Home » স্বাধীনতার মুখ : ১১৩ বছর বয়সী স্বাধীনতা সংগ্রামী হারাধন সাহা

স্বাধীনতার মুখ : ১১৩ বছর বয়সী স্বাধীনতা সংগ্রামী হারাধন সাহা

সময় কলকাতা ডেস্ক : “ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে,
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে”

মরণকে তিনি ভয় করেন নি, জীবনকে তিনি বাজি রেখেছিলেন দেশকে স্বাধীন করার ব্রতে,তিনি আজও তাঁর অশক্ত দেহে দেশপ্রেমের মন্ত্র বয়ে নিয়ে চলেছেন।তিনি হারাধন সাহা, বয়স ১১৩।বর্ধমানের কাঁকসা গ্রামে তিনি আজও স্মৃতিরোমন্থন করেন স্বাধীনতা সংগ্রামের। অগ্নিযুগে তাঁর প্রত্যক্ষ করা ঘটনা প্রাণ পায় তাঁর  স্মৃতিচারণায়।

স্বাধীনতা সংগ্রামী জহরলাল নেহেরু বা দেশনায়কদের সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু আন্দোলনে পা মেলানো হারাধন সাহার চোখে এখনও স্পষ্ট বৃটিশদের অত্যাচারের স্মৃতি। যদিও এখন স্মৃতিশক্তি ধূসর হয়েছে। ধূসর হয়েছে দৃষ্টিশক্তিও। তবুও তাঁর সান্নিধ্যে এলে তিনি উজাড় করেন স্মৃতির ভান্ডার।সময়ের সরনী বেয়ে দৃপ্ত কন্ঠে তিনি বলে ওঠেন বন্দেমাতরম। আজও সেদিনের আইন অমান্য করার স্মৃতিচারণা চলে হারাধন সাহার কণ্ঠে।

বন্দে মাতরম ধ্বনি শুনলে দেশবাসী গর্ববোধ করেন। দেশবাসী ব্রিটিশদের আরোপিত আইন অমান্য করার কাহিনী শুনে উদ্দীপ্ত হন ।দেশবাসী আজ স্বাধীনতার যে ফল ভোগ করছেন তাঁর পেছনে রয়েছে স্বাধীনতা পিপাসু দেশবাসীর নিরবিচ্ছিন্ন সাধনা।অগ্নিযুগের সাধকদের এমনকী সেদিনের সাক্ষী যারা ছিলেন তাঁরা অনেকেই স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে বেঁচে নেই। হারাধন সাহার মত সেদিনের প্রত্যক্ষ সংগ্রামে জড়িত গুটিকয়েক মানুষ আছেন যাদের মুখে সেদিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস অন্য মাত্রাবাহী।

ভারতবর্ষের ইতিহাসে কত কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে এসেছে, তা জানেন আমাদের পূর্বসূরীরা। তাঁরা জীবনপণ করেছিলেন স্বাধীনতা আনতে। বলাবাহুল্য, এই মৃত্যুহীন প্রাণদের এক পুরোধা হারাধন সাহা । জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি জঙ্গলে ঘেরা কাঁকসার ছোট্ট গ্রাম সরস্বতী গঞ্জ থেকে স্মরণ করেন অগ্নিযুগের । দেশের মানুষ কিভাবে ব্রিটিশদের সঙ্গে লড়াই করেছে, তার স্মৃতি এখনও তিনি বহন করে নিয়ে চলেছেন তাঁর মনেপ্রাণে।সেদিনের কাহিনী আজও জড়তা জড়ানো কণ্ঠে যখন বলেন, যখন তিনি ফিরে যান অতীতে, তখন তাঁর বয়স যেন কমে যায়।

ইংরেজরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মত অবিভক্ত বর্ধমানের দুর্গাপুরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘাঁটি গেড়েছিলেন।সগরভাঙ্গা ও লাউদহের বিভিন্ন প্রান্তে ব্রিটিশ শাসনের অঙ্গ ছিল দেশবাসীর ওপরে জোরজুলুম ।আজকের শিল্পাঞ্চল সেদিন ছিল ব্রিটিশ অত্যাচারের আতুরঘর।সেই অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে বিপ্লবে নেমেছিল দেশবাসী। এসেছিলেন গান্ধিজি, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, জহরলাল নেহেরির মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। দেশনায়কদের সঙ্গে পায়ে পায়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে কাঁকসা থেকে বহু মানুষ  ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একাত্ম হয়েছিলেন। সেদিনের কথাই উচ্চারণ করেন হারাধন সাহা।

বর্তমান দেশনায়কদের মধ্যে আজ হারাধান সাহাদের বড় অভাব।স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষপূর্তিতে ১১৩ বছরের হারাধন সাহা অশক্ত শরীরে ভারতের পতাকা কাঁধে তুলে বাড়ির চারপাশে কিছুটা পথ চলেন আর উদযাপন করেন দিনটিকে । আজকের দেশনায়কদের মধ্যে বিরল দেশপ্রেমের যুগে তাঁরা পথ দেখান। তাঁরাই প্রেরণা।।

About Post Author