সময় কলকাতা ডেস্ক : নবম কন্যাশ্রী দিবস আজ।২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার গঠিত হওয়ার দুবছরের মধ্যে রাজ্যসরকার কন্যাশ্রী প্রকল্পের ঘোষণা করে।কন্যাশ্রী প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারকে নগদ সহায়তার মাধ্যমে মেয়েদের জীবন ও অবস্থার উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গের সরকার কর্তৃক গৃহীত একটি উদ্যোগ। লক্ষ্য অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে কোনো পরিবার আঠারো বছর বয়সের আগে তাদের মেয়ে সন্তানের বিয়ের ব্যবস্থা না করে।

মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানস প্রকল্পটি ২০১৩ সালে পথ চলা শুরু করে এবং উদ্বোধন দিন ধরা হয় নারী দিবসের দিনটিকে অর্থাৎ ৮ মার্চ। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট দিনটিকে কন্যাশ্রী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।২০১৩ সালে কন্যাশ্রী দিবস ঘোষিত হলেও ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয় কন্যাশ্রী দিবসের বর্ষপূর্তি পালন । নবম কন্যাশ্রী দিবস পালিত হচ্ছে এবছর।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মেয়েদের নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।এর কারণ আর্থিক সমস্যার কারণে অনেক মেয়েদের পড়াশোনা থমকে যায় । কিছুক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক কম বয়সেই এই মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। মূলত আর্থিকভাবে রুগ্ন মেয়েদের প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই ২০১৩ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্পের রূপায়ণ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে কোনও পরিবার ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে না হয়, পড়া চালিয়ে যেতে পারে যেন মেয়েরা । এই প্রকল্পের আওতায় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীদের বার্ষিক ১ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হয়। ছাত্রীর বয়স ১৮ হলে, তখন এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।

২০১৪ সালে মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রকল্পটিকে পুরস্কৃত করেন । প্রকল্পের সফল রূপায়ণ হতেই কিশোরী, তরুণীদের উন্নয়নে কার্যত মডেল হয়ে ওঠে কন্যাশ্রী প্রকল্প ।দেশে বিদেশ থেকে আসতে থাকে প্রশংসা আর পুরস্কার।
২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডের দ্য হেগ শহরে ইউনিসেফের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন দফতর আয়োজিত ‘গার্ল সামিট’-এ সেরা নির্বাচিত হয় কন্যাশ্রী ৷ জাতিসংঘ তাদের সর্বোচ্চ জনসেবা পুরস্কারে সম্মানিত করে কন্যাশ্রীকে। ৬২ টি দেশের মধ্যে ৫৫২ টি সোশ্যাল সেক্টর স্কিমগুলির মধ্যে সেরা পুরস্কার পায় কন্যাশ্রী।

জাতিসংঘ ডাবলু এস আই এস ২০১৬ এর বিজেতা কন্যাশ্রী প্রকল্প । এছাড়াও কন্যাশ্রী প্রকল্প সিএসআই নিহিলেন্ট ই -গভর্নেন্স পুরস্কার ২০১৪-২০১৫ তে গুণগ্রাহিতা পুরস্কার লাভ করেছে।এই প্রকল্প স্কচ স্মার্ট গভর্নেন্স অ্যাওয়ার্ড (২০১৫) বিজেতা।অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস এবং পাবলিক গ্রিভেন্স দ্বারা আয়োজিত ন্যাশনাল ই গভর্নেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৪-১৫ এ পুরস্কৃত।ঝুলিতে রয়েছে ২০১৪ সালে ই-ওমেন ও এমপাওয়ারমেন্ট বিভাগে মন্থন অ্যাওয়ার্ড (সাউথ এশিয়া ও এশিয়া প্যাসিফিক) ও এউনাইটেড স্টেটস কনস্যুলেট এবং শক্তি বাহিনী দ্বারা আয়োজিত ট্র্যাফিকিং ইন পার্সন্স (টিপ ) (শিলিগুড়ি, ফেব্রুয়ারি ২০১৬ )।প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংক দ্বারা আয়োজিত “এমপাওয়ারমেন্ট অফ এডোলেসেন্ট গার্লস ” এর অধিবেশনে প্রশংসিত।
২০২১ সাল পর্যন্ত এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৩ লক্ষ কন্যাসন্তান এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়ে সুবিধা পেয়েছেন।কন্যাশ্রী প্রকল্প তার নক্সা ও সুশাসনের বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করা শুধু নয় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মেয়েদের রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছে।এই প্রকল্পকে ঘিরে রাজ্যের কন্যাদের উন্নয়নের যে রূপকথার জন্ম তার জন্মদিবস পালন হয় কন্যাশ্রী দিবসের মাধ্যমে ১৪ আগস্ট।।


More Stories
সত্যজিতের চোখে উত্তম কুমার
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও