Home » বাংলাদেশে দুর্গাপুজো : হাকিমপুরের শিকদার বাড়ি

বাংলাদেশে দুর্গাপুজো : হাকিমপুরের শিকদার বাড়ি

    অমিত পাল,সময় কলকাতা :  বাংলাদেশের দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য সুপ্রাচীন।গবেষকরা মনে করেন , এপার বাংলা ওপার বাংলা জুড়ে  অখণ্ড বঙ্গের রাজশাহী জেলার তাহেরপুরে রাজা কংসনারায়ণ ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছিলেন।৫৪২ বছর আগে প্রচলিত দুর্গাপুজো  কালক্রমে রাজা ও জমিদার বাড়ি ছাড়িয়ে সর্বজনীন হয়ে উঠেছে। ১৭৯০ সালে হুগলির গুপ্তিপাড়ায় প্রথম বারোয়ারি পুজোর আয়োজন করা হয়। বিংশ শতকের গোড়া থেকে প্রসার লাভ করে সর্বজনীন দুর্গোৎসব। এবারও দেবী দুর্গার আগমণে আনন্দে মেতে উঠছেন বাংলাদেশবাসী।

  প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন শহর এবং গ্রামজুড়েই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মণ্ডপে মণ্ডপে দূর্গাপূজার আয়োজন করেন৷ দুর্গাপূজার পাঁচদিনই সমগ্র দেশেই একটা উৎসবের আমেজ লেগেই থাকে। জানা গিয়েছে, এবছর বাংলাদেশ জুড়ে প্রায় ৩২ হাজার ১৬৮টি পুজোর আয়োজন করা হবে, যা গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশী। বাংলাদেশে প্রতিমার বিচারে অন্যতম বড় দূর্গাপুজো হয় বাগেরহাট জেলার হাকিমপুর শিকদার বাড়িতে৷ করোনা অতিমারীর আগে পর্যন্ত গোটা দেশের মধ্যে সবথেকে বড় পুজো হিসেবেই সবার মুখে ফিরেছে হাকিমপুর শিকদার বাড়ির পুজো কথা।

জানা যায়, ২০১১ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি লিটন শিকদারের বাড়িতে ২৫১ টি প্রতিমার সমন্বয়ে দূর্গাপুজোর সূচনা করা হয়৷ প্রতি বছরই বেশ কিছু প্রতিমার সংযোজন হয়েছে এই পুজোয় ৷ ২০১৯ সাল পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৮০১ টিতে। পৌরানিক কাহিনী, লোককথা,ধর্মীয় গ্রন্থে বর্ণিত কাহিনীর নানা রূপ ফুটে উঠত শিল্পী বিজয়কৃষ্ণ বাছাড়ের হাতে৷ লক্ষ লক্ষ ভক্ত আর দর্শনার্থীদের জনসমুদ্র ঢল নামার রেওয়াজ গোটা এলাকাজুড়ে। কিন্তু, করোনা আবহে শিকদারবাড়ির প্রধান আকর্ষণ প্রতিমার সংখ্যা কমে গেলেও জৌলুস কিন্তু ধরে রেখেছে মূল প্রতিমা৷ তবে, করোনার কারণে জাঁকজমকের মধ্যেও স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে করোনার দাপাদাপির মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তেই পুজোর জৌলুশ কমেছে । প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, পুজোর সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশের পুজোমন্ডপগুলিতে এক লাখ বিরানব্বই হাজার আনসার  ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি  থাকবে পুলিশ এবং জারি থাকছে নিয়মিত টহল। পুলিশের সদর দপ্তর এবং জেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে এবং ২৪ ঘণ্টা সেখানে যোগাযোগ করা যাবে। থাকছে ভ্রাম্যমাণ আদালতও৷

শরতের নির্মল আকাশে কাশবনে দোলা লেগেছে।সেজে উঠছে এপার বাংলা-ওপার বাংলা। কাঁটাতারের বেড়া ছাড়িয়ে উৎসবমুখর বাঙালির অপেক্ষা মায়ের আগমণের।।

About Post Author