সময় কলকাতা ডেস্কঃ ঘন্টার পর ঘন্টার চড়া আলো আর ক্যামেরার সামনে বসে সঞ্চালনার কাজটা করতে হত মার্গারিটাকে। তাও আবার গার্হস্থ্য জীবনের হিংসা আর নৃশংসতার অভিজ্ঞতার কথা শুনতে হত একই সঙ্গে আবার বলতেও হত তাঁকে। বছর ২৮ সের সেই মেয়েটির নাম মার্গারিটা গ্রাচেভা। সাংসারিক ঝগড়া তার থেকে হিংসা এবং তার পরিনতি যথেচ্ছ নির্যাতন। সেই নিয়েই তিন বছর আগে রাশিয়ার একটি টিভি চ্যানেল মহিলাদের সচেতনতা বাড়াতে একটি অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন সঞ্চালক মার্গারিটা ।

এবার সেই মার্গারিটার জীবনের একটি অন্ধকার অধ্যায় আছে। সেই জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই এই অনুষ্ঠানের সূচনা। তিনি নিজে তার সংসার জীবনে নারকীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।তার স্বামী দিমিত্রি গ্রাচেভ কুড়ুল দিয়ে দুটি হাত কেটে নেন মার্গারিটার । তার মধ্যে তার বাঁ হাতটি জোড়া লাগানো সম্ভব হয়। কিন্তু ডান হাতটি জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি। সেই জন্য কৃত্রিম হাত বসিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার সঙ্গে সম্প্রতি আমাদের রাজ্যে ঘটে যাওয়া রেণু খাতুনের হাত কেটে নেওয়ার ঘটনায় অনেকটাই সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।আর একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয় বিদেশিনী মার্গারিটার কথাও। তাদের দুজনেরই অসীম মনের জোর। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের রেণু খাতুনের বড় সাধ ছিল তার কোমল হাত দুটি দিয়ে আর্তের সেবা করার।কিন্তু তার সেই সাধ পূরণ করতে দেয়নি তার স্বামী। রেনুর স্বামী ভেবেছিল সরকারি চাকরি পেলে যদি রেনু তাকে ছেড়ে চলে যায়! সেই ভাবনা থেকেই রেনুর স্বামী তার ডান হাতটি ধারাল অস্ত্র দিয়ে কেটে দেয়।তারপরই যে ভাবে অসীম মনের জোরে বাঁ হাতে কলম ধরেন রেনু, তাতে একই রকম ভাবে মার্গারিটার ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্রনাট্য মিলে যায় । মার্গারিটা নিজের জীবন দিয়ে বুঝতে শিখিয়েছিলেন মনের দৃঢ়তা থাকলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো যায়। কারণ তিনি নিজে বুঝেছিলেন রাশিয়ার সমাজ ও প্রশাসনের, সব স্তরেই গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনা নিয়ে অনেকখানি উদাসীনতা আছে।তাই ওই টিভি শোয়ের সঞ্চালনার প্রস্তাব আসতেই তিনি এক কথায় রাজী হয়ে যান। কারণ দু’বছর আগের ওই ঘটনা তাকে তখনও তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিল।তাঁকে দেখে রাশিয়ার বহু মহিলা সাহস পেয়েছেন, নিজেদের কথা খুলে বলতে শিখেছেন, জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা পেয়েছেন। আমাদের রাজ্যেও রেনুকে দেখে হয়ত আরও অনেক মেয়ে তাদের জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প খুঁজে পাবে।
বিদেশিনী মার্গারিটার এই টিভি শো থেকে যেমন রাশিয়ার বহু মেয়ে তাদের শিরদাঁড়া খাড়া করে জীবনের মানে খুঁজে পেয়েছেন, তেমনই আমাদের বাংলার মেয়ে রেনু খাতুনও জীবনেও এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।মার্গারিটা গ্রাচেভা আর রেণু খাতুনের এই লড়াই চলছে চলবেই যতদিন না আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজ নারীর ওপর পৌরুষাকারের পুরুষ সিংহ-এর জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে না আসবে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
হরমুজ প্রণালী, রান্নার গ্যাস ও তেল এবং ভারত -ইরানের সম্পর্ক