সময় কলকাতা ডেস্ক :
আবার রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া। মৃতের সঙ্গে সহাবস্থানের ঘটনাস্থল এবার দক্ষিণ দিনাজপুর। রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া শুধু নয়, রবিনসন স্ট্রিটকে যেন হার মানাল দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ। কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটে মৃতা দিদি দেবযানীর সঙ্গে ভাই পার্থর সহাবস্থানের ঘটনাকে মর্মস্পর্শী অবস্থানের মাপকাঠিতে ছাপিয়ে গেল দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ।
কুমারগঞ্জে দিদিমা সন্ধ্যা রানী ঝার মৃতদেহ আগলে তিনদিন ধরে বসেছিল নাবালিকা নাতনি রানী চৌধুরী। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন,অনাথ মেয়েটির মানসিক সমস্যা রয়েছে । মৃতা দিদিমাই কার্যত তাকে আজন্ম আগলে রেখেছিলেন।এবার দিদিমার মৃত্যুর পরে দিদিমার দেহ আগলে রেখেছিল নাবালিকা।বৃহস্পতিবার শিহরণ জাগানো ঘটনাটি সামনে আসে,কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করেছে। যে মানসিক ভারসাম্যহীন নাবালিকা তিনদিন ধরে অভুক্ত অবস্থায় চুপ করে দিদার মৃতদেহ আগলে বসেছিল তাকে হোমে পাঠানোর তোড়জোড় চলছে।
হাওড়া, বেলুড়, ব্যারাকপুর, বাঁকুড়া, নিউটাউন, ভবানীপুর। ২০১৫ সালের ১০ জুন রবিনসন স্ট্রিটের কঙ্কালকাণ্ডের পরে সামনে এসেছে একাধিক ঘটনা যেখানে প্ৰিয়জনের মৃতদেহকে সঙ্গী করে চলেছে সহাবস্থান। কোথাও মৃত পুত্রের দেহ আগলে আছে মা, কোথাও মায়ের দেহ আগলে রয়েছে পুত্র, কোথাও পিতার দেহ আগলে বসে আছে কন্যা। কোথাও সাতদিন, কোথাও তিনদিন ধরে চলেছে সহাবস্থান, তবে ২০২২ সালের সবচেয়ে শিহরণ জাগানো ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়ার ধুবুলিয়ায়। এখানে প্রায় ছ মাস মৃতা মায়ের দেহ আগলে বসেছিল মধ্যবয়সী কন্যা।

দক্ষিণ দিনাজপুর কুমারগঞ্জ থানার ভোঁওড় গ্রামের ছবি আরেকবার তুলে আনছে বেশ কিছু প্রশ্ন । মৃত বৃদ্ধার নাম সন্ধ্যা রানী ঝাঁ। গতকাল মহিলার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট হাসপাতালে পাঠায় কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ।এও জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা রানী ঝাঁর স্বামী অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছেন। নেই অন্য আত্মীয় পরিজন।এদিকে সন্ধ্যা রানী দেবীর নাতনি রানী চৌধুরী মানসিক ভাবে অসুস্থ। তাকে নিয়েই কোন রকমে বাস করতেন তিনি। বয়সের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। নাতনি রানীকে নিয়েই সংসার ছিল তাঁর। ছোট থেকেই সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল না রানী। অভাব-অনটন থাকায় নাতনির চিকিৎসা করাতে পারেননি বৃদ্ধা।
শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ ও কতদিন আগে মারা গেছেন তা জানা যাবে। মৃতার নাতনিকে হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ দিনাজপুরের ঘটনায় পুলিশ মৃতার নাতনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছে, পাশাপাশি মহিলার মনস্তাত্বিক দিক ও খতিয়ে দেখার কথা ভাবছে পুলিশ। রবিনসন স্ট্রিটের পার্থ দে প্ৰিয়জনের বিয়োগ জনিত ” প্যাথলজিকাল গ্রিফের” চরমভাবে শিকার ছিলেন যা মৃত্যুর পরও প্ৰিয়জনকে জীবিত ভাবার প্রবণতার জন্ম দেয় । রানী চৌধুরীও একই ব্যাধির শিকার কিনা তা সময়ই বলবে।তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেন বাড়ছে এরকম ঘটনা? মনস্তত্ববিদ হিরণ্ময় সাহা এরকম মেন্টাল ডিসঅর্ডারের পেছনে বিভিন্ন “স্ট্রেস ও স্ট্রেন ” কে দায়ী করার পাশাপাশি সময়োপযোগী মানসিক রোগের চিকিৎসার কথা বলেছেন। তবে তিনি এও বলেছেন করোনা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরণের অসহায়তা থেকে এধরণের ঘটনা বাড়ছে।।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী