Home » মানি, গুনস অ্যান্ড গানস ফর বিজেপি’, বানারহাট ইস্যুতে বিস্ফোরক মমতা

মানি, গুনস অ্যান্ড গানস ফর বিজেপি’, বানারহাট ইস্যুতে বিস্ফোরক মমতা

সময় কলকাতা ডেস্কঃ রাজ্যজুড়ে যখন আগ্নেয়াস্ত্র-বোমা উদ্ধার, বোমা বিস্ফোরণ, জায়গায় জায়গায় বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারে চোখ কপালে উঠছে রাজ্যবাসীর, প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে, বিরোধীরা কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, ঠিক তখনই বিজেপির উদ্দেশ্যে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া, সব টাকা, গুন্ডা আর অস্ত্র বিজেপির জন্য আসছে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী নিয়ে এসব আনছে ওরা। পুলিশও ধরতে পারছে না। রবিবার জলপাইগুড়ির বানারহাটে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার দিল্লি সফরে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে বানারহাট প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী।

ঠিক কী ঘটেছিল বানারহাটে? রবিবার জলপাইগুড়ির বানারহাটে একটি গাড়ির স্টেপনি থেকে উদ্ধার হয়েছিল চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার মতো বিপুল পরিমাণ টাকা। টাকার অঙ্কটা ছিল প্রায় ৯৪ লক্ষ ৩৮ হাজার। কিন্তু, কোথা থেকে এলো এত টাকা, কীসের উদ্দেশ্যে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এত টাকা? তা অজানা। টাকা উদ্ধার হতেই এর উৎস্য খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই, পঞ্চায়েত ভোটের আগে বিরোধীরা আগ্নেয়াস্ত্র, বোমার পাশাপাশি বানারহাটে প্রায় এক কোটি টাকা উদ্ধার ইস্যুকেও দাবার চাল হিসেবে ব্যবহার করে মাঠে নেমেছে। তবে, সোমবার এই টাকা উদ্ধার ঘিরেই মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ নিঃসন্দেহে বিস্ফোরক। তবে, শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি যেন তেন প্রকারেন বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে এনআইএ তদন্তের দাবি করে বাংলায় অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে।

শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। ওই ঘটনার পরও এনআইএ তদন্তের দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি নিজেরাই বোমা ফাটাচ্ছে, তার পর তৃণমূলের উপর দোষ চাপিয়ে এনআইএ তদন্তের দাবি করছে। পাশাপাশি, বোমাটি ভূপতিনগরের জায়গায় কাঁথিতে পড়ার কথা ছিল, শুভেন্দু অধিকারীর এই টুইট ঘিরেও শাসকদলের তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়েন তিনি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘এসব না করে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে লড়ার আবেদন জানাচ্ছি।’মুখ্যমন্ত্রীর এহেন আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ‘২০১১-র আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া বেরোতেন না। RPF-CRPF নিয়ে সভা করতেন। রাজনৈতিক হতাশা থেকে এসব বলছেন।’

রাজ্যে বিপুল টাকা উদ্ধার এই প্রথম নয়। এর আগে গত জুলাই মাসে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ‘ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে দু’দফায় মোট ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়ে উদ্ধার হয় লাখ লাখ টাকা। কিছুদিন আগেই মালদহের মালদহের কালিয়াচকের গঙ্গানারায়ণপুর এলাকায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি থেকে ৩৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। দিন দুই আগে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় বারুইপুর টং তলায় নাকা তল্লাশি চালানোর সময় একটি ভাড়া গাড়ির মধ্যে থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার হয়। পাশাপাশি, খাস কলকাতায় দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। এখানেই শেষ নয়, প্রতিদিনই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনা শিরোনামে উঠে আসছে। প্রশ উঠছে, কোথা থেকে আসছে এই অর্থ? কোন উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? কোথায়ই বা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য? তদন্তকারীদের একাংশের বক্তব্য, প্রশ্নগুলির উত্তর স্পষ্ট নয়, জারি তদন্ত।

About Post Author