সময় কলকাতা ডেস্ক : কথায় বলে বাঙালির “বারো মাসে তেরো পার্বণ” । তেরো পার্বণ মানেই বাঙালির বর্ষবরণের কথা মাথায় আসে প্রথমেই। আর বর্ষবরণ মানেই “যোলো আনা বাঙালিয়ানা “। কোথাও গিয়ে মনে হয় না কি একটু ফিকে হয়েছে বাঙালির সেই রেওয়াজ! তাই যোলো আনা বাঙালিয়ানার সেই ঘরানাকে ফিরিয়ে আনতে বজবজের বুকে অভিনব প্রয়াস ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বুচান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ।
বর্ষবরণ উপলক্ষে পঞ্চায়েত সমিতির প্রাঙ্গনে দু দিন ব্যাপী এলাকার বৃদ্ধ দম্পতিদের নিয়ে বিশেষ ভোজের ব্যবস্থা করেন তিনি। যার নামও দেওয়া হয়েছে ” ষোলো আনা বাঙালিয়ানা”। দুদিনের এই অনুষ্ঠানটি চলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। অনুষ্ঠানের প্রথম দিন উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী দেবশ্রী ভট্টাচার্য, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বজবজ ২ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি সহ বজবজের প্রতিটি অঞ্চলের প্রধান উপপ্রধানেরা। অনুষ্ঠানে আসতে পেরে খুশি এলাকার বৃদ্ধ দম্পতিরা। ভোজন রসিক বাঙালি ভুলে যেতে বসেছে ষোলোআনা বাঙালিয়ানার সেই রীতি। সেই ঘরানা কে ,ফিরিয়ে আনতে এমন উদ্যোগ বলে জানান ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বুচান বন্দোপাধ্যায় ।

বুধবার প্রায় ১০ জন বৃদ্ধ দম্পতি এই মধ্যাহ্নভোজের অংশগ্রহণ করেন । যাদের হাতে বাঙালি আনার রীতি হিসেবে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। তালিকায় ছিল ধূতি পাঞ্জাবি আর সঙ্গে বাংলার মিষ্টির হাঁড়িও। অনুষ্ঠানে মেনু ছিল ভাত ,ডাল, শুক্তো, আলু ভাজা, পটল ভাজা ,বেগুন ভাজা, মাছ, চাটনি ,মিষ্টি ও দই। বুধবারে অনুষ্ঠানে আগত এক বৃদ্ধ দম্পতি বলেন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে খুশি তারা। বর্ষবরণ যে এই ভাবে পালন হতে পারে তা এই প্রথমবার দেখলেন বলে জানান তারা।
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে বুচান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন বাঙালি ষোলোয়ানা বাঙালিয়ানা ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া। তিনি আরো বলেন ডিজিটালের যুগে বাঙালি হারিয়ে ফেলছে তার চিরাচরিত ঐতিহ্যকে। তা ফিরিয়ে আনতে মাটির থালায় একবারে বাঙালি খাবার কে বাংলার চিরাচরিত ঢঙে পরিবেশন করা হচ্ছে। বৃদ্ধ দম্পতিদের নিয়ে অনুষ্ঠান করতে পেরে তিনিও যারপরনাই খুশি।


More Stories
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
হর্ষ-বিষাদে পালিত ঈদ-উল-আযহা
অর্জুন সিংকে ‘চমকানো’ বনিকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালো পুলিশ