সময় কলকাতা ডেস্ক:- বর্ষায় হাওড়া শহরে জল জমার সমস্যা নতুন কিছু নয়। কিন্তু হাওড়ার বামুনগাছি রেল কলোনি এলাকায় শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, সারা বছরই জল জমে থাকে। গত বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বর্ষা বিদায় নেওয়ার পরেও মাসের পর মাস বামুনগাছি রেলওয়ে ইনস্টিটিউট মাঠে জল দাঁড়িয়ে ছিল। তার ফলে মাঠটি কচুরি পানায় ভরে গিয়েছিল। জলের উপর দিয়ে যাতে মানুষকে যাতায়াত করতে না হয় তার জন্য রেল কোয়ার্টারের ভিতরের রাস্তা কিছুটা উঁচু করে দেওয়া হলেও সমস্যার খুব একটা সুরাহা হয়নি।
হাওড়া পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন, ওই এলাকার নিকাশি সংস্কারের দায়িত্ব রেলের।
এলাকার নিকাশি সমস্যা মেটানোর জন্য তিনি রেলকে চিঠি দেবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কয়েক দিন আগে পুরসভা এবং রেলের আধিকারিকরা যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শনে যান। সেই মতো রানি ঝিল থেকে মাটি তুলে বামুনগাছি রেল কলোনির নিচু এলাকাগুলিকে উঁচু করার কাজ শুরু হয়েছে।
পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, ‘বামুনগাছি রেল কলোনি এলাকায় যাতে জল জমার সমস্যার সমাধান করা যায় তার জন্যই বর্ষার আগে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন নিকাশির হাল ফিরবে, তেমনি রেলওয়ে ইনস্টিটিউট মাঠটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে।’ রেলের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, রেলওয়ে ইনস্টিটিউট মাঠকে বামুনগাছি রেল কলোনির ফুসফুস বলা হতো এক সময়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেই মাঠ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। প্রায় সারা বছরই জল জমে থাকার ফলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ। দেরিতে হলেও রেল এই সমস্যা মেটাতে এগিয়ে আসায় খুশি এলাকাবাসী।
বামুনগাছি রেল ব্রিজ বা বামুনগাছি বাজার থেকে শুরু করে লিলুয়া স্টেশনের কিছুটা আগে রানি ঝিল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই রেল কলোনি গড়ে উঠেছে।
এখানে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। রেলের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীরা কোয়ার্টারগুলিতে বসবাস করেন। পাশেই রয়েছে রানি ঝিল। বর্ষাকালে বামুনাগাছি রেল কোয়ার্টার–সহ আশপাশের এলাকার জল জমা হয় রানি ঝিলে। কিন্তু ঝিলটি বুজে যাওয়ায় তার জল ধারণ ক্ষমতা কমেছে। ফলে বর্ষাকালে ঝিলের জল উপচে আশপাশের এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তার জেরে রীতিমতো ভোগান্তির মুখে পড়েন রেল কলোনির বাসিন্দারা।
সম্প্রতি বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ধস নামায় বেলগাছিয়া পচা খাল বুজে যায়।
তার ফলে ড্রেনের জল বেরোতে না পারায় রেল কলোনির ভিতরে জল দাঁড়িয়ে যায়। বামুনগাছি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনও জলের তলায় চলে যায়। তাতে এক দিকে যেমন এই এলাকার সাধারণ মানুষ নাজেহাল হচ্ছেন, তেমনি রেল কলোনির বাসিন্দারাও দুর্ভোগে পড়ছেন। এ বার বর্ষা চলে যাওয়ার পরেও বামুনগাছি রেলওয়ে ইনস্টিটিউট মাঠ দীর্ঘ দিন ধরে কচুরিপানায় ঢাকা ছিল।
তাই এ বার স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেল কলোনির ভিতরে যে সব জায়গায় সারা বছর জল জমে থাকে সেখানে মাটি ফেলে উঁচু করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বামুনগাছি রেলওয়ে ইনস্টিটিউট মাঠের বেশ কিছুটা অংশ মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছে। সেই কাজ চলছে জোর কদমে। তার ফলে আসন্ন বর্ষায় বামুনগাছি রেল কলোনি এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন রেল কর্তারা। ভৌগলিক ভাবে বামুনগাছি রেল কলোনি হাওড়া পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। পাশ দিয়েই চলে গিয়েছে রেল লাইন।


More Stories
নেপো কিড নই, আবার দেখা হবে – সাসপেন্ড হয়ে আর কী বললেন ঋজু দত্ত
শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী , আর কী ঘোষণা অমিত শাহের?
কীভাবে ও কেন খু*ন শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে?