Home » আতঙ্কের অন্য নাম ডেঙ্গু

আতঙ্কের অন্য নাম ডেঙ্গু

সময় কলকাতা ডেস্কঃ পুজোর মরশুমে ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু । নিত্যদিনই জেলায় জেলায় বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, কলকাতা, হুগলি, জলপাইগুড়ি, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় ক্রমশ বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। গত ৪ দিনে এখনও পর্যন্ত মোট ৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে এখনও পর্যন্ত মোট ২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
তাই এবার পুজোয় ছুটির দিনগুলিতেও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য হেল্প লাইন নম্বর চালু করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। দফতর। হেল্প লাইন নম্বরটি হল,১৮০০-৩১৩-৪৪৪-২২২। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা যে কোনও সমস্যায় এই হেল্প লাইনে ফোন করলেই চিকিৎসা থেকে শুরু করে ওষুধ,সব ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে পারবেন। এমনকী বাড়িতে বসে ডেঙ্গু চিকিৎসার ব্যাপারেও পরামর্শও মিলবে। উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ সহ যে জেলাগুলিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, সেই সমস্ত জেলায় হেল্প লাইন চালু করা হয়েছে। এই হেল্প লাইনে ফোন করলে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সহযোগিতা পাওয়া যাবে। যে কোনও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সহ ভর্তির ব্যাপারেও পরামর্শ ও সহযোগিতা মিলবে এই হেল্প লাইনে।

এছাড়া পুজোর দিনগুলিতে ডেঙ্গুর রক্ত পরীক্ষা করার জন্য সরকারি হাসপাতালের ল্যাবরেটরিও খোলা থাকবে।
ইতিমধ্যেই প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নয়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলা-মহকুমা-ব্লক হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক, অ্যাডিশনাল সুপার, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারদের আগাম অনুমতি ছাড়া উৎসবের মরশুমে শহরের বাইরে যেতে পারবেন না তাঁরা। এর পাশাপাশি পুজোয় শুধু অষ্টমীর দিন ছাড়া, বাকি সব দিন আউটডোর খোলা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ডেঙ্গু নিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী দফায় দফায় জেলাশাসককদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিটি পুরসভাকে পুজোর আগে থেকেই ‘হেল্পলাইন’ চালু করার নির্দেশ দিয়েছিল নবান্ন। যাতে সাধারণ মানুষ কোনও এলাকায় জঞ্জাল ও জমা জল দেখলেই পুরসভাকে খবর দিয়ে পরিষ্কার করাতে পারে। ইতিমধ্যেই প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য চিকিৎসার উপযুক্ত ব্যবস্থা তৈরি রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়া হয়, সরকারি কর্মসূচি নয়, ডেঙ্গু মোকাবিলাকে অভিযান হিসেবে দেখতে হবে।

জেলাশাসক ও স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের নবান্ন সাফ জানিয়ে দেন,ডেঙ্গু মোকাবিলায় মানুষকে যুক্ত করতে হবে। সকলকে বিশেষ নজর দিতে হবে এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে। পরিষ্কার জমা জলেই ডেঙ্গুর মশা জন্মায়, এটা মানুষকে বোঝাতে হবে। স্বাস্থ্য দফতরের মতে,হেল্পলাইন নম্বর চালু হলে সাধারণ মানুষও পুরসভাকে খবর দিতে পারবে কোথাও জল কিংবা জঞ্জাল জমে আছে কিনা।

সম্প্রতি ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিটি ওয়ার্ডস্তরে মাইক্রো প্ল্যান করার নির্দেশও দেন হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাফাই অভিযান কতটা হচ্ছে? ঠিকমতো মানুষের কাছে প্রচার করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? সেদিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।

About Post Author