Home » সরকারি প্রকল্পের নামে পুকুর ভরাট! জলাভূমি আইনকে কার্যত বুড় অঙ্গুল দেখিয়ে চলছে পুকুর ভরাট

সরকারি প্রকল্পের নামে পুকুর ভরাট! জলাভূমি আইনকে কার্যত বুড় অঙ্গুল দেখিয়ে চলছে পুকুর ভরাট

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বারাসাত, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একটি প্রাচীন জনপদ। পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পুকুর এলাকায়, পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, রাতের আধারে প্রায় ৭ বিঘা পুকুর ভরাটের কাজ চলছে। রাত বারোটার পর থেকে ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত চলছে এই কাজ। ঘটনাস্থলে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা পৌঁছলে অভিযোগ স্বীকার করে নেন এক গাড়ির চালক। তবে সেখানকার এক কেয়ারটেকারের দাবি সরকারি একটি প্রকল্প চলছে এবং বারাসাত পুরসভার সকলেই সে বিষয়ে অবগত। সংবাদ মাধ্যমকে ধমক চমক দিতে ছারেননি সেই নাম না জানা কেয়ারটেকার।

কেয়ারটেকার যাই বলুক না কেন! ঘটনাস্থলের ছবি বলছে অন্য কথা। গোটা পুকুরের প্রায় অর্ধেকের বেশি মাটি এবং বালি ফেলে বুঝিয়ে ফেলা হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি তথা পুরসভার বিরোধী দলনেতা বরুণ ভট্টাচার্য বলেন, তিনি শুনেছিলেন কোন সরকারি কাজ চলছে, কিন্তু তাকে কোনোভাবেই কোন কিছু জানানো হয়নি পুরসভার পক্ষ থেকে। তিনি কার্যত তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাকে দুর্নীতির অখড়া বলে দাবি করেছেন।

এই পুকুরের নামেই এলাকার নাম নতুন পুকুর। নামে নতুন হলেও পুকুর টি বেশ পুরনো। এই পুকুর ভরাটের প্রতিবাদ করছে বিজেপি। বারাসাতের বিজেপি নেতা রাজীব পোদ্দার তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাকে এক হাতে নেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জলাভূমি বন্ধের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র অন্য। বাম বিজেপির অভিযোগ, মমতার কথাকে পাত্তা দিচ্ছেনা তারই দল তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা।

বিজেপির সাফ দাবি, নিজের দলের কাছেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। নতুন পুকুর ভরাট বিষয়ে মুখে কুলুপ এটেছে বারাসাত পুরসভা। সঙ্গে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন। যা হল, জলাভূমির পার বাধাই করতে গেলেও গ্রীন ট্রাইব্যুনাল এর অনুমতি দরকার। কিন্তু নতুন পুকুরের পার বাধাইয়ের অনুমতি থাকলে পুরসভা মুখ খুলতেন সংবাদ মাধ্যমের সামনে। এমনটাই মনে করেন পরিবেশবিদ অরূপ গুহ সহ অন্যান্য পরিবেশ প্রেমীরা।

About Post Author