সময় কলকাতা ডেস্ক:- অল্প বয়সেই অপরাধ জগতে হাতেখড়ি। বোমা বাঁধা এবং ছোড়ায় তার জুড়ি মেলা ভার। সেই মহম্মদ রিয়াজউদ্দিন ওরফে আরমান মণ্ডল এখন তৃণমূল কাউন্সিলর। তবে এইমূহুর্তে বোমার জেরেই ফের গারদে যেতে হলো অপরাধের দীর্ঘ তালিকায় নাম থাকা টিটাগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলার রিয়াজউদ্দিন কে।
এদিকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা শুরু করেছে বিধায়ক-পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। রাজের কথায়, ‘ক্লিন টিটাগড়ের স্বপ্ন নিয়ে অপরাধমুক্ত টিটাগড় বানাতে চেয়েছিলাম। আজ কিছুটা ধাক্কা খেলো। ভালো করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু না হলে আমি কী করব! যে যা কর্ম করবে তার ফল ভোগ করতে হবে।’ বিজেপির ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তাই যদি হতো তা হলে অপরাধীদের ধরে এনে জনপ্রতিনিধি করে দিলেই তো আর অপরাধ ঘটত না।’ যদিও জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘কারও অপরাধের দায় দল নেবে না। আরমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।’
স্থানীয় সূত্র বলছে, ২০২১ সালের বিধানসভার ভোটে যখন টিটাগড়ে অনেকেই তৃণমূলের ঝান্ডা ধরার সাহস পাচ্ছিলেন না, তখন তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীকে জেতাতে রাস্তায় নেমেছিল আরমান। আর সেই কারণেই আরমানের সব কুকীর্তি জেনেও তার পুরস্কার হিসেবে তাকে কাউন্সিলারের টিকিট দেওয়া হয়েছিল। শাসক নেতারা উত্তর এড়িয়ে গেলেও শুধু আরমান নয়, রাজ চক্রবর্তী বিধায়ক হওয়ার পরে ২০২২ সালের পুরভোটে তার মতো পাঁচজন বাহুবলীকে দলের টিকিটে প্রার্থী করা হয়। টিটাগড়ে কান পাতলেই শোনা যায় তাঁদের কাউন্সিলার করে আসলে অর্জুন সিং এর নিয়ন্ত্রণ থেকে টিটাগরকে দখল করতে চেয়েছিল তৃণমূল।
একটা সময় প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং এর ভয়ে দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে ছিল এই সব গুন্ডারা। ২০২০ সালের মাঝামাঝি তৃণমূল নেতাদের হাত ধরে আবার এলাকায় ঢোকে এরা। লক্ষ্য ছিল অর্জুন সিং এর হাত থেকে টিটাগর দখল করা। ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে টিটাগড় পুরসভার নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে জেতে আরমান সহ বাকিরা।
টিটাগড় অঞ্চলের এক সময়ের ত্রাস ছিল এই মহম্মদ রিয়াজউদ্দিন ওরফে আরমান মণ্ডল। টিটাগড়ের অপরাধ জগতে ‘মণ্ডলুয়া’ নামে পরিচিত আরমান বহুবার এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করেও অর্জুন সিং এর দাপটে ঢুকতে পারেনি। তার বিরুদ্ধে বোমাবাজি, খুন, খুনের চেষ্টা, ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া, ডাকাতির চেষ্টা, হুমকি, মারধর, তোলাবাজি, অস্ত্র আইন-সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের গাড়িতেও বোমা মারার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২টি মামলা ঝুলছে তার ঘাড়ে। বেশ কয়েকবার জেলও খেটেছে।


More Stories
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
বালাসাহেব-উদ্ধব ও একনাথই কি যথাক্রমে মমতা – অভিষেক ও ঋতব্রত?
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর