Home » কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় তৃণমূলের: মা-মাটি-মানুষকে কৃতজ্ঞতা মমতার

কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় তৃণমূলের: মা-মাটি-মানুষকে কৃতজ্ঞতা মমতার

সময় কলকাতা ডেস্ক:- কালীগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গত ১৯ জুন উপনির্বাচন হয়। সোমবার উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ। গণনার শুরু থেকেই ব্যবধান বাড়াতে বাড়াতে এগিয়ে চলেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ। ১৮ রাউন্ডের পরই দেখা যায়, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রয়াত বিধায়কের ব্যবধান ছাপিয়ে যান তিনি। আর এই ফলাফল জেনেই জয়ের উৎসব শুরু করে দেন এলাকার তৃণমূল কর্মী, সমর্থকরা। সবুজ আবির উড়িয়ে অকাল দোল শুরু হয়। কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষ। এদিকে হারের পর বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী কাবিলউদ্দিন আহমেদ জানান, বিজেপি এবং তৃণমূল মেরুকরণের রাজনীতি করেছে এবং তিনি ধর্মনির্বিশেষে ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের ভোট পেয়েছেন।

কালীগঞ্জের এই ফলাফল ২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্যত অ্যাসিড টেস্ট ছিল শাসক, বিরোধী সব শিবিরের কাছেই। সেই লড়াইয়ে তরুণ মুখ আলিফাকে এগিয়ে দিয়েছিল শাসক শিবির। প্রয়াত বিধায়ক বাবার যোগ্য মেয়ে হিসেবে সেই ভরসা রেখেছেন। আর তা স্পষ্ট হতেই এই সোশ্যাল মাধ্যমে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, এই জয়ের প্রধান কারিগর মা-মাটি-মানুষ। অন্যদিকে, উপ নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বোঝাতে চেয়েছেন, এই নির্বাচন বিজেপির ধর্তব্যের মধ্যে ছিল না।

কালীগঞ্জ উপ নির্বাচনের ফলাফলকে বিরোধীরা প্রকাশ্যে বিশেষ পাত্তা দিতে না চাইলেও অনেকের মতে, এই উপনির্বাচন শুধুই একটি কেন্দ্রের ভোট নয়, অনেক বড় অর্থ রয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই উপনির্বাচন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী বিজেপির কাছে কার্যত অ্যাসিড টেস্ট ছিল।

তাছাড়া কালীগঞ্জের উপ নির্বাচনকে ঘিরে এবারে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছিল কমিশন। বুথের ভিতরে তো বটেই, এবার বাইরেও ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। প্রত্যেকটি কুইক রেসপন্স টিমের গাড়ির মাথায় ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের গাড়িতেও লাগানো হয় ক্যামেরা, যাতে সারাদিন লাইভ স্ট্রিমিং চলে।

কোনও হিংসা বা অনিয়ম হলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে নজরে আসে, তার জন্যই এই উদ্যোগ নেয় কমিশন। নির্বাচনের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয় ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রায় দু’হাজার রাজ্য পুলিশ। কাজ করেছে ২০টি কুইক রেসপন্স টিম ও ৮টি র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ইউনিট। ভোটারদের সুবিধার্থে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বুথের বাইরে লাঠিধারী পুলিশ মোতায়েন ছিল। সাহায্য করছে এনসিসি এবং এনএসএস-এর ছাত্রছাত্রীরাও।

সব মিলিয়ে উপ নির্বাচন ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তায় ব্যবস্থা করেছিল কমিশন। স্বাভাবিকভাবেই, ২৬ এর ভোটের আগে উপ নির্বাচনে এই বিপুল ব্যবধানে জয় কর্মীদের বাড়তি উৎসাহ দেবে বলেই দাবি শাসক শিবিরের।

About Post Author