সময় কলকাতা ডেস্ক:- মরিশাসে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার দু’দিনের সফরে পূর্ব আফ্রিকার ওই দ্বীপরাষ্ট্রে গেলেন তিনি। সেদেশের বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলাম ও তাঁর গোটা মন্ত্রিসভা। মোদিকে অভ্যর্থনা জানাতে সেদেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গার্ড অব অনার’-এ সম্মানিত করা হয়। এই নিয়ে পঞ্চমবার মরিশাস সফরে প্রধানমন্ত্রী।মঙ্গলবার দু’দিনের সফরে পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই নিয়ে পঞ্চমবার মরিশাস সফরে প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার পূর্ব আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রে পা রেখেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তখন তিনি খাতায়-কলমে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৫ সালে প্রথমবার সেই দ্বীপরাষ্ট্রে কূটনৈতিক সফরে যান মোদি।
বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা
মঙ্গলবার সেদেশের বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলাম ও তাঁর গোটা মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি, বিমানবন্দরেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় দ্বীপরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতিদেরও। মোদিকে দেখতেই গলা জড়িয়ে নেন মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলাম। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে সেদেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গার্ড অব অনার’-এ সম্মানিত করেন মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী। সোমবার মধ্যরাতে দিল্লি থেকে মরিশাসের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বন্ধু দেশের মাটিতে পা রাখার আগে সোমবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, দুই দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে নয়া মাত্রা দিতে তাঁর এই সফর।
প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘মরিশাস ভারতের সামুদ্রিক প্রতিবেশী পাশাপাশি ভারত মহাসাগরের অন্যতম অংশীদার। ভারতের সঙ্গে মরিশাসের এক গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে। তাঁর এই সফর দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি আরও মজবুত করবে এবং ভারত-মরিশাস সম্পর্কের এক উজ্জ্বল অধ্যায় তৈরি করবে। পাশাপাশি তিনি লেখেন, ‘ভারতের জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে মরিশাসের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়নোর সুযোগের অপেক্ষায়। ১২ মার্চ সেদেশে পালিত হবে ৫৭তম জাতীয় দিবস। সেই অনুষ্ঠানেই বিশেষ অতিথি হিসাবে হাজির হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। উদ্বোধন করবেন কমপক্ষে ২০টি প্রকল্প।
জানা গিয়েছে
মরিশাসের জাতীয় দিবস উপলক্ষে সেই দেশে সামরিক মহড়ায় যোগ দিতে চলেছে আইএনএস ইম্ফল যুদ্ধতরী। সোমবারই সেটি পৌঁছে গিয়েছে ওই দ্বীপরাষ্ট্রে। তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হল, সিঙ্গাপুরের পর মরিশাস ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ইন্ডিয়ান অয়েল, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-র মতো ১১ টি ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রয়েছে সেদেশে। এছাড়াও নানা ক্ষেত্রে মরিশাসের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিও রয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই সফরে ভারত পরিচালিত অন্তত ২০টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বাণিজ্যিক চুক্তির পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে চিনা আগ্রাসনের কথা মাথায় রেখে সমুদ্র নিরাপত্তার বিষয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই মরিশাসে ভারত একটি বন্দরও গড়ে তুলেছে। সেখানকার পোর্ট লুইসে ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজ সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য মোতায়নও রাখবে নয়া দিল্লি।


More Stories
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
হরমুজ প্রণালী, রান্নার গ্যাস ও তেল এবং ভারত -ইরানের সম্পর্ক
যুদ্ধের জাঁতাকলে ভারত