Home » গভীর রাত পর্যন্ত গোপনে পঞ্চায়েতে কাজ করার অভিযোগ

গভীর রাত পর্যন্ত গোপনে পঞ্চায়েতে কাজ করার অভিযোগ

সময় কলকাতা ডেস্ক : বিগত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পঞ্চায়েত অফিসে অধিক রাত পর্যন্ত কাজ চলার কারণে অভিযোগ উঠছে ফাইল এবং তথ্য লোপাটের।

সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গার নুরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে অধিক রাত পর্যন্ত কাজ চলাকালীন গ্রামবাসীরা হানা দেয় পঞ্চায়েত অফিসে। কি কারনে অধিক রাত পর্যন্ত কাজ হচ্ছে, আর কি কাজ হচ্ছে? গ্রামবাসীদের এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেনি রাতে কর্মরত পঞ্চায়েতের কর্মীরা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যখন নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে।তখন গভীর রাত পর্যন্ত পঞ্চায়েতে কাজ চলছে ফাইল লোপাট এবং তথ্য প্রমান লোপাটের। শুক্রবার গভীর রাতে মেখলিগঞ্জ-এর খাদ্য সরবরাহ দপ্তরেও অধিক রাত পর্যন্ত কাজ চলা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত মন্ত্রী পরেশ চন্দ্র অধিকারীর এলাকা এই মেখলিগঞ্জ। একদা খাদ্য দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন পরেশ চন্দ্র অধিকারী। ফলে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছিল তাহলে কি সেই খাদ্য সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হচ্ছিল? যদিও পরে পরেশ চন্দ্র অধিকারী সামাজিক প্রচার মাধ্যমে, এ কথা অস্বীকার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। দাসত্ব রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত বিভিন্ন দপ্তরে রাত জেগে কাজ করা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

অভিযোগ উঠছে যেখানে দিনের বেলায় কাজের গতি মন্থর, দেখা পাওয়া যায় না অনেক সরকারি আধিকারিকের। সেখানে রাত জেগে কাজ চলছে কেন? শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত নন্দীগ্রাম এক নম্বর ব্লকের সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের ভিতর কাজ করা নিয়েও উঠল অভিযোগ। ফাইল এবং তথ্য লোপাট করার চেষ্টা চলছে এই অভিযোগে গ্রামবাসী এবং বিজেপির পক্ষ থেকে সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি সাহেব দাসের বক্তব্য বিগত কয়েকদিন ধরে সোনাচুরা গ্রাম পঞ্চায়েতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চলছে। কেন? তার আরও অভিযোগ তথ্য এবং ফাইল লোপাট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

যদিও পঞ্চায়েতের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন পঞ্চায়েতের ভিতর কর্মরত কয়েকজন কর্মী অন্য দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। দুই কর্মীর মধ্যে একজন শমিক পন্ডা যিনি ব্লকে কর্মরত, তিনি গভীর রাত পর্যন্ত পঞ্চায়েতের অফিসে ছিলেন। কেন ছিলেন? গ্রামবাসীদের এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান একাধিক ফাইলে কি কি পেপারস নেই। সে কাজই সঠিকভাবে সমাপ্ত করার জন্য তারা কাজ করছিলেন। যে কাজ দিনে করা সম্ভব, সেই কাজ কেন গভীর রাত পর্যন্ত করা হচ্ছিল ।গ্রামবাসীদের এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্য তারা দেননি। পরে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পঞ্চায়েতের তালা ভেঙে উদ্ধার করে পঞ্চায়েতের কর্মীদের।

About Post Author