সময় কলকাতা ডেস্কঃ নন্দীগ্রামের একটি জনসভা থেকে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সভামঞ্চে আগুন লাগানোর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি। এই ঘটনার পর থেকেই সরব হয়েছেন বঙ্গবিজেপি। ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেতার পদত্যাগের দাবিতে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপি। কলকাতার রাজপথেও শুরু হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল। পাশাপাশি নন্দীগ্রামে বিজেপির তরফে অখিল গিরির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর-ও করা হয়েছে।
শনিবার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে বঙ্গ বিজেপির তরফে বিক্ষোভ মিছিল হয়। বিজেপি নেতা কর্মীরা অখিল গিরির কুশপুতুল হাতে পথে নামেন। তাঁদের দাবি, রাষ্ট্রপতিকে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী অখিল গিরি। সেকারণেই অবিলম্বে তাঁকে মন্ত্রীপদ থেকে সরানো উচিত। এদিকে, নন্দীগ্রামেও অখিল গিরির মন্তব্যের প্রতিবাদে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ কর্মসূচি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারাও এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত,নন্দীগ্রামের একটি জনসভা থেকে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সভামঞ্চে আগুন লাগানোর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নাকি দেখতে খারাপ। নিজের রূপের বিচার করি না। তোমার রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু তোমাদের রাষ্ট্রপতি কেমন দেখতে বাবা!’ আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

শুক্রবার নন্দীগ্রামে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বাহ্যিক রূপ নিয়ে মন্তব্য করে অখিল গিরি বলেন, ‘বলে দেখতে ভালো নয়। কী রূপসী! কী দেখতে ভালো! আমরা রূপের বিচার করি না। তোমার রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু, তোমার রাষ্ট্রপতিকে কেমন দেখতে বাবা?’ রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে এহেন মন্তব্যের পরই সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই অখিল গিরির সেই বক্তব্যের ক্লিপিংস একটি টুইট করে বিজেপির মুখপাত্র অমিত মালব্য লেখেন, ‘রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরি তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন রাজ্যের আরও এক মন্ত্রীর সামনে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সরকার আদিবাসী বিরোধী। তিনি রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে সমর্থন করেননি। এই ঘটনা লজ্জাজনক!’ পাশাপাশি, অখিল গিরির মন্তব্যের নিন্দা করে টুইট করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। অবিলম্বে অখিল গিরির বিধায়ক পদ খারিজের দাবি জানিয়েছেন তিনি।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি