সময় কলকাতা ডেস্ক : আরবি মুজিবর নামের অর্থ জবাব দান কারী বা কবুলকারী। নাম সঠিক অর্থ খুঁজে পেয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার দেশনায়ক বঙ্গবন্ধুর মধ্যে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় যেন জবাব দিয়ে গেছেন তাঁর দেশের প্রতি অন্যায়ের। তাঁর জবাব দান শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ ভারতের বিরুদ্ধে পরাধীন ভারতের হয়ে সংগ্রামে। পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন তিনি। জীবনের একটা বিরাট অংশ কারাগারে কাটানো মুজিবর তিনি দেশকে স্বাধীন করে তোলার জন্য হয়ে উঠেছিলেন প্রধান চরিত্র। দেশকে তিনি প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন।১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মেছিলেন মুজিবর। তাঁর হঠাৎ থামিয়ে দেওয়া ৫৫ বছরের জীবনের একটা বিরাট অংশ কেটেছে কারাগারে। এরমধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রথম কারাবাস হয়েছিল হিন্দু মহাসভার সদস্যদের সাথে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে।

ইদানীং বঙ্গবন্ধুর একাধিক বই হু হু করে বিক্রি হচ্ছে।এই বইগুলির মধ্যে অন্যতম অসমাপ্ত আত্মজীবনী। অপর একটি বই কারাগারের রোজনামচা ।সদ্য হয়ে যাওয়া কলকাতা বইমেলায় এই দুটি বইয়ের বিক্রি ছিল তুঙ্গে।কারাগারের রোজনামচা মূলত ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ থেকে জেলবাসের কাহিনী। রাজবন্দীদের দুঃখ যন্ত্রনার কথা তুলে ধরেন বছর পাঁচেক আগে প্রকাশিত এই বইটিতে। তবে তিনি তো আর এক আধ বছর কারাভোগ করেন নি। বাস্তবে তাঁর কারাবাসের কাহিনী ও তার ব্যাপ্তি অত্যন্ত দীর্ঘ।

জীবনে ৪,৬৮২ দিন জেলে কাটানো বঙ্গবন্ধুর ৪৬৭৫ দিন কেটেছে পাকিস্তানের অধীনে থাকাকালীন বিভিন্ন জেলে। ১৯৫৫ সাল অব্দি তাঁর কারাগার জীবন প্রকাশ পেয়েছে তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পুস্তকে।১৮ বার জেলে যান তিনি আর তাঁর জীবনের তেরো বছরের বেশি সময় কেটেছে জেলে।তাঁর কারাগারের প্রথম সাত দিন কেটেছে ব্রিটিশ ভারতের জেলে।সেবার তাঁর বিরুদ্ধে মারামারি ও হামলার অভিযোগ এনেছিলেন হিন্দু মহাসভার নেতারা।
স্কুলে পড়ার সময় ঘটে তাঁর প্রথম কারবাস।সেবার সাতদিনের কারাজীবন কাটান সতেরো বছরের কিশোর মুজিবর। প্রথমবারের কারবাস মোটেই ব্রিটিশ ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গ ছিল না।১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে গোপালগঞ্জ হিন্দু মহাসভার সভাপতি সুরেন ব্যানার্জির বাড়িতে সহপাঠী বন্ধু আবদুল মালেককে মারধর করার বিষয় নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান পাল্টা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে হিন্দু মহাসভার নেতাদের করা মামলায় শেখ মুজিবকে প্রথমবারের মতো আটক করা হয়। তখনই সাতদিনের কারবাস হয় মুজিবরের। মীমাংসার মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার করা হলে সেবার মুক্তি পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
বেজি কি সাপের বিষে কাবু হয় না?