সময় কলকাতা ডেস্কঃ ১৯২০। ২০২২। ১০৩ টে বসন্ত পেরিয়েছে লাল হলুদ শিবির। ঝড় জল বয়ে গিয়েছে। বয়ে গেছে সমালোচনার বন্যা। তবুও ওঁরা আজও অটল। প্রাণ হতে ওপার বাংলা থেকে পালিয়ে আসা বাঙালিদের অক্সিজেন যুগিয়ে চলছে ওঁরা। ১ অগাস্ট, ১৯২০ সাল থেকে শুরু হয়েছিল সেই স্পর্ধার লড়াই। কিন্তু কেন সেই লড়াই শুরু হয়েছিল? এই লড়াইয়ের জন্ম এক জাতিবৈরীতা থেকে, বিদ্বেষের গন্ধ মিশে রয়েছে সেই লড়াইয়ে। ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলনের বছরে কোচবিহার ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান এবং জোড়াবাগান। সেদিন জোড়াবাগানের হয়ে মাঠে নামেননি পূর্ববঙ্গীয় ডিফেন্ডার শৈলেশ বসু।
টানটান উত্তেজনার সেই ম্যাচটা জেতা হয়নি ওই দলটির। আর সেই হারের দায় নিতে হয়েছিল দলের পূর্ববঙ্গীয় ফুটবলার নসা সেনকে। তাতেই জোড়াবাগান ক্লাবের তৎকালীন সহ-সভাপতি সুরেশচন্দ্র চৌধুরী গেলেন ক্ষুব্ধ হয়ে। ঘটনার প্রতিবাদে সেই মুহূর্তেই ক্লাব পরিত্যাগ করেন তিনি। এরপর মাত্র তিনদিনের মাথায় তাঁর নিমতলার বাড়ীতে জন্ম নিল ইস্টবেঙ্গল স্পোর্টিং। সারদারঞ্জন রায়, তৎকালীন বঙ্গ ক্রিকেটের মহাতারকা সুরেশচন্দ্র চৌধুরীর অনুরোধে ক্লাবের সভাপতির পদ গ্রহণ করলেন।

শতাব্দীপ্রাচীন এই দুই দলের মধ্যেকার পরবর্তী রেষারেষির কথা কারোর অজানা নেই। যেমন শত্রুতার জেরে পাড়ার দুই পাড় গমগম করত, তেমনই তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বও ছিল চোখে ঈর্ষা জাগানোর মত। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া সেই ক্লাবটা এক বছরের মধ্যেই সাতটা ট্রফি জিতেছিল। মন জয় করেছিল ফুটবলপ্রেমীদের। সচিন শিল্ড থেকে শুরু করে একে একে কোচবিহার কাপ, আইএফএ শিল্ড, গিরিজা শিল্ড, ট্রেডস কাপ, আশিয়ান কাপ, জাতীয় লিগ জয়ের স্বাদ পেয়েছে লাল হলুদ শিবির। শুধু ঘরে আই লিগের শিল্ড জিততে না পারার গ্লানি রয়ে গেছে শিবিরের অন্দরে। এই দুঃখটা বুকে চেপেই ঘুরে বেড়াতে হয় লাল হলুদ শিবিরের সমর্থকদের। কিন্তু ১০৩ বছর ধরে এই আবেগটাকেই ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চাইছে দল। নতুন করে শুরু করতে চাইছে ক্লাব কর্তৃপক্ষও। বাংলার আকাশে ফের বুক চিতিয়ে লাল হলুদ শিবির জয়ের উল্লাসে মাতবে, সেই সুদিনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ইস্টবেঙ্গলপ্রেমীরা। এই প্রেমের কোনও বিচ্ছেদ নেই যে!


More Stories
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের প্রাপ্তিযোগ
কোচ হিসেবে লক্ষ্মণ কি সুলক্ষণ বয়ে আনছেন?
আজ ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান ডার্বি দিয়ে শুরু ডুরান্ড,এগিয়ে কে, দেখবেন কোথায়?