Home » ফের শেষ আটে স্বপ্নভঙ্গ ব্রাজিলের,নেইমারদের হারিয়ে শেষ চারে ক্রোয়েশিয়া

ফের শেষ আটে স্বপ্নভঙ্গ ব্রাজিলের,নেইমারদের হারিয়ে শেষ চারে ক্রোয়েশিয়া

সময় কলকাতা ডেস্ক: আরও একটা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, আরও একটা ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ, আরও একটা হার। ২০০২ সালে পঞ্চম বিশ্বকাপটি জয়ের পর বিশ্বকাপে এটাই ব্রাজিল দলের মূল্যায়ন। ব্রাজিলের শেষ আটের দুঃস্বপ্ন আরও দীর্ঘায়িত হল কাতার বিশ্বকাপে।

শুক্রবার দোহার এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ট্রাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল সেলেকাওরা। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে কোনও পক্ষই গোল করতে পারেনি। যদিও ম্যাচের দুই অর্ধে একাধিকবার গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল দুই দলের ফুটবলাররা। যদিও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে দাপটের সঙ্গে খেললেও এদিন বেশ নিষ্প্রভ দেখিয়েছে ব্রাজিল আক্রমনভাগকে। এর কৃতিত্ব যদিও প্রাপ্য ক্রোয়েশিয়া কোচ ডালিচের। মাঝমাঠে মদ্রিচ, কোভাসিচ, ব্রোজোভিচ এই ত্রয়ীকে ব্যবহার করে ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে বেশ চাপে রেখেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ। ৩৭ বছর বয়সে দুরন্ত ফুটবল খেললেন ক্রোট তারকা লুকা মদ্রিচ। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলের একাধিক আক্রমণকে নিষ্ক্রিয় করলেন রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার। একাধিকবার প্রতি আক্রমণের বল সাজিয়ে দিলেন ক্রেমারিচ, পেরিসিচদের উদ্দ্যেশে। দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে নেইমার ঝলক দেখা গেলেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বেশ নিষ্প্রভই দেখাল পিএসজি তারকাকে। এদিন নেইমার, ভিনিসিয়স, রিচার্লিসন সমৃদ্ধ ব্রাজিল আক্রমণ একাধিকবার গোলের পথ হারাল ভারদিয়ল, লভরেনদের পায়ের জঙ্গলে। নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ে ক্রোয়েশিয়া রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে নেইমার, অ্যান্টনিরা। কিন্তু বারবারই ক্রোটদের জমাট রক্ষণে তা প্রতিহত হচ্ছিল। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল এই ম্যাচে প্রথম গোল পাওয়ার জন্য। সৌজন্যে সেই নেইমার। ওয়ান টাচ ফুটবল খেলে বিপক্ষের রক্ষণ তছনছ করে গোল করেন ব্রাজিল সমর্থকদের নয়নের মণি। এই গোলের পরেই গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ব্রাজিল সমর্থকরা। কিন্তু তাদের উচ্ছ্বাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১১৭ মিনিটের মাথায় প্রতি আক্রমনে ম্যাচে সমতা ফেরান ব্রুনো পেটকোভিচ। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনও গোল না হওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।

 

 

জাপানের বিরুদ্ধে তিনটি পেনাল্টি বাঁচিয়ে নায়ক হয়েছিলেন ক্রোট গোল রক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। জাপান ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন ডমিনিক,এদিন শুরুটা করলেন সেখান থেকেই। ব্রাজিলর হয়ে প্রথম শট নিতে আসা রদ্রিগোর পেনাল্টি বাঁচান। অপরদিকে ক্রোয়েশিয়ার একটি শটও বাঁচাতে পারেননি ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বাকের। ব্রাজিলের হয়ে চতুর্থ শট নিতে এসে পোস্টে মারেন মার্কুইনোজ। এই শটের পরেই নির্ধারিত হয়ে যায় এই বিশ্বকাপে এই দুই দেশের ভবিষ্যত।

ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৭৭ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করার দিনেই চোখের জলে মাঠ ছাড়লেন নেইমার। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হারের জেরে ইস্তফা দেন ব্রাজিল কোচ তিতে। অন্যদিকে চোয়াল শক্ত ও চোখে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠ ছাড়লেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ ও ফুটবলাররা।

About Post Author