সময় কলকাতা ডেস্ক:অপহরণের পর দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর নৃশংস খুনের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা বাগুইহাটিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাগুইহাটির ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ১৩ দিন অশনাক্ত অবস্থায় মর্গে ছিল দুই ছাত্রের মৃতদেহ। মঙ্গলবার খবর পেয়ে শনাক্ত করে পুলিশ। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে অভিজিৎ বসুর নাম। অভিজিৎ বসুকে গ্রেফতারের পর জেরা করে উদঘাটন হয় হত্যা রহস্য।
কবে নিখোঁজ হয়েছিল অতনু ও অভিষেক
চলতি বছরের ২২শে আগস্ট বাগুইহাটির জগৎপুর থেকে দুই ছাত্রের অপহরণের অভিযোগ আসে পুলিশের কাছে। বাগুইহাটির হিন্দু বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণীর দুই ছাত্র অতনু দে এবং অভিষেক নস্কর দুদিন ধরে নিখোঁজ বলে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল অতনু ও অভিষেকের পরিবার। তারপর থেকে বিভিন্ন থানায় বাগুইহাটি থানা তরফ থেকে পাঠানো হয়েছিল ছবিসহ তথ্য। খোঁজা হচ্ছিল আশেপাশের অঞ্চলে। বন্ধুবান্ধব ,আত্মীয় ,পরিজন সব জায়গায় খোঁজার পরেও নিখোঁজ দুই ছাত্রের সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশ খোঁজা শুরু করেছিল নিখোঁজ দুই ছাত্রের নিখোঁজ হওয়ার মোটিভ।
অবশেষে খোঁজ পাওয়া গেল দুই ছাত্রের
অবশেষে দীর্ঘ ১৩ দিন বাদে পুলিশের কাছে খবর আসে বসিরহাটের মর্গে দুটি মৃতদেহ অশনাক্ত অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার অতনুদের পরিবারের সদস্যরা গিয়ে অতনুর দেহ সনাক্ত করে। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। ২২শে আগস্ট থেকে নিখোঁজ থাকার পর এতদিন পুলিশ প্রশাসন কি করছিল?
পুলিশের বক্তব্য
বিধান নগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি ডিডি বিশ্বজিৎ ঘোষ এদিন বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিজিৎ বসু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায় এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র চৌধুরী। সত্যেন্দ্র চৌধুরী অতনু দের পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। একটি বাইক কেনার জন্য অতনু সত্যেন্দ্রকে ৫০হাজার টাকা দিয়েছিল। তারপরেও সত্যেন্দ্র অতনুর কাছে আরো টাকা দাবি করে। সেই দাবি না মেটানোয় ২২শে আগস্ট সত্যেন্দ্র আরো পাঁচজনকে নিয়ে একটি গাড়িতে করে অতনু এবং অভিষেককে ডেকে গাড়িতে তুলে নেয়। বাইক কিনেছি বলেই মূলত অতনুকে ডাকে সত্যেন্দ্র। সারাদিন গাড়িতে ঘোরার পর তারা একটি গাড়ির শোরুমেও ঢুকেছিল ১৫ মিনিটের জন্য। অবশেষে সন্ধ্যায় বাসন্তী হাইওয়েতে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করা হয় অতনু এবং অভিষেককে।
তারপরে দুই ছাত্রের মৃতদেহ দুটি পৃথক জাগায় ফেলে দেয় অপরাধীরা। অভিজিৎ বসুর তথ্য অনুযায়ী পুলিশ আরো তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।। তিনজনের নাম সামান আলী, সাহিল মোল্লা, দিব্যেন্দু দাস। সত্যেন্দ্র চৌধুরী এবং আরো এক অপরাধী ফেরার ।তাদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হলেও রয়ে গিয়েছে কিছু প্রশ্ন
১. ৫০০০০ টাকা বাইক কেনার জন্য অতনু কেন সত্যেন্দ্রকে দিয়েছিল?
২. বাইক দেখার কথা বলে অতনুকে ডেকেছিল সত্যেন্দ্র। শুধু বাইক দেখতেই অতনু তার বন্ধুকে নিয়ে কেন গিয়েছিল?
৩ .শুধু কি ৫০০০০ টাকার জন্যই ৬ জন মিলে দুই ছাত্রকে হত্যা করল? নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোন রহস্য?
৪. যেভাবে দুটি মৃতদেহকে ফেলা হয়েছে তা একমাত্র সম্ভব পরিপক্ক অপরাধীদের দ্বারা। তাহলে কি অনেকদিন ধরেই পরিকল্পনা করেছিল অপরাধীরা।
৫. সত্যেন্দ্রর সঙ্গে যে সহযোগীরা ছিল তারা কেন গিয়েছিল এই দুই ছাত্রের হত্যাকাণ্ডে? তাহলে কি আরো বড় অংকের টাকার খেলা ছিল?
৫. নিরীহ অভিষেক যে এই ঘটনার সঙ্গে বিন্দুমাত্র সংযুক্ত ছিল না। তাকে কেন খুন করল অপরাধীরা?
৭ .পুলিশ প্রশাসন দীর্ঘ ১৩ দিন ধরে কি করছিল? তারা কি শুধুই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে?
৮. বসিরহাটের মর্গে দুটি ছাত্রের মৃতদেহ অশনাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে দীর্ঘ ১৩ দিন। পুলিশ কি খোঁজার চেষ্টা করেনি, যে আশেপাশের কোন থানায় ছাত্র মিসিং রয়েছে?
৯. এক কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল ২ ছাত্রের পরিবারের কাছে। সেক্ষেত্রে বারবার আসা মুক্তিপনের ফোন কি ট্রেস করেছিল পুলিশ? যদি ট্রেস করে থাকে তাহলেও অপরাধীদের ধরা সম্ভব হয়নি কেন আগে?
১০ বসিরহাটের পুলিশ সুপার জোবি থমাস জানিয়েছেন তারা দুই মৃতদেহ উদ্ধারের পর বিভিন্ন থানায় জানিয়েছিল পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে। পুলিশ সুপারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন, ১৩ দিন লেগে গেল কেন একই জেলায় দুই ছাত্রের পরিচয় সন্ধানে?
১১. এক কোটি টাকার মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল। তাহলে কি মুক্তিপণ চাওয়া আসলে পুলিশের তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য?
এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলেও এখনো বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। সত্যেন্দ্র চৌধুরী ধরা পরার পর হয়তো মিলতে পারে সম্পূর্ণ উত্তর। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো তদন্ত চলছে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার।


More Stories
দুশ্চিন্তার দিন শেষ! আয়ুষ্মান কার্ড এখন হাতের মুঠোয়
আমডাঙায় ফুড প্লাজা ভাঙচুর, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে
চুরমার বারাসাতের তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিকের বাড়ি ও পার্টি অফিস, মেরে ফেলা হতে পারে আশঙ্কা স্ত্রীর