Home » মানবিকতার অনন্য নজির, গরুর দেখভাল করছে পুলিশ

মানবিকতার অনন্য নজির, গরুর দেখভাল করছে পুলিশ

সময় কলকাতা ডেস্ক: লাঠি উঁচিয়ে আইনভঙ্গকারীদের কড়া হাতে শাসন করছে পুলিশ এছবি নিত্যদিনের। কিন্তু পুলিশ কর্মীরাও মানুষ। তাঁদেরও মানবিকতা বোধ রয়েছে। তাই লাঠি হাতে গ্রাম পাহারার পাশাপাশি গ্রামছাড়া অভিযুক্তের পরিবারের গবাদি পশুর দেখভাল করছেন পুলিশ কর্মীরা। মানবিকতার এই ছবি জলপাইগুড়ির মালবাজার থানার ওদলাবাড়ি গ্রামের।

আইন রক্ষার কাজ ছেড়ে উর্দি পরে গরুর দেখভাল করছে পুলিশ। অবাক হচ্ছেন তো? ভাবছেন তো, তাও আবার হয় নাকি। হ্যাঁ, অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছাড়া রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় প্রায় না খেয়ে মরতে বসেছিল বর্মণ পরিপারের গৃহপালিত পশুগুলি। তাই গৃহপালিত প্রাণীগুলিকে বাঁচাতে মানবিক উদ্যোগ নিল পুলিশ। লাঠিহাতে গ্রাম পাহারার সঙ্গে দড়ি হাতে গরুর দেখভাল ও খাওয়ারের ব্যবস্থা করছেন পুলিশ কর্মীরাই। উর্দিগায়ে গ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগে খুশি গ্রামের মানুষ। তাঁদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জলপাইগুড়ির মালবাজার থানার ওদলাবাড়ি গ্রামের মণ্ডলপাড়ায় ৩ মে দুই পরিবারের সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় দুই পরিবারের ১৩ জন জখম হয়। পরে হাসপাতালে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় গ্রামে ফের উত্তেজনা ছড়ায়।অভিযুক্ত তৃণমুল নেতা তথা ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য নিতাই বর্মণ এবং তার ছেলে ও এক কাকাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিতাই বর্মণের পরিবারে কাকা-জ্যাঠা মিলিয়ে পাঁচটি পরিবারের বসবাস। ঘটনার পর থেকেই বর্মণ পরিবারের বাড়িগুলিতে তালা ঝুলছে। বাড়িছাড়া পরিবারের সদস্যরা।পরিবারের ১৫ টি গরুর দেখভাল করছে গ্রামের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা পুলিশকর্মীরা। বেশ কয়েক দিন বাড়িতে কেউ না থাকায় খাবার না পেয়ে গরুগুলি ক্রমশ দূর্বল হয়ে পড়ছিল। তাই তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে এগিয়ে আসেন পুলিশকর্মীরা। অভিযুক্তরা কবে ফিরবে তার নিশ্চয়তা নেই। তবে ততদিন অভিযুক্তের বাড়ির অবলা প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য পুলিশের এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছে গ্রামের বাসিন্দারা।

About Post Author