Home » কাগুজে থানা! খাতায়-কলমে আছে। বাস্তবে নেই, এই ভাবে আর কতদিন?

কাগুজে থানা! খাতায়-কলমে আছে। বাস্তবে নেই, এই ভাবে আর কতদিন?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- খাতায়-কলমে আছে অর্থাৎ কাগুজে থানা! কিন্তু বাস্তবে নেই। ভাঙড় ডিভিশনের বিজয়গঞ্জ বাজার, হাতিশালা, বোদরা ও মাধবপুর থানা কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে তাদের অস্তিত্ব নেই।কলকাতা পুলিশের ভাঙড় ডিভিশন চালু হওয়ার দেড় বছর পরও আটটি থানার মধ্যে চারটি থানা আজও চালু হলো না। তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খাঁ খুনের পর বাকি চারটি থানা দ্রুত চালু করার দাবি তুলছেন ভাঙড়ের মানুষ।

কলকাতা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘সত্যিই এখানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও লোকবলের অভাবে আছে। কবে পুরোপুরি ভাঙড় ডিভিশনের সবক’টি থানা চালু হবে তা আমাদের জানা নেই।’

ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আরাবুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কলকাতা পুলিশ অনেক দক্ষ হলেও এত বড় এলাকা সামলাতে ওদের সমস্যা হচ্ছে। সবক’টা থানা চালু হলে তখন আর এই সমস্যা থাকবে না না আশা করি।’

বিজয়গঞ্জ বাজার থানার সব কাজকর্ম চলে উত্তর কাশীপুর থানা থেকে। একই লোকবল ও পরিকাঠামো দিয়ে দু’টি থানা চলছে দেড় বছর ধরে। বিজয়গঞ্জ বাজার থেকে উত্তর কাশীপুর থানার দূরত্ব প্রায় সাত থেকে আট কিলোমিটার।

একই অবস্থা হাতিশালা থানারও। এই থানার সব কাজকর্ম চলে পোলেরহাট থানা থেকে। হাতিশালার অন্তর্গত বাসন্তী রাজ্য সড়কের ভোজেরহাট থেকে পোলেরহাট থানার দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। ফলে রাজ্য সড়কে বড় দুর্ঘটনা বা অবরোধ শুরু হলে পুলিশ আসতেই অনেকটা সময় লেগে যায়।

ভাঙড়ে আইন শৃঙ্খলা ফেরাতে ভাঙড় ও কাশীপুর থানা ভেঙে দু’টি পঞ্চায়েত পিছু একটি থানার ভাবনায় মোট আটটি থানা নিয়ে চালু হয় ভাঙড় ডিভিশন। যদিও পরিকাঠামোর অভাবে ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি বাস্তবে চালু হয়েছিল ভাঙড়, চন্দনেশ্বর, উত্তর কাশীপুর ও পোলেরহাট থানা। বাকি চারটি থানার অস্তিত্ব রয়ে যায় খাতায়–কলমে।

যে বিজয়গঞ্জ বাজারে এত রক্ত ঝরল, পরিকাঠামোর অভাবে সেই বিজয়গঞ্জ থানা চালুই করতে পারেনি কলকাতা পুলিশ। কিছুদিন আগে বিজয়গঞ্জ বাজারে একটি সরকারি কমিউনিটি হলে নতুন থানা চালু করার জন্য কর্তারা পরিদর্শন করলেও তা বাস্তবের মুখ দেখেনি।

বৃহস্পতিবার রাতে এই কমিউনিটি হল থেকে একশো মিটার দূরে খুন হন রাজ্জাক। এলাকার তৃণমূল নেতা আব্দুল ওদুত মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আজ যদি ওখানে বিজয়গঞ্জ থানাটা চালু থাকত তা হলে রাজ্জাক ও ভাবে খুন হতো না।’

এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, এতবড় এলাকায় আইন শৃঙ্খলা সুষ্ঠু ভাবে পালন করতে হলে সবক’টি থানা বাস্তবে চালু হওয়া দরকার। একই কথা বলছেন ভাঙড়ে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরাও।

তাঁদের বক্তব্য, দু’টি করে গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে একটি করে থানা খাতায়–কলমে চালু হয়েছে। অথচ বাস্তবে চারটি পঞ্চায়েত পিছু একটি থানা চলছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। ভাঙড়ের ২১৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণের জন্য মাত্র ৪০০ পুলিশকর্মী ও ২৪৪টি সিসিটিভি যথেষ্ট নয়।

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে উত্তপ্ত হয়েছিল ভাঙড়। সে বছর মনোনয়ন থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত সাতজন দলীয় কর্মী সমর্থক খুন হয়েছিলেন। আইএসএফ ও তৃণমূল দু’দলের লোকই মারা গিয়েছিলেন।

তখন ভাঙড়ের দু’টি ব্লকের ১৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করত তিনটি থানা— ভাঙড়, কাশীপুর ও কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানা বা কেলসি থানা। কেএলসি কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকলেও ভাঙড় ও কাশীপুর ছিল রাজ্য পুলিশের অন্তর্ভুক্ত।

About Post Author