Home » বাইকের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে হাওড়া গ্রামীন এলাকায় ‘স্পিড ব্রেকার’ বসানোর ভাবনা

বাইকের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে হাওড়া গ্রামীন এলাকায় ‘স্পিড ব্রেকার’ বসানোর ভাবনা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- কলকাতা শহরে ট্র্যাফিক আইন অমান্য করলে তাঁকে মোটা টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু গ্রামে সে সবের কোনও বালাই নেই। ট্র্যাফিক আইন মানা তো দূরের কথা, গ্রামের সিংহভাগ মানুষ রাস্তার নিয়মকানুন সম্পর্কে বিন্দুবিসর্গও জানেন না। তার জন্য রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তাতে অনেকের প্রাণহানিও ঘটছে।

দুর্ঘটনা রুখতে এ বার গ্রামীণ সড়কেও বসবে ‘স্পিড ব্রেকার’।

যার সূচনাটা হচ্ছে হাওড়া জেলা দিয়ে। তার জন্য সম্প্রতি টেন্ডার ডেকেছে রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অধীনস্ত সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট রুরাল ডেভলপমেন্ট এজেন্সি। পঞ্চায়েত দপ্তরের এক আধিকারিকের ব্যাখ্যা, অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে চালু হওয়া পিএমজিএসওয়াই (প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা প্রকল্প) প্রকল্পের সুবাদে এখন রাজ্যের অনেক প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় পিচ রাস্তা হয়েছে।

পূর্ত দপ্তর, জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত থেকেও গ্রামে অনেক নতুন রাস্তা তৈরি হয়েছে।

সেই সঙ্গে বেড়েছে বাইকের দৌরাত্ম্য। সাইকল, টোটো, রিকশা, অটো, ট্রেকার এবং লরিও চলাচলও বেড়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তার উপরেই হাটবাজার বসে। কোথাও আবার রাস্তার পাশেই রয়েছে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিংহোম। সেই সব জনবহুল এলাকায় দ্রুত গতিতে বাইক চালাতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনছেন অনেকে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গ্রামীণ এলাকায় সারা বছরে যত মানুষ দুর্ঘটনায় মারা যান এবং জখম হন, তাঁদের প্রায় ৬০–৭০ শতাংশই হলেন বাইক চালক কিংবা বাইক আরোহী।

তার একটা বড় কারণ হলো, গ্রামের বাইক চালকরা সাধারণত হেলমেট পরেন না। সেজন্য একবার দুর্ঘটনার কবলে পড়লেই মাথায় আঘাত লেগে মৃত্যু হচ্ছে অনেকের। সেই সব বেপরোয়া বাইক চালকদের আটকানোর জন্যই গ্রামীণ সড়কে স্পিড ব্রেকার বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পঞ্চায়েত দপ্তরের খবর, বাইক চালকদের রুখতে রাজ্যের সমস্ত গ্রামীণ রাস্তায় ‘স্পিড হাম্প’ তৈরি করা হবে। এটা আড়াআড়ি ভাবে রাস্তায় বসানো থাকে। এর গড় উচ্চতা হয়ে থাকে ৮–১০ সেমি।

বাইকের মতো ছোট যানবাহনের গতি কমানোর জন্য এটা খুবই কার্যকরী মাধ্যম। এছাড়াও ব্যস্ত এলাকায় গাড়ির গতি কমানোর জন্য রাস্তায় কৃত্রিম বাঁক তৈরি করা হবে। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় যাকে বলা হয় চিকেনস। যেখানে স্কুল–কলেজ, হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে জেব্রা ক্রসিং থাকবে। কোথায় কোন গতিতে গাড়ি চালানো যাবে, তার জন্য নির্দিষ্ট ‘স্পিড জোন’ তৈরি করে দেওয়া হবে। কোথায় স্কুল রয়েছে, কোথায় ব্রিজ রয়েছে, কোথায় হাটবাজার বসে, সে বিষয়ে চালকদের অবহিত করতে ট্র্যাফিক সাইনেজ বসবে।

গ্রামীণ সড়কে ঘণ্টায় কত কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানো যাবে, সেটা ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে সব জায়গায় স্কুল, কলেজ, বাজার, শপিং মল, হাসপাতাল কিংবা বড় কোনও আবাসন রয়েছে, সেখানে গাড়ির গতি ঘণ্টায় ২৫–৩০ কিলোমিটারের বেশি হওয়া চলবে না। যেখানে প্রচুর সংখ্যায় টোটো, অটো, মিনি ট্রাক, রিকশা চলাচল করে, সেখানে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার।

তবে যে সব রাস্তায় কোনও ক্রসিং নেই এবং টোটো, অটো, মিনি ট্রাক, রিকশা খুব একটা চলাচল করে না, সেখানে বাস, ছোট গাড়ি এবং ট্রাকের গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আর বাইকের সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। যদি ২–৩ লেনের রাস্তা হয় এবং বাইক, অটো, মিনি ট্রাক ও টোটোর সংখ্যা ১০ শতাংশের নীচে হয়, সে ক্ষেত্রে বাস ও ট্রাকের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৬০–৭০ কিলোমিটার। যদি রাস্তার দু’দিকে তিনটি করে লেন থাকে এবং অটো, রিকশা কিংবা টোটোর জন্য পৃথক লেন করা থাকে, তা হলে বাস ও ট্রাক প্রতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারবে।

About Post Author