সময় কলকাতা ডেস্কঃ চলতি বছরেই ডিয়ার লটারিতে এক কোটি টাকা জিতেছিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। যা রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমত আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এবার এই ঘটনার প্রায় দশ মাস পর অনুব্রতর জেতা সেই লটারি নিয়ে তদন্ত শুরু করল সিবিআই। বোলপুরের ব্যবসায়ী বাপি গঙ্গোপাধ্যায়ের গাঙ্গুলি লটারি নামে একটি লটারির দোকান রয়েছে। সুত্রের খবর,সেখান থেকে ওই টিকিট কাটা হয়েছিল। কার্যত সেকারণেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার নিজাম প্যালেসে তলব করা হয়েছিল লটারি টিকিট বিক্রেতা বাপি গঙ্গোপাধ্যায়কে। এদিন তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অনুব্রত নিজে গিয়ে কি ওই টিকিট কিনেছিলেন? নাকি কারও মারফতে কেনা হয়েছিল ওই টিকিট? কতগুলি লটারি কিনেছিলেন এবং কত টাকায় লটারি কিনেছিলেন? যদিও সিবিআই আধিকারিদের দাবি,গরু পাচারের বিশাল অঙ্কের কালো টাকা এই লটারির টিকিটের মাধ্যমেই সাদা করা হত।

চলতি বছরের জানুয়রি মাসেই ডিয়ার লটারির ওয়েব সাইটের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়। যেখানে বলা হয় মাত্র ছয় টাকায় ডিয়ার লটারিতে অনুব্রত মণ্ডল এক কোটি টাকা পেয়েছে। এরপরেই প্রশ্ন ওঠে যে,অনুব্রত মণ্ডল কি সত্যিই লটারি কেটেছিলেন? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরুও হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। যদিও সেসময় অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছিলেন, ‘কোনোদিনই তাঁর লটারি কেনার নেশা ছিল না। তবে তাঁর গাড়ি চালক ও নিরাপত্তা রক্ষীরা প্রায়ই লটারি কিনতেন।’
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ডিয়ার লটারির দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যা নিয়ে শুরু হয়েছিল জোর বিতর্ক। গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির পর থেকেই সিবিআই আধিকারিকদের নজরে ছিল অনুব্রতর বিপুল সম্পত্তি। ইতিমধ্যেই তাঁর সম্পত্তি নিয়ে যাবতীয় তথ্যও খতিয়ে দেখছে সিবিআই। তারই মধ্যে এবার তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে অনুব্রতর জেতা সেই লটারির টিকিট।
প্রসঙ্গত,বেশ কিছুক্ষেত্রে লটারির টিকিটের স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এর আগেও ডিয়ার লটারি নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। প্রথমত এই লটারির অনেক কিছুই স্বচ্ছ নয় বলেই অভিযোগ তুলেছেন বহু ব্যক্তি। বহু মানুষের অভিযোগ, আনসোল্ড টিকিটেও পুরস্কার দেওয়া হয়। অর্থাৎ যে টিকিট বিক্রি হয়নি সেই টিকিটে পুরষ্কার দেওয়া হয়। এই বিষয় নিয়ে তো বিতর্ক রয়েই গিয়েছে। এরই মাঝে আরো বড় অভিযোগ উঠেছিল যে প্রতিটি টিকিটের পিছনে লেখা রয়েছে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে বিক্রির জন্য এই টিকিট। অথচ মাঝে মাঝে দেখা যায় অন্য রাজ্যের ক্রেতাদের বরাত খুলছে। যেখানে ভারত সরকারের নির্দেশ আছে যে এক নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি টাকার পেমেন্ট করতে হলে অনলাইন অথবা ব্যাঙ্কিং ট্রানজাকশন করতে হবে। কিন্তু এই লটারির ক্ষেত্রে ২২৫০০০ টাকা অথবা ৪৫০০০০ টাকা অবলীলায় ক্যাশে পেমেন্ট করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সরকার কতটা রাজস্ব পায়? তা নিয়েও প্রশ্ন চিহ্ন রয়েছে। কেননা মাঝেমাঝেই প্রথম পুরষ্কার দেওয়া হয় না। অর্থাৎ সেটা রিটার্ন। লেখা থাকে রিটার্ন টু দ্যা গভর্মেন্ট। অর্থাৎ সরকারের কাছে ফিরে গেল, তাহলে কি সরকার লটারি খেলায়। এ প্রশ্ন উঠতেই পারে।

রাজ্যে অসংখ্য লটারির দোকান রয়েছে। সেখান থেকে কত টাকা আসে? কত টাকাই বা সরকারকে ট্যাক্স দেওয়া হয়? কত মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে? নাগাল্যান্ড সরকারই নিজেরা কি খেলা দেখাচ্ছে? নাকি সবটাই পিটার আর নাগরাজনের ফাঁদ। এরকম অসংখ্য প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। হয়তো এসব প্রশ্নেরই উত্তর পাওয়ার দিন এবার চলে এসেছে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি