Home » রাজ্য বিজেপির ব্যাটন এইবার কার হাতে? লাখ টাকার প্রশ্নের উত্তরে হচ্ছে নির্বাচন

রাজ্য বিজেপির ব্যাটন এইবার কার হাতে? লাখ টাকার প্রশ্নের উত্তরে হচ্ছে নির্বাচন

সময় কলকাতা ডেস্ক:- প্রথম রাজ্য বিজেপির সভাপতি হরিপদ ভারতীর পর আসেন বিষ্ণু-কান্ত শাস্ত্রী, পরবর্তীতে সুকুমার ব্যানার্জি, তপন সিকদার, অসীম ঘোষ, তথাগত রায়, সত্যব্রত মুখার্জি। তবে, মূলত রাজ্য বিজেপিকে কিছুটা হলেও তুলে ধরেছিলেন তপন সিকদার। আর তপন সিকদার জামানার পর কার্যত বিজেপিতে শুরু হয়েছিল রাহুল সিনহার জামানা। রাহুল সিনহার পর রাজ্য বিজেপির ব্যাটন হাতে এসেছিল দিলীপ ঘোষের। বিজেপির অন্দরমহল সহ রাজ্যবাসী এখনও এটা মনে করে বঙ্গ বিজেপিতে পালে হাওয়া এনে দিয়েছিল দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষের সময়েই পদ্ম প্রস্ফুটিত হয়ে কার্যত রাজ্যে বড় পদ্মে রূপান্তরিত হয়েছে। ২০১১ সালে বাম জামানার অবসান ঘটিয়ে লাল সরিয়ে সবুজ গালিচায় মুড়ে গিয়েছিল রাজ্য। আর সেই সবুজ গালিচার বুকে ধীরে ধীরে জন্ম নিয়েছে পদ্মফুল। দিলীপ ঘোষের জামানাতেই ঘাসফুল আর পদ্মফুলের লড়াই কিছুটা হলেও সমপর্যায়ে চলে এসেছিল। তারপর শুরু হয় সুকান্ত মজুমদারের জামানা। কিছুটা তাত্ত্বিক এবং কিছুটা লড়াকু নেতা সুকান্ত মজুমদার বিজেপিকে রাজ্যে তুলে ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু ২১ সালে বিধানসভার পর দেখা গিয়েছে বহু বিজেপি বিধায়ক পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুলের পথে পাড়ি জমিয়েছেন। ২০২১ এর বিধানসভা ভোটের পর রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় আক্রান্ত হয়েছে বিজেপি কর্মী থেকে শুরু করে নেতৃত্ব।

সেই সমস্ত নিপীড়িত বিজেপি কর্মীদের পাশে সেই সময় দেখা গিয়েছিল দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, শমিক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারীকে। আইনি লড়াইয়ের ময়দানে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বে গোষ্ঠী কোন্দল এবং গ্রাস রুট লেভেলে কর্মীদের মধ্যেও জায়গায় জায়গায় অসন্তোষ এবং গোষ্ঠী কোন্দল বিজেপিকে অনেকটাই ব্যাক ফুটে নিয়ে গিয়েছিল। কর্মী অসন্তোষের কারণেই মাঝে মধ্যেই মুরলিধর সেন লেনের অফিসের সামনে কর্মী বিক্ষোভের চিত্র উঠে এসেছিল।

এমত অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবার রাজ্য বিজেপির ব্যাটন কার হাতে?

কসবা ল কলেজ কাণ্ডে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। গত শনিবার এ প্রতিবাদ কর্মসূচির থেকে গ্রেফতার হন বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সহ আরও বিজেপির নেতৃত্ববৃন্দ। আর সেই শনিবারেই বুথ সর শক্তি করন অভিযান নিয়ে একটি বিজেপির পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল। পুলিশের হাতে আটক হওয়া অবস্থাতেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে লালবাজার থেকেই দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন সুকান্ত মজুমদার। আর তারপরেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ স্থির করা হয়। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর সেপ্টেম্বর মাসেই সুকান্ত মজুমদার বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

ইতিমধ্যে দুটি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে এক ব্যক্তি এক পথ এটা বিজেপির নীতি। একদিকে যেমন এই নীতি তেমনি অন্যদিকে মেয়াদ শেষে নতুন রাজ্য বিজেপির সভাপতি নির্বাচন করা কার্যত ঠিক হয়েছিল। ফলে সুকান্ত মজুমদারের সভাপতি পদ থেকে সরে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রাজ্য বিজেপির সভাপতি কে হবেন?

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার সংঘটিত হবে রাজ্য বিজেপির সভাপতি বাছাইয়ের নির্বাচন। বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। বুধবারই স্ক্রুটিনি করা হবে। আর বুধবারেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বিজেপির পক্ষ থেকে। রাজ্য বিজেপির রিটার্নিং অফিসার দীপক বর্মনের প্রকাশিত এই নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তিতে ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ২৯৪ জনের নাম রয়েছে সেই তালিকায়। অর্থাৎ প্রতিটি বিধানসভা এলাকা থেকে একজন করে প্রতিনিধি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

ইতিমধ্যেই বিজেপির অন্দরমহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

কে হতে পারে রাজ্য বিজেপির পরবর্তী সভাপতি?

সম্ভাব্য হিসেবে উঠে আসছে একটি নাম শমিক ভট্টাচার্য। যদিও বেশ কিছুদিন আগে রাজ্য বিজেপিতে চর্চিত নাম দিলীপ ঘোষ পুনরায় সভাপতি হতে পারে সেই সম্ভাবনা নিয়েও শুরু হয়েছিল গুঞ্জন। সম্প্রতি একাধিক কারণে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছে পাশাপাশি সংঘ খুব একটা খুশি নয় দিলীপ ঘোষের প্রতি।

ফলে নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারির পর দিলীপ ঘোষের নাম আর আলোচনায় নেই। আসন্ন ২০২৬ এর নির্বাচন। ম্রিয়মাণ বিজেপিকে চাঙ্গা করতে দরকার সভাপতি পদে নতুন মুখ।

ইতিমধ্যেই সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বংশাল সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব, রাজ্য বিজেপির নেতাদের উৎসাহিত করতে দিয়েছেন ভোকাল টনিক। পাশাপাশি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে বঙ্গ জুড়ে বিভিন্ন বুথে বুথে সংগঠনকে মজবুত করতে গেলে এমন একজনকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি পদে আনা উচিত যার রাজ্যজুড়ে সংগঠনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর নাম নিয়ে কিছুটা আলোচনা হলেও যেহেতু সংঘের সঙ্গে সম্পর্ক নেই সেক্ষেত্রে সম্ভাবনা অনেকটা কম বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রবিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার বাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন শমিক ভট্টাচার্য।

তারপর থেকেই কার্যত জল্পনা আরও বেড়ে গিয়েছে। যদি ২ জুলাই শুধু একটি নামে মনোনয়নের জন্য জমা পড়ে সে ক্ষেত্রে ২ জুলাই পরিষ্কার হয়ে যাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি কে হচ্ছেন?

একাধিক মনোনয়নপত্র জমা পড়লে সে ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার নির্বাচন হবে। তবে বিজেপির অন্দরমহলের গুঞ্জন এককভাবেই শমিক ভট্টাচার্যের নাম মনোনয়নের জন্য জমা করতে পারে।

তবে বিজেপির বহু নেতার মত শমিক ভট্টাচার্য নিষ্কলঙ্ক নয়। বক্তা হিসেবে সুবক্তা হলেও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও দুর্বলতা রয়েছে। এবং সেই দুর্বলতায় রাজ্য বিজেপিকে কতটা তিনি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

ইতিমধ্যেই বিজেপির বিভিন্ন শিবির পরিকল্পনা শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি সভাপতি নির্বাচন নিয়ে।

ফলে একাধিক নাম মনোনয়নের জন্য জমা পরা সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন দেখার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কি নির্ধারণ করে?

পাশাপাশি কারা মনোনয়ন পেশ করে। তবে গুঞ্জন যদি সত্যি হয় সেক্ষেত্রে শমিক ভট্টাচার্যের পাল্লা অনেকটাই ভারী বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

 

 

About Post Author