সময় কলকাতা ডেস্ক:- কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিকাশ ভবনের সামনের রাস্তা থেকে সরে যেতে হবে চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের। কিন্তু আদালতের রায়ে এটাও বলা হয়েছিল যে, পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প জায়গা ঠিক করতে হবে। কিন্তু অভিযোগ, আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসার আগেই বিধাননগর পুলিশ চাকরিহারাদের জন্য বিকল্প জায়গায় ছাউনি ও অন্যান্য ব্যবস্থা সেরে ফেলেছে।
এ দিকে, এ দিনই কালীঘাটে একদল চাকরিহারা শিক্ষিকা ‘স্কুলে যেতে চাই’ দাবি তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছে গিয়েছিলেন। পুলিশের উদ্যোগে সেই শিক্ষিকাদের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পাঁচ প্রতিনিধি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি সংলগ্ন অফিসে তাঁদের দাবিপত্র তুলে দেন। যদিও স্কুলশিক্ষা দপ্তর বেতনের জন্য যে তালিকা পাঠিয়েছে, তাতে এই শিক্ষিকাদের নাম নেই। এরা প্রত্যেকেই ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত।
চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবি, যে জায়গাটি আমাদের জন্য বাছা হয়েছে, সেখানে এতকাল পাবলিক মল–মূত্র ত্যাগ করত। কোনও রকমে সেটাকে পরিষ্কার করে একটা প্যান্ডেল তৈরি হয়েছে। পিছনে ঝোপঝাড়। যে কোনও সময়ে বিষাক্ত সাপ বা অন্য কিছু চলে আসতে পারে। তা ছাড়া জায়গা অপরিসর, একেবারে রাস্তার ধারে। যেখানে ধুলো–ধোঁয়া কোনও রকমে আটকানো যাবে না।’ তাঁদের দাবি, ইতিমধ্যেই অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সেখানে গেলে অসুস্থের সংখ্যা বাড়বে বই কমবে না! ফলে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
জানা গিয়েছে, পুলিশ তিনটি জায়গা তাঁদের দেখিয়েছিল। তাঁরা জানিয়েছিলেন, আলোচনা করে একটি জায়গা ফাইনাল করা হবে। তা জানিয়ে দেওয়া হবে প্রশাসনকে। কিন্তু অভিযোগ, তার আগেই একটি জায়গায় প্যান্ডেল তৈরি, বায়ো টয়লেট-জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই বিকল্প ধর্নাস্থল তৈরি করতে তৎপর বিধাননগর পুলিশ ও পুরসভা। কিন্তু সেন্ট্রাল পার্কের সামনের রাস্তায়, জলসম্পদ ভবনের উল্টোদিকে যেখানে পুলিশের তরফে ধর্নাস্থল তৈরি করা হচ্ছে, তা চাকরিহারা আন্দোলনকারীদের পছন্দ নয়।
এ দিকে, রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, ‘ওঁরা আলোচনা করতে চেয়ে একটি চিঠি অবশ্যই আমাকে দিয়েছেন। কিন্তু সেই চিঠিতে পরিষ্কার নয়, ওঁরা কী নিয়ে আলোচনা করতে চাইছেন। আমি তো একাধিকবার আলোচনায় বসেছি। এটা বুঝতে হবে, সরকার তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছে। কী নিয়ে ওঁরা কথা বলতে চান, সেটা স্পষ্ট করে চিঠি দিন। আমাদের দপ্তরের তরফে সোমবার কোনও অফিসার নিশ্চয়ই যোগাযোগ করবেন।’
পাল্টা চাকরিহারা আন্দোলনের নেতা শুভজিৎ দাস কটাক্ষের সুরে বলেছেন, ‘ব্রাত্যবাবু হয়তো জানেন না। কিন্তু আমরা কেন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছি আর আমাদের কী দাবি, সেটা রাজ্যবাসী জানেন। এরপরেও বলছি, আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট—এক, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। দুই, আমরা আর পরীক্ষায় বসব না। সেটা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার, তা আমাদের জানাতে হবে।’


More Stories
রূপের মধ্যে অরূপের ছোঁয়া : গাজলডোবা এক ব্রাত্য মুগ্ধতা
ডিমথেরাপি অশোকনগরের গ্রেফতার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারকে
কার্যত ভুল স্বীকার করে নিলেন অভিষেক, সুর নরম কল্যাণের, অভিষেক – কল্যাণ বিবাদ মিটল!