Home » কোবা ভার্দের ভোজিনহা, প্রবীণ গোলরক্ষকের ইতিহাস

কোবা ভার্দের ভোজিনহা, প্রবীণ গোলরক্ষকের ইতিহাস

Oplus_131072

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১৬ জুন : ছোট্টো দেশ কেপ ভার্দে । সেদেশের ২০২১ সালের আদমসুমারিতে দেখা যাবে, পাঁচ লক্ষ বাসিন্দাও নেই। জনসংখ্যার ভিত্তিতে পৃথিবীতে ১৭২ তম  দেশ । আয়তনের ক্ষুদ্রতাও রয়েছে। আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর ১৬৬ তম দেশ। নিজের দেশকে কোবা ভারদে নামেও ডাকেন দেশবাসী কারণ পর্তুগীজ ভাষায় দেশটার নাম যে তাই! আর পর্তুগীজ ভাষার ব্যবহার হবে না কেন! দেশটির সরকারি পরিভাষা পর্তুগিজ আর ১৯৭৫ পর্যন্ত পর্তুগাল শাসনে ছিল এই দেশ। আর সেই দেশেই থাকেন ভোজিনহা। তার সম্পূর্ণ নাম জোসিমন হোসে এভোরা ডিয়াজ তবে তিনি ভোজিনহা নামেই পরিচিত। দেশের ফুটবল দলের গোলরক্ষার দায়িত্বে আছেন ২০১২ সাল থেকে । কোবা ভার্দের ভোজিনহা সারা বিশ্বের নজর কেড়েছেন সোমবার রাতে। উল্লেখ্য, কোবা ভার্দের প্রধান জীবিকা মাছ শিকার ও পর্যটন। মাছ ধরার মত স্পেনকে নিজের জালে গাঁথলেন ভোজিনহা।

কোবা ভার্দের ভোজিনিহা-র বয়স চল্লিশ ছাড়িয়েছে। বিশ্ব ইতিপূর্বে বহু চল্লিশ বা চল্লিশ -উর্দ্ধ গোলরক্ষক আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেখেছে। বিশ্বকাপেও দেখা গিয়েছে তাঁদের। এবারের বিশ্বকাপে জার্মানির গোলরক্ষক ম্যানুয়াল নয়ারের বয়স ৪০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মেক্সিকোর ওচোয়া বা  উরুগুয়ের মুসলেরা সবাই প্রবীণ ও চল্লিশ উর্দ্ধ। তবে সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছেন স্কটল্যান্ডের ক্রেগ গর্ডন, বয়স ৪৩।  ১৯৮২ সালের ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক গোলরক্ষক  দিনো জফকে বর্তমান প্রজন্ম না দেখে থাকতে পারে, বুফোকে তো দেখেছে। ১৯৮২ সালে ডিনোজকের বয়স ছিল ৪০ বছর, ২০১৮ সালে ইতালি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারায় ৩৯ বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান বুফো। তাছাড়াও বর্তমান শতকের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ইংল্যান্ডের শিলটনের উদাহরণ হাতের কাছেই রয়েছে। তবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল রক্ষার রেকর্ডটি মিশরের এসাম এল -হাদারি-র (৪৫ বছর ১৬১ দিন )। তবে ভোজিনহা এমন কি আলাদা? কেন নজর কাড়লেন তিনি?

ভোজিনহা-র কৃতিত্ব তিনি কখনোই ক্লাস করে বিশ্বের প্রথমসারির লিগে খেলেন নি। তাঁর ক্লাব স্তরে মূল কৃতিত্ব সাইপ্রাসে। এখন তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনের দল চাভেসে খেলেন। দেশের হয়ে ৮৯ টি ম্যাচ খেললেও কেপ ভারদে এই তো প্রথম বিশ্ব কাপের আঙিনায়! ফিফা ৱ্যাঙ্কিং ৬৭। আফ্রিকা নেশন্স কাপে একাধিকবার খেললেও বিশ্বকাপের মতো প্রথম শ্রেণীর টুর্নামেন্টের তাঁর খেলা হয়নি।  বিশ্বকাপে প্রথম খেলা ছিল ফিফা ৱ্যাঙ্কিং -এ দ্বিতীয় দেশ (২) স্পেনের সঙ্গে। দুদিন আগেও দেড় লাখের ছোট দেশ কুরাসাও জার্মানির কাছে সাত গোল হজম করেছে। তবে কোবা ভার্দের ভোজিনহা ছিলেন একা কুম্ভ। খেলার দ্বিতীয় অর্ধে তাঁর দল মরিয়া লড়াই করেছে কিন্তু খেলার প্রথম অর্ধে গোল পোস্টের নিচে তিনি দুর্ভেদ্য হয়ে না উঠলে কয়েক গোল হয়ে যায় । উরুগুয়ের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের গোলরক্ষক আল ওয়াইস ৯ টি সেভ করেছেন যা এবারে বিশ্বকাপে সর্বাধিক। তবে ফারাক এটাই যে, ভোজিনহা-র মত ক্লিনসিট নিয়ে তিনি ম্যাচ শেষ করতে পারেন নি। ভোজিনহা ৭ টি সেভ করেছেন যার তার প্রত্যেকটি গোল হওয়ার মতো বিষাক্ত ছিল।

প্রায় একার হাতে স্পেনকে রুখেও ম্যাচ শেষে বাচ্চা ছেলের মত কাঁদছিলেন ৪০ বছরের ভোজিনহা। ভোজিনহা শব্দের পর্তুগিজ অর্থ ঠাম্মি বা দিদান। বাবা সামরিক বিভাগে কাজ করতেন। দাদু -দিদা (ঠাকুমা -ঠাকুরদার ) কাছে মানুষ হয়েছেন জোসিমন হোসে এভোরা ডিয়াজ। বলছিলেন, তাঁরা কয়েক বছর আগেই চিরদিনের জন্য চলে গিয়েছেন। খুশির দিনে তাঁদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করতে পারছেন না ভোজিনহা। দাদু দিদাকে বড্ড (grand parents ) মিস করছেন  কোবা ভার্দের ভোজিনহা ! এতো গেল যাঁরা নেই তাঁদের কথা। ভোজিনহা বললেন যে, তাঁর মায়ের বিশ্বকাপে আসার ইচ্ছে ছিল,  টাকার অভাবে আনতে পারেন নি মাকে! সংগ্রামী ভোজিনহা যুদ্ধে জিতেও যেন জেতেননি!

Oplus_131072

#কোবাভার্দে  #ভোজিনহা

About Post Author