সময় কলকাতা ডেস্ক: দীর্ঘদিন যাবৎ কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে উত্তাল বীরভূম। গরু পাচার, কয়লা পাচার নিয়ে একাধিক অভিযোগে বিদ্ধ রামপুরহাটের একাধিক শাসকদলের নেতা। বহুবার অভিযোগ উঠেছে পাথর খাদান এর দুর্নীতি নিয়ে। সিবিআই -ইডির তদন্তের পরে কি অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়েছে? নাকি এখনো দুর্নীতি চলছে?

রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে পাথর খাদান অর্থাৎ যাকে বলা হয় ক্রাশার। এই ক্রাশার থেকে প্রতিদিন কয়েকশো গাড়ি পাথর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের অট্টালিকা নির্মাণ সহ বিভিন্ন ঢালাইয়ের কাজে যে পাথর ব্যবহৃত হয় তার চাহিদা পূরণ করে মূলত পুরুলিয়া বাঁকুড়া বীরভূমে অবস্থিত ক্রাশারগুলি। বীরভূমের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ ক্রাশার রয়েছে। দশ চাকার লরি হোক অথবা আট চাকার লরি অথবা ট্রাক্টর মিলিয়ে কম করে দিনে ৫০০০ গাড়ি পাথর বোঝাই হয়ে এই ক্রাশার থেকে রওনা দেয় রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে। আইন মেনেই এই ক্রাশারগুলি চলে কিন্তু তার মাঝেও দানা বেঁধেছে বেআইনি কাজ,চলছে দেদার তোলাবাজি। কিন্তু কিভাবে হচ্ছে তোলাবাজি? রামপুরহাট ১নম্বর ব্লকের দুমকা রামপুরহাট হাইওয়ের ঝনঝনিয়া মোড়ে। একদা এই রয়্যালটি গেটটি চলতো পাবলিক টেন্ডারের ভিত্তিতে। পরবর্তী ক্ষেত্রে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল গরু পাচার কেলেঙ্কারিতে জেলে যাওয়ার পর এখন এই ঝনঝনিয়া মোড়ে রয়্যালটি গাড়ি পিছু তুলছেন বিএলআরও দফতর-এর কর্মীরা।
অর্থাৎ ট্রাক্টরের টাকা নেওয়া হলেও জমা পড়ে না সরকারের কোষাগারে। এদিন প্রশ্নবানের মুখে পড়ে বিএলআরও দপ্তরের কর্মী নিজে উঠেই হুকুম দিলেন সমস্ত ট্রাক্টর আটকানোর। তাহলে এতদিন ট্রাক্টর আটকানো হচ্ছিল না কেন? প্রতিদিন করে ৭০০-৮০০ ট্রাক্টর থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হলে কত টাকা হয় ?আর সে টাকা সরকারের কোষাগারে কেন জমা পড়ে না? তার উত্তর অবশ্য দিলেন না বিএলআরও দপ্তরের এই কর্মী।
এ বিষয়ে, ট্রাক্টর চালকরা বলছেন তাদের থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয় অথচ কোন রকম মানি রিসিট দেওয়া হয় না। ট্রাক্টর চালকদের কথাতেই পরিষ্কার তাদের কাছ থেকে যে ২০০ টাকা নেওয়া হয় সেটার রাজস্ব খাতে জমা পড়ে না। অর্থাৎ সেই পুরনো তত্ত্ব তোলাবাজি। শুধু কি ট্রাক্টর থেকে নাকি আরও অন্যভাবে তোলাবাজি চলে এই রয়্যালটি গেটে।

গাড়ি চালকদের বক্তব্য, তাদের কাছ থেকে গাড়ি-কিছু রয়্যালটি বাবদ নেওয়া হয় ১৭০০ টাকা। অথচ চালান কাটা হয় ১৬০০ টাকার অর্থাৎ এখানেও একশ টাকা করে চুরি করা হচ্ছে প্রত্যেক গাড়ি থেকে। এটা তোলাবাজি না চুরি ? এটা যেমন বিচার্য বিষয় তেমনি প্রতিদিন গড়ে ১৫০০ গাড়ি ক্রাশার থেকে যাতায়াত করে। প্রত্যেক গাড়ি থেকে ১০০ টাকা করে চুরি করলে ওঠে বিপুল পরিমাণ টাকা। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ টাকা চুরি করার পর যায় কোথায় ?সে প্রশ্নের উত্তর অধরা। তবে রাজ্য সরকারের উচিত অবিলম্বে এই বিষয়ে দৃষ্টিপাত করা তাহলে হয়তো লক্ষ লক্ষ টাকা জমা পড়তে পারে সরকারের রাজস্ব খাতে। এই অসাধুচক্রের অসাধু তোলাবাজি নিয়ে কার্যত বীরভূমে নীরব শাসক- বিরোধী উভয় দলই।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী