Home » ১৬ অগাস্ট কেন জ্বলেছিল মহানগরীর বুক?

১৬ অগাস্ট কেন জ্বলেছিল মহানগরীর বুক?

সময় কলকাতা ডেস্কঃ রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট, ২০২২ এর দোরগোড়ায় এসে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন ‘ ৪৬ এর দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংসের কথা। এই দিনটার ছবিটা জানার আগে তৎকালীন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটা বোঝা এবং জানা প্রয়োজন। সেই সময় দেশে মুসলিম লিগের বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতির কুপ্রভাব পড়তে শুরু করেছিল জনমানসে। কারণ তাঁদের দলের বক্তব্যই ছিল, তাঁদের লড়াই ইংরেজদের বিরুদ্ধে নয়, ছিল হিন্দুদের বিরুদ্ধে। ১৯৪০ এর ২৩ মার্চ লাহোর প্রস্তাবে মহম্মদ আলি জিন্নার গলাতে শোনাও গিয়েছিল সেই কথা, যেখানে ইসলাম এবং হিন্দুকে আলাদা জাতিসত্ত্বা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন তিনি। পরে গান্ধিজীকেও একপ্রকার পাকিস্তান প্রস্তাবে সমর্থন জানাতে দেখা গিয়েছিল। এরপরই ১৯৪৬ সালে বিট্রেন থেকে আসা ক্যাবিনেট মিশন ১৬ মে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয় কংগ্রেস, মুসলিম লীগ সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কাছে।

সেই প্রস্তাবনায় মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশ এবং দেশীয় রাজন্যবর্গদের একটি স্ব-শাসিত মন্ডলী গঠন করার নিদান দেওয়া হয়। এও বলা হয়, যে তারা চাইলে ১৫ বছর পর ভারত ত্যাগ করতে পারে। এই প্রস্তাব মুসলিম লীগ মেনে নিলেও দেশভাগের আতঙ্কে কংগ্রেস এই প্রস্তাব সংশোধনের আর্জি জানায়। সেই সংশোধনে সমর্থন জানাতে নারাজ মুসলিম লীগের তরফে ওই প্রস্তাবে সম্মতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপরই পৃথক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে ১৯৪৬ সালে ২৮ জুলাই মুসলিম লীগ অধিবেশন থেকে সারা ভারতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেয়। সেই সময় বাংলার বুকে ৫৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় কার্যত প্রত্যক্ষ সংগ্রামের পথ সুগম হয়ে ওঠে। এই প্রত্যক্ষ সংগ্রামে রাজনৈতিক উসকানির প্রসঙ্গে সবচেয়ে বেশি আঙুল ওঠে তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হুসেন শহিদ সুরাওয়ার্দির দিকে।

ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে এমনও উল্লেখ করা হয়েছে, যে সুরাওয়ার্দিই ১৬ অগাস্টের অরাজকতার রূপকার, তাঁর পরিকল্পনা-মাফিকই প্রায় সব কিছু ঘটেছিল। প্রচলিত থিওরি অনুযায়ী, সেদিন সুরাওয়ার্দি পুলিশের রাশ টেনে রেখেছিলেন, সেনার সাহায্য চাইতেও দেরি করেছিলেন। কিন্তু আসলে বিষয়টি অন্যকিছু ছিল। ডায়রেক্ট অ্যাকশন মিছিল ময়দানে নামার আগেই কমিশনার গর্ভনরকে ফোন করে অনুরোধ জানিয়েছিলেন সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য। কিন্তু সেই অনুরোধ খারিজ করে দেওয়া হয়। ব্রিগেডিয়ার সিক্সস্মিথ সেই অনুরোধকে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

নথিপত্রে ঘটনাটি কিছুটা এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছিল। সেই কয়েকটা দিন শহরের বুকে অবাধে লুঠ চলেছিল, যা করেছিলেন পুলিশ অফিসাররাও। দোকান একেবারে খালি করে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল দিকে দিকে। গলিতে পিছন থেকে ছুরি মেরে খুনের মর্মান্তিক দৃশ্য, প্রতিবেশীদের বাঁচাতে পাড়ায় পাড়ায় পিকেটিং, একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের মাঝেও মানুষ ফাঁকা শেড খুঁজে জড়ো হচ্ছিল। এরই মাঝে নিজেদের বাঁচাতে হিংস্র হয়ে উঠেছিল জনতা। হাতের কাছে যা পাওয়া গিয়েছিল, তাই দিয়েই অস্ত্র বানিয়ে চলেছিল হত্যালীলা। বাতাসে ভাসছিল ঘুরপাক-খাওয়া গুজব, যা আরও উসকে ছিল সেদিনের কলকাতার মানুষদের।

About Post Author