সময় কলকাতা ডেস্কঃ মানবজাতির সবচেয়ে বড় বিপদ জিও অর্থাৎ পৃথিবী এবং থার্মো , বিশ্ব উষ্ণায়ন. এই কারণে গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে কমানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে কমানোর জন্য প্রধান কাজটা করতে হবে কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমন এর পরিমাণ শূন্য করতে হবে। কিন্তু এই গ্যাসের পরিমাণ শূন্য করার অর্থ হলো, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করা. কিন্তু ভাববার বিষয় এই যে, এই গ্যাস এবং তেল পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে, মানব জাতির উপর কি প্রভাব পড়বে? কিন্তু উষ্ণায়ন ঠেকাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন শূন্য তো করতেই হবে, কিন্তু তার আগে সর্বপ্রথম আমাদের বিকল্প শক্তির উৎস খুঁজতে হবে, যা পরিবেশের ক্ষতি করবে না. বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধান এর জন্য এমআইটির একটি স্টার্ট আপ সংস্থা (start-up) ও এনার্জি সংস্থা কাজ করা শুরু করেছে। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ৬৩ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪০০৭৮ কোটি টাকার ফান্ডিং জোগাড় করেছে । এই সংস্থাটির লক্ষ্য ভূগর্ভে কুড়ি কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর ড্রিলিং করা। এর আগে কোনদিন এত গভীর গর্ত করা হয়নি। পৃথিবীতে এর আগে সর্বোচ্চ ১২ কিলোমিটার গভীরে ড্রিলিং করা হয়েছিল রাশিয়ায়। এবার তার থেকেও ৮ কিলোমিটার বেশি ড্রিলিং করা হবে ।ভূগর্ভে কুড়ি কিলোমিটার গভীরে ড্রিল করার পর গরম পাথর পাওয়া যাবে যার উষ্ণতা প্রায় ৫০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস, অর্থাৎ ভূতাপীয় শক্তি ব্যবহার করা হবে, এই শক্তি ব্যবহার করা এতটা সহজ হবে যে বর্তমানে ব্যবহার হওয়া সমস্ত কনভেনশনাল থার্মাল পাওয়ার প্লান্টে সহজেই এটা ব্যবহার করা সম্ভব হবে । আগামী দু’বছরের মধ্যেই এই প্রজেক্ট সম্পন্ন করা এবং একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে । কিন্তু ভূগর্ভে কুড়ি কিলোমিটার ড্রিল করা মোটেই সহজ কাজ নয়। তাহলে কিভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করা হবে?
জিও অর্থাৎ পৃথিবী এবং থার্মো অর্থ তাপ অর্থাৎ এখান থেকেই ভূতাপীয় শক্তি কথাটির উৎপত্তি হচ্ছে. বর্তমান দিনে কার্বন এর বিকল্প হিসেবে বললে প্রথমেই আমাদের মাথায় আসে সৌরবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ ও পারমাণবিক শক্তি। কিন্তু ভূতাপীয় শক্তির কথা. আমরা কেউ জানিনা। ভূগর্ভের অভ্যন্তরে যে বিশাল শক্তি সঞ্চিত আছে তা হয়তো অনেকেই জানেন না। ভূগর্ভের নীচে কোন কোন স্থানে প্রায় ৫ কিলোমিটার গভীর প্রচলিত পাথর আছে। এইসব পাথরের উষ্ণতা প্রায় দেড়শো ডিগ্রি সেলসিয়াস । এবার ভূপৃষ্ঠ থেকে জল সেই পাথরে প্রবেশ করে প্রচুর গরম হয়ে তার প্রেসারে ভূপৃষ্ঠে ফিরে এসে বাষ্পীভূত হয়, এটাই ভূতাপীয় শক্তি সৃষ্টি করে, এখানে কি করা হবে? যেসব জায়গায় ভূগর্ভে এমন গরম পাথর রয়েছে সেগুলোকে থার্মাল রিজার্ভার হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, এবং উপর থেকে সেখানে জল ঢালা হবে নিচের ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতায় জলের চাপের উপরে উঠে এসে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রায় হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে বাষ্পীভূত হয়ে যাবে। এবার সেই বাষ্পকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে শক্তি উৎপন্ন করা হবে। এবার অনেকের মাথায় এ প্রশ্ন জাগবে .জল ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভূগর্ভের না হয়ে কোন কারনে উপরে উঠে আসবে, তাহলে কি হবে ভূগর্ভস্থ ৩০% এসেছে পৃথিবী সৃষ্টির সময় থেকে এবং বাকি ১৭ % এসেছে পৃথিবীর কেন্দ্রে প্রতিনিয়ত প্রাপ্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে। এই তাপের পরিমাণ ৯০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। আর এই তাপেই আশেপাশের কঠিন পাথর শিলা গলে যাবে। ১৯১১ সালে ইতালির টুআমির একটি স্থানে বাণিজ্যিকভাবে জিও থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট তৈরি করা হয় বর্তমানে এই পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ১০ লক্ষ নাগরিক বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। সুতরাং এক কথায় বলা যায় আগামী দিনে মানব সভ্যতা এক নতুন শক্তির উৎস সন্ধানে নেমেছে এবং তা যদি সঠিকভাবে রূপায়ন হয় তাহলে পেট্রোলিয়াম গ্যাস এর পরিবর্তে এই নতুন শক্তি মানব সভ্যতায় কাজে লাগবে।
বিশ্ব উষ্ণায়ন থেকে বাঁচতে বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে ভারত


More Stories
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ!