সময় কলকাতা ডেস্কঃ অগ্নিপথ প্রকল্প ঘিরে বিক্ষোভের আগুন ক্রমাগত ছড়াচ্ছে দেশের সর্বত্র। মারপিট, ভাঙচুর, ইটবৃষ্টি, আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক ট্রেনে। মৃত্যুর তাণ্ডবের সাক্ষী থাকছে গোটা দেশ। শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ১২টি ট্রেনে আগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৩১৬টি ট্রেন। বিক্ষোভের জেরে বাতিল প্রায় দুশোরও বেশি ট্রেন। যাত্রাপথ বদলে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১১ টি এক্সপ্রেসের।
বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও প্রায় সারাদিন কেন্দ্রের অগ্নিপথ প্রকল্পের বিরুদ্ধে উত্তাল বিহার। রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই এসেছে সরকারি সম্পত্তি নষ্ঠের খবর। বিশেষ করে, রাজ্যের প্রতিটি স্টেশন কার্যত তছনচ করে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। শুধুমাত্র বিহারেই এদিন পাঁচটি ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিহারের ১২টি জেলায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা। হরিয়ানার একটি জেলায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেটের পাশাপাশি এসএমএস পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে গ্রেফতার হন ২৬০ জন। গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান।
বিক্ষোভের আঁচ পড়েছে বাংলাতেও। ব্যারাকপুর স্টেশনের কাছে চাকরিপ্রার্থীদের ডন বৈঠক দিতে দেখা যায়। অবরোধে বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ হয়ে পড়ে শিয়ালদহ মেন লাইনের ট্রেন চলাচল। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে ভারতীয় রেল। দেশ জুড়ে এই বিক্ষোভের জেরেই অগ্নিপথ প্রকল্পের নিয়ম আরও শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং অসম রাইফেলসে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীরদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা আরও বাড়ানো হল। প্রথমে ছিল ২১ বছর, পরে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২৩ বছর বাড়ল নিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা। তবে এই নিয়ম শুধু প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীরদের জন্য। তা ছাড়াও, অগ্নিবীররা অবসরের পর কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং অসম রাইফেলসে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ পাবেন। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন সিআরপিএফে অগ্নিবীরদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তারপরই শনিবার সামনে এল এই ঘোষণা। এর ফলে চার দিন ধরে চলা বিক্ষোভের আঁচে কতখানি প্রলেপ দিতে পারবে বিক্ষোভকারীদের রোষে তা সময়ই বলবে।


More Stories
ভারতের জিততে চাই ২২৬ রান
জন্মদিনে সোনার মেয়ে লাভলিনার সাফল্য
সেলিংয়ে ঐতিহাসিক রুপো