সময় কলকাতা ডেস্ক :
“জানে ও ক্যায়সে লোগ থে জিনকে প্যায়ার কো প্যায়ার মিলা “
চলচ্চিত্রে যেমন হয় তেমন করেই চিত্র তারকা গুরু দত্তের জীবনে প্রেম এসেছিল। প্রেমের বিনিময়েও প্রেম এসেছিল যদিও প্রেমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিজের জীবনের গতি স্থির রাখা তাঁর পক্ষে স্থির হয় নি। একসাথে একাধিক প্রেমকে ধরে রাখতে গিয়ে প্রেমহীন জীবনের নাগপাশে জড়িয়ে যান তিনি।বলিউডের এক সফল চিত্রাভিনেতা তথা নায়ক, এক সফল চিত্র পরিচালকের জন্মদিনের স্মৃতিচারণায় তাই তাঁর সাফল্যের পাশাপাশি প্রেম আর বিরহ যা তাঁর জীবনকে সীমিত করে এনেছিল তার আলোচনা বেশি করে স্থান পেতে থাকে।

” বিছড়ে সবহি বারি বারি “
গুরুদত্তের ১৯২৫ সালের ৯ জুলাই কর্ণাটকে জন্ম । তাঁর প্রকৃত নাম বেশ বড় -বসন্তকুমার শিবশঙ্কর পাড়ুকোন। ছোটবেলা কলকাতার ভবানীপুরে কাটে, বিদ্যালয়ের পাঠ ও কলকাতায়। ১৯৪৪ সালে মুম্বাই যান, হিন্দি সিনেমা জগতের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে। কিছুদিনের মধ্যে আলাপ হয় রেহমান ও দেব আনন্দের সঙ্গে, এই মৈত্রী প্রগাঢ় হয়ে তাঁর পেশাদারী জীবনকে প্রভাবিত করে।দেবানন্দ তাঁকে নিজের সংস্থা নবকেতনে নিয়ে আসেন। ১৯৫১ সালে নবকেতন থেকেই তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবি ‘বাজি: মুক্তি পায়। ফিরে তাকান নি আর।১৯৫৫থেকে ১৯৫৭ ছিল তাঁর স্বর্নযুগ। এই সময় তাঁর পরিচালিত পেয়াসা সহ একাধিক ছবি মুক্তি পায়।১৯৫৯ সালে তাঁর পরিচালিত ও অভিনীত কাগজ কে ফুল সিনেমা মুক্তি পেলেও বক্স অফিসে সাফল্য পায় নি যার কারণ মনে করা হয় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ঘাত প্রতিঘাত যা ভারতীয় দর্শক মেনে নেয় নি । হয়তো তাই দর্শক বিমুখ হয়েছে গুরু দত্তের সিনেমা থেকে।এই সিনেমা নির্মাণের আগে তাঁর বাঙালি স্ত্রী গীতা দত্ত (ঘোষ রায় চৌধুরী ) তাঁর থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ না নিয়েও তাঁর জীবন থেকে সরে গেছেন। গুরু দত্তের জীবনে প্রবেশ হয়েছে ওয়াহিদা রহমানের। “পেয়াসা”র নায়িকা ওয়াহিদাকে নিয়ে গুঞ্জন ক্রমেই বাড়ছিল। অথচ গুরু দত্ত তখন ওয়াহিদা বা গীতা দত্ত কাউকেই ছাড়তে চাইছিলেন না, পারছিলেন না। গীতা দত্ত ও ওয়াহিদা দুজনেই দুজনেই দ্রুত তাঁর জীবন থেকে সরে যেতে থাকেন। তাঁর পরিচালিত সাহেব বিবি গোলাম জনপ্রিয় ও চর্চার বিষয় হয়ে উঠলেও ১৯৬২ সালের পরে ওয়াহিদা আর গুরু দত্তের সঙ্গে সিনেমা করেন নি। ১৯৬৪ সালে ” সাঁঝ অউর শভেরা” গুরু দত্ত অভিনীত শেষ ছবি। দ্রুত সন্ধ্যে নামছিল তাঁর জীবনে। ১৯৬৪ সালে মুম্বাইয়ের পোদ্দার রোডের বাড়িতে ৩৯ বছরের সুদর্শন, প্রতিভাবান অভিনেতা তথা চলচ্চিত্র পরিচালককে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর কারণ ছিল অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন। অনেকেই বলেন গুরুদত্ত আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন। সত্য আজও ধোঁয়াশায় ঢাকা।।


More Stories
পর্তুগালকে আটকে দেওয়া কঙ্গোতে নরমাংস ভক্ষণের প্রথা চালু ছিল!
উত্তর সিকিমের শিক্ষার্থীদের পাশে ভারতীয় সেনা
ছাত্র শাসন মামলায় শিক্ষকের জামিন, আদালতের যুগান্তকারী বার্তা