব্রুয়ারি মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বেশি। এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো লাঠি হাতে রাস্তায় নেমেছে শিক্ষক-পড়ুয়া-সাধারণ মানুষ। চুপ থাকেননি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। দলের ভার্চুয়াল বৈঠকে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে যেন ধর্ষণের উৎসব লেগে গিয়েছে।

জানা গিয়েছে

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিগত ডিসেম্বরের তুলনায় ধর্ষণ এবং চুরি-ডাকাতি-খুন-অপহরণ-রাহাজানি-অপহরণের ঘটনা তিন চার গুণ বেড়ে গিয়েছে। ফলস্বরূপ, দেশ উত্তাল। দেশটির একাধিক শিক্ষাঙ্গন উত্তাল। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস টানা উত্তাল। ছাত্রী এবং স্থানীয় নারীরা লাঠি মিছিল বের করেন। পথে নেমেছেন শিক্ষকেরাও। অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেন, সরকার মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। পুলিশ-প্রশাসন ব্যর্থ বলেই অপরাধীরা মহিলাদের নিশানা করছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, প্রতিবাদ না করা পর্যন্ত ধর্ষকদের কেন বিচার শুরু হয় না। প্রশ্ন উঠছে, ধর্ষকদের শাস্তির ব্যবস্থা কেন করতে পারছে না অন্তর্বর্তী সরকার?

এসবের মাঝেই আশ্চর্যের বিষয় হল

দেশ যখন ধর্ষণ-সহ নারীর উপর যৌন সহিংসতার ঘটনায় উত্তাল, তখন গণ অভ্যুত্থানের কারিগর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব ও তাদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা মুখে কুলুপ এঁটে আছেন। নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহরা চুপ। প্রতিবাদ করে বিবৃতিও দেয়নি ছাত্র নেতৃত্ব। সরকার স্তম্ভিত, খানিকটা ভিমড়ি খাওয়ার জোগার। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধু মূল্যবৃদ্ধি, সংখ্যালঘু নিপীড়ন, হত্যা, খুন, প্রতিহিংসা রুখতেই ব্যার্থ নয়, ব্যার্থ নারী নিরাপত্তা দিতেও।

About Post Author