সময় কলকাতা ডেস্ক : বিয়ের প্রস্তুতি প্রায় সারা। বাড়ি ভর্তি গমগম করছে লোকজন। বিয়ে শুরু হতে কিছু সময়ের অপেক্ষা মাত্র । কিন্তু এরই মধ্যে হঠাৎ বাড়িতে এসে হাজির হল পুলিশ। মেয়ের আধার কার্ড দেখতে চাইলে তা দেখে কার্যত চক্ষু চড়ক গাছ পুলিশের । মেয়ে যে সম্পূর্ন নাবালিকা ১৮ বছরই বয়স হয় নি তার। এরই মধ্যে বিয়ে ? যা কার্যত দন্ডনীয় অপরাধ । খবর পেয়ে নাবালিকা বিয়ের বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার কোতলপুরে ।
পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই নাবালিকার অভিভাবকের কাছ থেকে লিখিত ভাবে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে । পাশাপাশি ছেলের পরিবারকেও বিয়ে বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে । এরপরেও নাবালিকার পরিবার যদি লুকিয়ে তাদের মেয়েকে বিয়ে দিতে চান তাহলে প্রশাসনের তরফে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
নাবালিকার বিয়ের ঘটনার কথা জানতে পেরেই কোতলপুরের বিডিও মারফত বুধবারই সেই অভিযোগ যায় সিডিপিও জয়ব্রত কুণ্ডর কাছে। তিনি খবর পেয়েই কোতল পুরের ব্লক প্রশাসক আধিকারিক অমিত কুমার মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে হানা দেয় ওই নাবালিকার বাড়ি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় কোতলপুর থানার ওসি । প্রশাসনের আধিকারিকদের দেখতে পেয়ে কার্যত চমকে যায় বিয়ে বাড়ির লোকজনেরা। বিয়ে বাড়িতে ঢুকেই মেয়েটির আধার কার্ড দেখতে চাওয়া হলে জানা যায় মেয়েটি সম্পূর্ন নাবালিকা। তারপরেই মেয়ের বাবাকে বুঝিয়ে বলা হয় তাদের কন্যার এখনো বিয়ের বয়স হয় নি। এখন এই বিয়ে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে এক মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হয় পরিবারের সদস্যদের দিয়ে। যেখানে বলা হয়েছে ১৮ বছরের নিচে কোনো রকমে বিবাহ দেওয়া যাবে না ওই নাবালিকার । ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়। কিন্তু এত কিছু করেও কি আদৌ বাল্যবিবাহ রোধ করা যাচ্ছে এই সমাজে ? মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে কি করে সম্ভব? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
বাল্যবিবাহ রোধে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। বারেবারে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারও চালানো হয়েছে যে ১৮ বছরের নিচে কোন মতেই বিবাহ দেওয়া যাবে না মেয়েদের । এটা দণ্ডনীয় অপরাধ । কিন্তু তা সত্ত্বে একই রকম ঘটনা ঘটে চলায় প্রশ্নের মুখে মানুষের সচেতনতা ।


More Stories
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ