সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগাঁও হামলার জের। এবার পাকিস্তানের গলা টিপে ধরতে চলেছে ভারত। সন্ত্রাসী হামলার পরেই একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তানকে কূটনৈতিক চাপে ফেলেছিল ভারত। জলবন্টন সাময়িকভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি স্থগিত হয়েছে সীমানা, বাণিজ্য এমনকি আকাশপথও। এবার চাপ বাড়াতে জলযুদ্ধের পর পাক সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে ভারত। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, পাকিস্তানের সন্ত্রাস-প্রেম বন্ধ করতে তাদেরকে আর্থিক চাপে রাখতে চলেছে সাউথ ব্লক।
কিন্তু কীভাবে তাদের চাপে রাখবে নয়াদিল্লি?
সূত্রের খবর, আইএমএফ থেকে পাকিস্তান যে বিপুল অঙ্কের অনুদান পায় সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলবে নয়াদিল্লি। এছাড়াও সন্ত্রাসবাদের উপর নজরদারি সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের ‘ধূসর তালিকা’য় পাকিস্তানকে আবার ফেরানোর দাবিও তুলবে ভারত, এমনটাই জানা গিয়েছে সূত্র মারফত। সম্প্রতি, পাকিস্তানকে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ হিসাবে দিতে রাজি হয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার।
তবে এই টাকার সঙ্গে একাধিক শর্তও দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, একটি পয়সাও অপ্রয়োজনে খরচ করা যাবে না। আয়করের মাধ্যমে জিডিপি বাড়াতে হবে দেশের। পাশাপাশি কৃষি, রিয়েল স্টেটের মতো একাধিক ক্ষেত্রে কর চাপাতে হবে। অগাধ ছাড়ের পরিমাণ কমাতে হবে সরকারকে। যাবতীয় শর্ত মেনেই এই সাহায্য গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। কিন্তু সেই টাকা নিয়ে দিনশেষে পড়শি দেশে সন্ত্রাসেই মদত জোগাবে, এমনটা অভিযোগ তুলে তাদের দিকে আসার টাকার নদীতে বাঁধ ফেলতে চাইছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি, পাকিস্তান যেন আবার ধূসর তালিকার আওতাভুক্ত হয় তারও ব্যবস্থা করছে নয়াদিল্লি।
কিন্তু কী এই ধূসর তালিকা?
যে সকল দেশ নিজেদের তহবিল নিয়ে তছরূপ করে থাকে এবং সেই টাকা সন্ত্রাসের মতো দুর্বৃত্তরাজে বিনিয়োগ করে থাকে, তাদেরকে এই তালিকাভুক্ত করে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স। ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তান এই তালিকারই আওতাভুক্ত ছিল। যার জেরে সেই বছরগুলিতে পাকিস্তান বিদেশি বিনিয়োগের ঝাপ কার্যত বন্ধ হয়েছিল বললেই চলে। দীর্ঘ চার বছর পর ২০২২ সালে ধূসর তালিকা থেকে বাদ পড়ে পাকিস্তান।
সে সময়ে জানানো হয়েছিল, সন্ত্রাসবাদে আর্থিক ও অন্যান্য মদত বন্ধ করতে পাকিস্তানকে ৩৪টি শর্ত দেওয়া হয়েছিল। ওই শর্তের মধ্যে ২৭টি ছিল সন্ত্রাসে আর্থিক মদত সংক্রান্ত এবং ৭ টি বেআইনি অর্থ পাচারের বিষয়ে। সেই অ্যাকশন প্ল্যানের সব ক’টি শর্তই নাকি ইসলামাবাদ পূরণ করেছে! কিন্তু পহেলগাঁও হামলায় বারবার পাকিস্তানের যোগ মিলছে। এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করেই পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করছে ভারত।


More Stories
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
বালাসাহেব-উদ্ধব ও একনাথই কি যথাক্রমে মমতা – অভিষেক ও ঋতব্রত?
নেতা নয় নায়ক, যমের অরুচি, ঋতব্রতকে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শতরূপের