Home » শীতকালীন অধিবেশনে বিপজ্জনক বিল আসার আশঙ্কা মমতার

শীতকালীন অধিবেশনে বিপজ্জনক বিল আসার আশঙ্কা মমতার

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ‘অনেক বিপজ্জনক বিল আসতে চলেছে’। বুধবার দলীয় সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সংসদে শুরু হয়েছে শীতকালীন অধিবেশন। এই অধিবেশনে ১৬ টি বিল আনতে চলেছে মোদি সরকার। যেগুলোর বেশিরভাগই বিপজ্জনক ও রাজ্যে অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে বলেই দাবি তৃণমূলের সংসদীয় চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদের কিছু বলার জায়গা দেওয়া হচ্ছে না। স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে বিরোধীদের সরিয়েছে। শুধু বিরোধীদের বুলডোজার করে দাও।’চব্বিশে লোকসভা নির্বাচন। ২০২৪-কে টার্গেট করে ঘুঁটি সাজাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী জোটকে এক হয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেই বিরোধী ঐক্যের জোট ঝালিয়ে নিতেই কি মমতার এই দিল্লি সফর? জল্পনা শুরু রাজনৈতিক মহলে।

বুধবার দুপুরে সাংসদ সৌগত রায়ের বাড়িতে রাজ্যসভা ও লোকসভার সমস্ত দলীয় সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব তৃণমূল সাংসদদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ অর্জুন সিংরাও। সংসদে শীতকালীন অধিবেশনে কী হবে তৃণমূলের রণকৌশল? তা ঠিক করে দিতেই তৃণমূলনেত্রী এই বৈঠক ডেকেছিলেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। রাজ্যে বিজেপি সচরাচর যে অভিযোগ করে থাকে, বুধবার দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সেই অভিযোগেই সরব হলেন মমতা। প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর আক্রমণ, শাসক দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় জোর করে বিল পাস করাতে চায়। জোর খাটিয়ে কেন্দ্রের শাসক দল এটা করতে পারে না। সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধী ঐক্যে চিড় নজরে এসেছিল গোটা দেশের। তাঁর রেশ ছিল গোয়া নির্বাচনের ফলাফল, দেশের উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী বাছাইয়ের বৈঠক নিয়ে মনোমালিন্য ঘিরেও। তবে, এবার যেন তা কাটবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বুধবার মল্লিকার্জুন খাড়্গের ডাকা বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আপের প্রতিনিধি ছিলেন। উপরি পাওনা হিসেবে এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে অন্যান্য দলকে আহ্বান জানাচ্ছি’।

 

যদিও তৃণমূল নেত্রীর এহেন মন্তব্যের তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। মমতা নির্দেশ দিয়েছেন, শুধু ‘বাংলা’ ‘বাংলা’ নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় চরিত্রের কথা মাথায় রেখে, সম-মনোভাবাপন্ন দলগুলির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে, আন্দোলন হবে জাতীয় স্তরে। ২৪- এ , সার্বিক জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ‘ভারসাম্যের রাজনীতি’ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা সময়ই বলবে।

About Post Author