সময় কলকাতা ডেস্ক :
আসানসোল আদালতে গরুপাচার মামলায় অনুব্রত মন্ডলের শুনানি বুধবার। তার একটি চিঠি ঘিরে উত্তাল রাজ্য। বিরোধী নেতারা চিঠির প্রেরককে গ্রেফতার করার দাবি তুলছেন। অথচ চিঠির লেখক হিসেবে যার নাম তিনি বলছেন, এরকম চিঠির বিন্দুবিসর্গ তিনি জানেন না।

একটি বিস্ফোরক হুমকি সহ সিবিআই আদালতের বিচারককে চিঠি। আর সেই চিঠি ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি এবং প্রশাসন। সিবিআই আদালতের বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী জানিয়েছেন,তাঁর কাছে একটি হুমকি চিঠি এসেছে। চিঠির বক্তব্য,অনুব্রত মন্ডলকে গরুপাচার মামলায় জামিন না দিলে মাদক মামলায় (এনডিপিএস) বিচারকের পরিবারের সদস্যদের ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।চিঠির নিচে নিজেকে রাজ্য সরকারি সংগঠনের পদাধিকারী দাবি করা জনৈক বাপ্পা চ্যাটার্জীর নাম ও সই রয়েছে। আগস্ট মাসের কুড়ি তারিখে চিঠিটি লেখা হয়েছে।উল্লেখ্য, চিঠির বয়ানমাফিক বাপ্পা চ্যাটার্জী বাস্তবেই বর্ধমানের এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের হেড ক্লার্ক।

এই চিঠিটি সামনে আসতেই হইচই পড়ে যায় বিভিন্ন মহলে। বিজেপি এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেছেন, এটাই দেখা বাকি ছিল। “সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার হ’ল তৃণমূলের কেউ এই চিঠির সমালোচনা করলেন না। কোথায় যাচ্ছে বাংলা!” সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম আরও একধাপ এগিয়ে বলেছেন, বাপ্পা চ্যাটার্জীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।গত দশ বছর ধরে যত এনডিপিএস মামলা হয়েছে তার রিভিউ করতে হবে।
এদিকে যে বাপ্পা চ্যাটার্জীকে ঘিরে এত আলোড়ন ও আলোচনা, যাকে শাসক দলের সমর্থক বলে ঘোষণা করে গ্রেপ্তার করার দাবি তুলছেন বিরোধী দলের নেতারা সেই বাপ্পা চ্যাটার্জী কার্যত হতভম্ব। বাপ্পা চ্যাটার্জী আকাশ থেকে পড়ছেন হুমকি চিঠির কথা শুনে। তিনি বলছেন, তিনি বিচারককে কোনও চিঠি পাঠান নি। তাঁর বক্তব্য- তাঁর স্ট্যাম্প, প্যাড, সই সবকিছুই জাল করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তিনি সামান্য এক কর্মচারী মাত্র। তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি এও জানিয়েছেন,’আমি কোনও মূলের সঙ্গেই জড়িত নই। ” তৃণমূলের কোনও সংগঠনের পদে থাকা দূরে থাকুক, তিনি বলছেন তিনি রাজনীতি-ই করেন না।বাপ্পা চ্যাটার্জীর আরও দাবি, তাঁর সই পরীক্ষা করে দেখা হোক। চিঠিটিতে তাঁর নাম, সই জাল করা হলেও কারা এই কাজ করেছে তা বলা তাঁর পক্ষে দুস্কর।।


More Stories
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!