সময় কলকাতা ডেস্ক: রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দিলীপ। বিধান নগরে প্রাতভ্রমণে বেরিয়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দল পরিচালনা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।দিলীপ ঘোষ বলেন, দলের সংবিধান মেনে নেতৃত্বের পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক।কিন্তু রাজ্যে যে ধরনের অত্যাচার শাসক দল চালিয়ে ছিল, তার বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়িয়ে ছিলাম।তাই রাজ্যের মানুষ আমাদের বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল। আমি নিজে রাস্তায় বেরিয়েছিলাম। মানুষ আমাদের পিছনে দাঁড়িয়েছিল। মানুষ আশীর্বাদ করেছিল ,তাই দলের আসন বেড়েছিল।আর এখন মানুষের সেই আত্মবিশ্বাস নেই দলের প্রতি। রাজ্যের মানুষ চান, আমরা মাঠে নেমে আন্দলন করি। আমরা প্রতিবাদ না করতে পারলে মানুষ আমাদের বিরোধী হিসেবে রাখবে কেন? প্রশ্ন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষের।

দলের দূর্বলতা নিয়ে বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ এই দিন বলেন,“ অনেক কিছুর অভাব আছে। পরিকল্পনার অভাব আছে। মনোবলের অভাব আছে। কর্মীরা চেয়ে আছেন”।দিলীপ ঘোষের দাবি তাঁদের কর্মীরা কেউ পার্টি ছাড়েন নি।শুধু মাত্র কিছু সুবিধাবাদী অন্যদল থেকে এসে ছিলে তারা চলে গিয়েছে। বিজেপি নেতা ও সাংসদ দিলীপ ঘোষের দাবি ২০১৯ সাল পর্যন্ত যারা পার্টিকে দাঁড় করিয়েছেন, তাঁরা মনে কষ্ট নিয়ে ঘরে বসে আছেন। বর্তমানে তাদের হাতে কোনো কাজ নেই।আর এটার জন্য বর্তমান সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে দায়ী করা যাবে না। দলের এই অবস্থার জন্য অনেকেই দায়ী আছেন।বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রশ্ন দলে যোগ্য লোককে বাদ দিলে কি ভাবে হবে?

একদিকে দলের রাজ্য নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ এদিন চাঁচাছোলা ভাষায় উত্তর দেন বিজেপির আর এক প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়ের ট্যুইটের।দিলীপ ঘোষ এই ক্ষেত্রেও স্টেট ব্যাটে তথাগত রায়কে আক্রমণ করেন।তবে দলের প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়ের নাম না নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন “যারা লোকের পায়ে ধরে চাকরি পেয়েছেন, যারা বিজেপি পার্টি অফিসকে পানশালা বানিয়ে দিয়েছিলেন, জীবনে ফুর্তি ছাড়া কিছু করেননি, যারা সিপিএম ও তৃণমূল থেকে সব সুবিধা নিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল বিজেপি যাতে কোনো দিন ৪ শতাংশের বেশি ভোট না পায়, সেই সব আহাম্মকদের কথা কে শোনে?

নাট্যবক্তিত্ব ও রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর আক্রমণ থেকে রাজ্য বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বাঁচাতে সোচ্চার হন তিনি।বিজেপির সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন
শুভেন্দু না থাকলে মমতাকে ভবানিপুর আসতে হত না।দলের সতীর্থের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন “ শুভেন্দু কি জিনিস, তা উনি দেখিয়ে দিয়েছেন। মমতা কি জিনিস, তা বাংলার মানুষ ও নন্দীগ্রামে বুঝিয়ে দিয়েছেন”। রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, যার নামে করে খাচ্ছেন, তার গুন তো গাইতেই হবে। দিলীপ ঘোষের আরো সংযোজন ব্রাত্য বসুর মত মানুষের পায়ের তলায় মাটি নেই। তাবেদারি করে জীবন কাটিয়ে দিলেন।


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের