Home » রূপের মধ্যে অরূপের ছোঁয়া : গাজলডোবা এক ব্রাত্য মুগ্ধতা

রূপের মধ্যে অরূপের ছোঁয়া : গাজলডোবা এক ব্রাত্য মুগ্ধতা

সানি রায়, জলপাইগুড়ি : আপনি কি ঘুরতে ভালোবাসেন? তাহলে নিশ্চিতভাবেই গাজলডোবার নাম শুনেছেন। না শুনলেও ক্ষতি নেই, এমনকিছু কাঠখড় পোহাতে হবে না এই আশ্চর্য মায়াভরা সফরে।খুব কম খরচে বাড়ি থেকে দু-পা বাড়ালেই যে সমস্ত অসামান্য পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে তারমধ্যে অবশ্যই সামনের সারিতে থাকবে গজলডোবা। সম্প্রতি এই পর্যটন কেন্দ্র ঘিরে কিছুটা হলেও মন্দা।  প্রচারের আলো থেকে দূরে ভ্রমণের এক আশ্চর্য মনোরম পরিবেশ গাজলডোবা। গাজলডোবা এক ব্রাত্য মুগ্ধতা ।

কিভাবে যাবেন আর কী আছে গাজলডোবায়?

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় এই পর্যটনকেন্দ্র। জলপাইগুড়ি শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। বেড়ুবেড়ু করতে হলে জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি থেকে অনায়াসে চলে যেতে পারবেন। রাজগঞ্জ ব্লকের একটি ছোট গ্রাম হলো গাজলডোবা, যা তিস্তা ব্যারেজ এবং একটি মনোরম জলাধারের জন্য বিখ্যাত। এটি পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় বার্ড-ওয়াচিং সেন্টার এবং শান্ত অবকাশ যাপনের স্থান, যেখানে তিস্তার বুকে নৌবিহার ও শীতকালে পরিযায়ী পাখির মেলা বসে। ১৯৮৭ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত এই ব্যারেজটি তিস্তা নদীর বুকে একটি বিশাল জলাধার তৈরি করেছে, যা সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য এবং নদীর বিশালতা যেন রূপের মধ্যে অরূপের ছোঁয়া।

গাজলডোবা মনোরম শোভা নিয়ে পর্যটকদের ডাকলেও  বিভিন্ন কারণে এখানের পর্যটন শিল্প কিছুটা  মুখ থুবড়ে পড়তে বসেছে। কারণ কিছুটা প্রচারের অভাব এবং কিছুটা রাজনৈতিক কারণে বঞ্চনার অভিযোগ।

কেন এই বঞ্চনা?

অভিযোগ সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভোটের রাজনীতির প্রতিহিংসা যেন এই পর্যটন কেন্দ্র কে ব্রাত্য করেছে। অভিযোগ, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল কে ভোট না দেওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নৌকো বিহার, বঞ্চিত পর্যটক, অভাবে কয়েকশো মাঝি পরিবার। তবে অবস্থা বদলাচ্ছে। তিস্তার বুকে পদ্ম ফুটতেই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে ভোরের আলো।

কেন ব্রাত্য করে রাখা হয়েছিল গাজলডোবাকে?অভিযোগ,তৃণমূলের আমলে ফল খারাপ হওয়ায় ব্রাত্য করে রাখা গজল ডোবায় বন্ধ হয় নৌকা বিহার, অর্ধাহারে কয়েকশো মাঝি পরিবার। অথচ জলপাইগুড়ি জেলার গাজলডোবায় ভোরের আলো প্রকল্পটি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি স্বপ্নের প্রকল্পের আড়ালে একদিকে জমি মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্যে ছিলো সেটি আর আজকের তারিখে বলার অপেক্ষা রাখে না। সুন্দরভাবে সাজানো গোছানো এই পর্যটন কেন্দ্র তৈরি হওয়ার সময় থেকেই পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ছিল তিস্তায় নৌকো বিহার। সিডনি ব্রিজের অনুকরণে একটি ব্রিজ বানানো হয়েছে গাজোল ডোবায়। নদীর পাড়ের খাবার-দাবার থেজে শুরু করে প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য, পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা। পরিবেশের বুক চিরে বয়ে যাওয়া তিস্তায় নৌকা বিহার, সব মিলিয়ে পর্যটকদের মনকেমন আর মুগ্ধতা।

আচমকাই ছন্দপতন হল ২০২৪ সালে জুন মাস থেকে। কোনও অজ্ঞাত কারণে স্থানীয় প্রশাসনের মৌখিক কথাতে বন্ধ হয়ে গেল নৌকা বিহার। যার জেরে অনাহারে দিন কাটছে কয়েকশো পরিবারের, যারা নৌকার মাঝির পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। একদিকে যেমন তাদের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে, পর্যটকদের মুখে বিষন্নতার ছবি উঠে আসছে। এ বিষয়ে নৌকার মাঝিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ করে লোকসভা ভোটের রেজাল্ট ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় প্রশাসন মানে তৃণমুল পঞ্চায়েতের এক মৌখিক বার্তায় বন্ধ করে দেওয়া হয় নৌকা বিহার। কি কারণ তা স্পষ্ট নয়, তবে কান পাতলে শোনা যায় , বিগত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে ভোট না দেওয়ার খেসারত । এরপর গোদের ওপর বিষ ফোড়া হয়ে ব্যাথা বাড়িয়েছে জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম, এক কথায় বলা যায় তৃনমূল সরকারের সময় জেলায় সরকারী জমি কেলেংকারির এপিসেন্টার হয়ে উঠেছিলো পর্যটকদের প্রিয় গজল ডোবা ।

এই মুহূর্তে গাজলডোবায় গেলে চোখে পড়ছে শুধুই পর্যটক এবং মাঝিভাইদের মন খারাপের দৃশ্য। কবে ফের চালু হবে এই নৌকা বিহার? কিংবা, কেনই বা আচমকা কোনও কারণ ব্যতীত বন্ধ হল নৌকাবিহার? অধরা বহু প্রশ্নের উত্তর। ৪ ঠা মের বিকেল থেকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে একদা পর্যটকদের নৌকোবিহার করিয়ে সংসার চালানো দিপু বর্মন থেকে ব্যারাজ দেখতে আসা দেশি বিদেশি টুরিস্টদের হাতে গরমের দুপুরে কচি ডাব কেটে তুলে ধরা  দিবাকর রায়। উত্তরবঙ্গের পর্যটন সম্পর্কে যারা ওয়াকিবহাল তাঁরা বলছেন, পর্যটনের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও উত্তরবঙ্গে। নতুন করে স্বপ্ন দেখার শুরু তাই। গজলডোবা এমনই এক মনোরম পর্যটন কেন্দ্র যাকে ব্রাত্য করে রাখার কোনো অভিসন্ধি দূরে সরিয়ে রাখলে লাভ বাংলার পর্যটন শিল্পের। এখানে যে মন ভালো করা সব রসদ রয়েছে, পর্যটকদের হতাশ হওয়ার কোনও আশঙ্কাই নেই। গাজলডোবায় আছে শুধু মায়াময় এক দেশের চাবিকাঠি।।

গাজলডোবা এক ব্রাত্য মুগ্ধতা #গাজলডোবা #ভ্রমণ

আরও পড়ুন ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্পে নতুন পালক! খুলে গেল পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান

 

About Post Author