সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর, কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল ভারত। আকাশ পথে হামলা চালিয়ে সীমান্তবর্তী একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল ভারতের সেনাবাহিনী। পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল পাকিস্তান। ড্রোন, বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র সব ধরনের হামলায় চালিয়েছিল ভারতের একাধিক শহরকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান। ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস ৪০০ এবং দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত পাকিস্তানের সেই আক্রমণকে আকাশে শেষ করে করে দিয়েছিল। দুই একটা ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের মাটি স্পর্শ করলেও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন আকাশেই ধ্বংস হয়েছিল। পাল্টা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল ভারতের একাধিক যুদ্ধবিমান পাকিস্তান ধ্বংস করেছে।
সম্প্রতি ভারতের সেনার সর্বাধিনায়ক চিপ অব ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান প্রকারান্তে স্বীকার করেছেন ভারতের বিমান ধ্বংসের কথা। তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কিন্তু এবার ভারত সরাসরি আকাশ ছেড়ে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে আক্রমণ শানাতে প্রস্তুত। ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও পাকিস্তানের জন্য ১০০ কোটি ডলার মঞ্জুর করেছিল আইএমএফ। আগামী জুন মাসে বিশ্ব ব্যাংকের থেকে কুড়ি বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার কথা পাকিস্তানের। আর সেই প্রাপ্তির পথে অন্তরায় হতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এই দিনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আর্জি জানাতে তৈরি হচ্ছে ভারত।
পাশাপাশি এফটিএফের ধূসর তালিকায় পাকিস্তানের নাম ঢুকানোর জন্য আর্জি জানানো হবে ভারতের তরফ থেকে। এফটিএফ অর্থাৎ ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের ধূসর তালিকায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু ২০২২ সালে সেই তালিকা থেকে বের হয়ে আসে পাকিস্তান আবার সেই তালিকায় পাকিস্তানের নাম ঢোকানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ভারত। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে বিশ্ব ব্যাংক থেকে পাওয়া ঋণের টাকা দিয়েই পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেয়।
শুধু অর্থনৈতিক পরিকাঠামোতে আঘাত করা নয়, সিন্ধু জলচুক্তি রদের ফলে পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়বে এটা বলার অপেক্ষা থাকে না। সিন্ধু জলচুক্তি রদ করা নিয়ে পাকিস্তান ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের দারস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার উত্তর দিল ভারত।
তাজিকিস্তানে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া হিমবাহ সংরক্ষণ বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলছে। আর সেই সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ভারতকে আক্রমণ করে জানিয়েছেন ভারত সিন্ধু চুক্তি স্থগিত এর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পাকিস্তান সেটা মেনে নেবে না।
শাহবাজ শরীফের পাল্টা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ। এই সম্মেলন থেকেই কীর্তিবর্ধন সিংহ পাকিস্তানকে আক্রমণ সানিয়ে জানিয়েছে সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি কার্যকর করতে বাধা দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সিন্ধু জলচুক্তি কার্যকর করতে বাধা দিচ্ছে। ১৯৬০ সালে বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু তারপর পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে তাই চুক্তি-র শর্ত গুলি আবার পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। অর্থাৎ ভারত আর সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেবে না এটা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মনোভাবেই পরিষ্কার।
ইতিমধ্যেই ভারতের একাধিক রাজ্যে অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত গুপ্তচরদের গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। ভারতের মাটিতে পাকিস্তানের গোপন সন্ত্রাসীদের আনাগোনাও বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে একাধিক পদক্ষেপ। ফলে এটা পরিষ্কার পাকিস্তানকে বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচা গ্রুপ মেদিনী, এই মনোভাব নিয়েই চলছে ভারত। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অর্থের আগমনের রাস্তা বন্ধ করার জন্য সমস্ত দিক দিয়ে প্রয়াস নেবে ভারত।। অর্থের সমাগমবন্ধ হলে সন্ত্রাসবাদ বন্ধু হবে না। পাকিস্তান সম্পর্কে বিশ্বের মনোভাব এবং স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করার উদ্দেশ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে ভারত। যারা পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসবাদকে পাকিস্তানের মদত এবং ভারতের অবস্থান এই সম্পর্কে বিশ্বতে পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরবে। অর্থাৎ সমস্ত দিক দিয়েই পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার প্রচেষ্টা শুরু করেছে ভারত।


More Stories
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
অনশনের ১৭ দিনে অসুস্থ সোনম ওয়াংচুকের জন্য উদ্বিগ্ন লেখক -অভিনেতা -বুদ্ধিজীবীরা
ভারতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাস্তা, কূটনৈতিক টেক্কা নাকি দ্বিচারিতা?