সময় কলকাতা ডেস্কঃ অভিনেতা- রাজনীতিবিদ পরেশ রাওয়ালের সম্প্রতি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। তার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঝড় উঠেছে। বিতর্ক দানা বেঁধেছে, প্রতিবাদ হয়েছে এমনকি তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।গত মঙ্গলবার গুজরাটে একটি নির্বাচনী জনসভায় বাঙালির মাছ খাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেন। প্রতিবাদের মুখে পরেশ গত শুক্রবার তাঁর এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন। তাতেও অবশ্য বিতর্ক থামেনি। গত মঙ্গলবার গুজরাতে একটি নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়লে একদিন আবার কমেও যাবে। যদি অনুপ্রবেশ বাড়ে, তাও একদিন কমবে। মানুষ চাকরিও পাবে। কিন্তু আপনাদের পাশে যদি রোহিঙ্গা পরিযায়ী এবং বাংলাদেশিদের ভিড় বাড়তে থাকে দিল্লির মত, তখন কী হবে? তখন আপনি গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে কী করবেন? বাঙালিদের জন্য মাছ রাঁধবেন?
অতঃপর চাপে পড়ে পরেশ রাওয়াল জানান, তিনি অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের কথা বলতে চেয়েছেন। বাঙালিদের অপমান করতে চাননি। এর জন্য যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাতে তিনি দুঃখিত। বিতর্ক একবার নয়। বারবার বিতর্ক দানা বেঁধেছে পরেশ রাওয়ালের বিবৃতি ঘিরে। ২০১৪ সালে পূর্ব আমেদাবাদ কেন্দ্র থেকে বিজেপি সাংসদ হওয়ার পরে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি। ২০১৭ সালে পরেশ রাওয়াল বিতর্কিত হয়ে ওঠেন অরুন্ধতী রায়কে নিয়ে তার মন্তব্যের জন্য। সে সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে এক পাথর নিক্ষেপ কারীকে বেঁধে রাখার বিষয়টি সামনে আসে। পরেশ রাওয়াল সে সময় টুইট করেন প্রস্তর নিক্ষেপকারীকে না বেঁধে রেখে তার বদলে লেখিকা অরুন্ধতী রায়কে বেঁধে রাখা হোক। শুধু তাই নয় তিনি লেখিকা অরুন্ধতী রায় প্রসঙ্গে গোদরা দাঙ্গার কথাও টেনে আনেন। এই উক্তি বিতর্কে জন্ম দেয় এবং বিদ্বজন সমাজ ও রাজনৈতিকভাবে কংগ্রেস প্রবল বিরোধিতা জানায়। ২০১৭ সালের তার আরেকটি বক্তব্য রাজপুত সমাজের উস্মার কারণ হয়ে ওঠে। বিতর্ক শুধু একবারই নয়, বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন ২০১৭ সালে পরেশ রাওয়াল রাজকোটে এক সমাবেশে সর্দার প্যাটেলকে স্মরণ করার সময়, অভিনেতা-রাজনীতিবিদ রাজপরিবার এবং সঙ্গীতকে রাজা ভাজা উল্লেখ করে বানরের বা বাঁন্দ্রার সাথে তুলনা করেছিলেন, যা স্বাভাবিকভাবেই রাজপূত সম্প্রদায়ের অপমানকর বোধ হয়েছিল ।
এর পরেই, রাজপুতদের প্রান্তিক গোষ্ঠী করনি সেনা পরেশ রাওয়ালকে তার বক্তব্যের জন্য সতর্ক করে।প্রবীণ অভিনেতা অবিলম্বে ক্ষমা চেয়েছিলেন, বলেছিলেন যে তার মন্তব্যটি “হায়দ্রাবাদের নিজাম” এর লক্ষ্য ছিল। অর্থাৎ বারবার বিতর্ক তৈরি করে অন্যকে আঘাত করার মত বিবৃতি দেওয়ার প্রবণতা তার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে। বারবার তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি বক্তব্যের লক্ষ্য বিন্দুকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চেষ্টা করেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিতর্কে তিনি জল ঢালতে পারেননি।এবারও পরেশের এই মন্তব্য ঘিরে বাংলায় প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে বামেরা পর্যন্ত অভিনেতার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছে। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বা মহুয়া মৈত্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছেন।সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আরেক ধাপ এগিয়ে বিজেপি নেতা পরেশের বিরুদ্ধে তালতলা থানায় এফআইআর করে তাঁকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। এফআইআরে সিপিএম নেতার অভিযোগ, প্রকাশ্য সভায় এই ধরনের মন্তব্য অশান্তি সৃষ্টিতে মদত দেবে। তা বাঙালি এবং অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে। তাতে শান্তি বিঘ্নিত হবে। অভিনেতার বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, সব বাঙালিই বিদেশি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে পরেশের বক্তব্য নিয়ে কথাবার্তা চলছে, তাতে বাঙালিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র টুইটে বলেন, অভিনেতার ক্ষমা চাওয়াতে আমি খুশি নই। বাঙালির মতো মস্তিষ্ক আর কার আছে। বাংলা ও বাঙালীর অধিকারের পক্ষের অসাম্প্রদায়িক অদলীয় রাজনৈতিক সংগঠন “বাংলা পক্ষ” ও রীতিমতো সরব ।বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় টুইটে ঘোষণা করেছেন, পরেশ রাওয়াল অভিনীত কোনও সিনেমা বাংলায় দেখানো চলবে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেতা পরেশ রাওয়ালকে বয়কটের আওয়াজ উঠেছে। তাঁর মন্তব্যের সমালোচনায় ভরে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। তার চাপেই বাধ্য হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন প্রবীণ এই অভিনেতা। কিন্তু বারবার অনভিপ্রেত মন্তব্য করে বিতর্ক জন্ম দেওয়া ও চাপে পড়ে ক্ষমা চাওয়া যেন স্বভাবজাত হয়ে উঠছে পরেশ রাওয়ালের।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?