Home » কসবাকাণ্ডে বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মদন; দলের শোকজের জবাব দিলেন তৃণমূল বিধায়ক

কসবাকাণ্ডে বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মদন; দলের শোকজের জবাব দিলেন তৃণমূল বিধায়ক

সময় কলকাতা ডেস্ক:- একদিকে কল্যাণ-মহুয়া চর্চা, অন্যদিকে চর্চা মদনকে নিয়েও। কসবার আইন কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে যখন তদন্ত ক্রমশ এগোচ্ছে, সেসময় বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেছিলেন শাসকদলের বিধায়ক মদন মিত্র। কসবা ল কলেজে ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। দলের কড়া অবস্থানের পর, শেষমেশ দলীয় শোকজের উত্তর পাঠালেন তিনি। জানা গিয়েছে, সোমবার রাতেই নিজের অবস্থান জানিয়ে দলকে লিখিত জবাব দিয়েছেন মদন।

সূত্রের খবর, মদনের চিঠিতে রয়েছে দু’টি স্পষ্ট অংশ। একদিকে তিনি নিজের মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। অন্যদিকে, কেন তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন, তার একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন চিঠিতে।

মদন মিত্র এও জানিয়েছেন, এবার থেকে দলের অনুশাসন মেনেই চলবেন। তবে দল তাঁর জবাবকে কীভাবে গ্রহণ করবে, সেটা ভবিষ্যৎ বলবে। ঘটনার সূত্রপাত কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায়। অভিযোগ, আইনের এক ছাত্রীকে ফাঁকা ক্যাম্পাসে গণধর্ষণ করা হয়। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই সংবাদমাধ্যমে মদনের মন্তব্য ছিল, ‘ওই ছাত্রী একা কেন কলেজে গিয়েছিলেন?

এই মন্তব্য সামনে আসতেই তৃণমূল নেতৃত্ব বিষয়টি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। শনিবার রাতেই দল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মদনের বক্তব্য তাঁর ‘ব্যক্তিগত’, এবং দল এমন মন্তব্য সমর্থন করে না। রবিবার সুব্রত বক্সির সই করা শোকজ চিঠি পৌঁছয় মদনের কাছে।

যেখানে বলা হয়, এই মন্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে, এবং এটি দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। কলেজে ছাত্রীর গণধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগ নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে জোরদার, অভিযুক্তরা ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এমনই সময়ে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক নির্যাতিতার চালচলন নিয়েই আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্য কার্যত আগুনে ঘি ঢালে। শাসকদলের জনপ্রিয় নেতার এই মন্তব্যের দায় পরোক্ষে এসে পড়ে দলেরই উপর।

মদন মিত্রর এই মন্তব্য দলের ভাবমূর্তিতে যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে, জানিয়ে রবিবার তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি তাঁকে শোকজ চিঠি পাঠান। তিনদিনের মধ্যে তাঁর জবাব চাওয়া হয়। তবে সময়সীমার অনেক আগে, সোমবার রাতেই মদন মিত্র শোকজের জবাব দিয়েছেন।

শোকজের জবাবে মদন ক্ষমা চাইলেও, তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিজেপি তোপ দেগেছে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

রাজ্যের ঘটে যাওয়া একাধিক ইস্যুতে এর আগেও বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন শাসকদলের হেভিওয়েটরা। কখনও দলের নবীন-প্রবীণ ইস্যু, কখনও ওয়াকফ ইস্যু, নানা ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্যে কাউকেই ছেড়ে দেওয়া হয়নি দলের তরফে। উপযুক্ত পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়েছে। আর এই মুহূর্তে রাজ্যের অন্যতম বড় ঘটনা কসবার আইন কলেজে গণধর্ষণ কাণ্ড। আর এই ইস্যুতেই সম্প্রতি মদন মিত্রের মন্তব্যে ওঠে বিতর্কের ঝড়। অনেকের মতে, এমন সংবেদনশীল ঘটনার প্রেক্ষিতে একজন প্রবীণ বিধায়কের মন্তব্য আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল।

About Post Author