Home »  ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পে নিয়োগ নিয়ে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

 ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পে নিয়োগ নিয়ে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

সময় কলকাতা ডেস্কঃ  ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পে নিয়োগের প্রতিবাদে প্রবল বিক্ষোভ চলছে দেশ জুড়ে। জ্বালানো হয়েছে আগুন। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ট্রেন, গাড়ি। চলেছে তাণ্ডব। যাঁরা সেই হিংসায় জড়িত, তাঁদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ করা হবে কিনা এবার সেই প্রশ্ন উঠে গেল।  এরই মধ্যে রবিবার সেনার তিন বিভাগের সঙ্গে বৈঠক ছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয় এখন সব নিয়োগ এর মাধ্যমেই হবে। সাংবাদিক সম্মেলনের সময়, ডিএমএ-এর অতিরিক্ত সচিব, লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিল পুরি বলেন যে, যে আমাদের সঙ্গে ‘অগ্নিবীর’-এ যোগ দিতে চায় সে কোনও বিক্ষোভ বা নাশকতায় অংশ নিতে পারবেন না। পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া কেউ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন না। তাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। যদি তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়, তবে তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন না। তাদের (প্রার্থীদের) তালিকাভুক্তি ফর্মের অংশ হিসাবে লিখতে হবে যে তারা অগ্নিসংযোগে অংশ নেয়নি, তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হবে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিল পুরি বলেছিলেন যে শৃঙ্খলা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভিত্তি। এতে অগ্নিসংযোগ, নাশকতার কোনো স্থান নেই। প্রত্যেক ব্যক্তিকে একটি শংসাপত্র দিতে হবে যে তারা বিক্ষোভের অংশ ছিল না। পুলিশ ভেরিফিকেশন একশো শতাংশ হতে হবে, এটা ছাড়া কেউ জয়েন করতে পারবেন না।

সাংবাদিক সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিল পুরি  বলেছেন যে শৃঙ্খলা রক্ষা সশস্ত্র বাহিনীর কাছে একটি  মূল মন্ত্রো। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর থাকলে তারা এই অগ্নিপথ প্রকল্পে অংশ নিতে পারবেনা।

রবিবার অগ্নিপথ প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা গুলি হলঃ

১) ‘অগ্নিবীর’ সিয়াচেন এবং অন্যান্য এলাকায় একই ভাতা পাবেন যা বর্তমানে নিয়মিত সৈন্যদের জন্য প্রযোজ্য। চাকরির ক্ষেত্রে তাদের প্রতি কোনো বৈষম্য থাকবে না।

২)’অগ্নিবীর’ও আমাদের মতো পোশাক পরবে, লঙ্গরে একসঙ্গে খাবার খাবে। সেই সঙ্গে দেশের সেবায় জীবন উৎসর্গকারী ‘অগ্নিবীর’রা এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন।

৩) ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ ‘অগ্নিবীর’-এর প্রথম ব্যাচকে বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং ৩০ ডিসেম্বরের আগে ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

৪) ভারতীয় বিমান বাহিনীতে ‘অগ্নিবীরদের’ প্রথম ব্যাচ নেওয়ার প্রক্রিয়া ২৪ জুন থেকে শুরু হবে। এটি একটি অনলাইন সিস্টেম। তার অধীনে নিবন্ধন শুরু হবে। এক মাস পর ২৪ জুলাই থেকে প্রথম ধাপের অনলাইন পরীক্ষা শুরু হবে ।

৫) নৌবাহিনীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার বিজ্ঞাপন ২৫ জুনের মধ্যে পৌঁছে যাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে। এক মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথম ‘অগ্নিবীর’ ২১শে নভেম্বর প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিপোর্ট করবে।
 

৬) নৌবাহিনীতেও নারী ‘অগ্নিবীর’ নেওয়া হবে। এর জন্য  প্রশিক্ষণে সংশোধনী আনার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ২১ নভেম্বর  পুরুষ ও মহিলা ‘অগ্নিবীর’ INS চিল্কা-এ রিপোর্ট করবে।৭)  ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আমরা ২৫০০০ ‘অগ্নিবীরদের’ প্রথম ব্যাচ পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় ব্যাচটি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, এটির সংখ্যা হবে ৪০,০০০।

 

About Post Author