সময় কলকাতা ডেস্কঃ যত কাণ্ড লুসাইয়ে। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ট্রাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে আর্জেন্টিনা। তবে এদিন ম্যাচে নাটকের পর নাটকের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। শুরু থেকে দু’দলই রক্ষণ মজবুত রেখে প্রতি আক্রমণ করার চেষ্টা করছিল। একাধিক ছোট পাসে ম্যাচের দখল রাখছিল নিজেদের কাছে। খেলা শুরুর প্রথম দিকে দু’বার আর্জেন্টিনার বক্সে ঢুকে পড়েন কোডি গাকপো, মেম্ফিস ডিপেরা। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলো মার্টিনেজকে কোনও কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি লুই ফান হালের দল। প্রতি আক্রমণে ডাচ বক্সেও চাপ তৈরী করে মেসি, আলভারেজ, দি পলরা। কিন্তু শক্তিশালী ডাচ রক্ষণকে পরাস্ত করতে পারেনি। মেসিকে কড়া প্রহরায় রেখেছিলেন ডাচ কোচ। কিন্তু তিনি লিও মেসি। তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আটকাবে কার সাধ্যি? প্রথমার্ধের ৩৫ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূরে বল ধরে ডাচ ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে অনবদ্য ফরওয়ার্ড পাস বাড়ালেন। সেই পাস থেকে গোল না করাটাই কঠিন। সহজ কাজ টা ঠান্ডা মাথায় করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন রাইট ব্যাক নাহুয়েল মলিনা। প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়েন মেসিরা। প্রথমার্ধে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ পেলেও স্কোর কার্ডে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুটি পরিবর্তন করেন ডাচ কোচ। দি রুন ও বারজোয়াইনের পরিবর্তে মাঠে নামান কুপারমিনার ও ব্যারহাউসকে। দুটি পরিবর্তনে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ডাচ আক্রমণে ধার বাড়ে। দুটি প্রান্তকে কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণে বার বার চাপ তৈরী করতে থাকেন গাকপো, ডুমফ্রিসরা। তবে গোলমুখ খুলতে পারেনি ডাচরা। এরই মধ্যে কয়েকবার প্রতি আক্রমণে গোলের সুযোগ পেয়ে যায় আর্জেন্টিনাও। মেসির সাজানো পাস থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ম্যাক অ্যালিস্টার, গোলের খুব কাছ থেকে ফ্রি-কিক পেয়েও পোস্টের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন মেসি। এরই মধ্যে ডাচ রাইট ব্যাক ডুমফ্রিসের ভুলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করনেনি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিও। ৭১ মিনিটে ২-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। গ্যালারিতে তখনই উৎসব শুরু করে দেন নীল সাদা বাহিনীর সমর্থকরা।
কিন্তু আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছাস দীর্ঘায়িত হয়নি। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে ডাচরা আক্রমণে লোক বাড়াতে শুরু করে। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে সবাইকে চমক দিয়ে ডিপেকে তুলে পরিবর্তে হিসেবে নামান উট উইঘর্স্টকে। আর এক পরিবর্তই ম্যাচের রং বদলে দেন। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে বারজোয়াইনের মাপা সেন্টার থেকে হেড করে ম্যাচে ব্যবধান কমান উইঘর্স্ট। ম্যাচের সময় যতই কমছিল মাঠের পরিস্থিতিও তত উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। মাঠের মধ্যেই হাতাহাতিতে জড়ান দুই দলের খেলোয়াড়রা। একাধিকবার পকেট থেকে হলুদ কার্ড বার করতে হয় ম্যাচের রেফারি আন্তোনিও লাহজকে। এদিন ম্যাচে দুই দলের ১৮ জনকে হলুদ কার্ড দেখান এই স্প্যানিশ রেফারি।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষে ১০ মিনিট সংযুক্তি সময় দেওয়া হয়। সংযুক্তি সময়ের শেষ মুহূর্তে ফের নাটক। কুপারমিনারের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রিকিক থেকে ম্যাচে সমতা ফেরান সেই উইঘর্স্ট। অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের রাশ ফের নিজেদের দখলে নেয় মেসিরা। এনজো ফার্নান্দেজের দূর পাল্লার শট পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায় মাঠের বাইরে। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের স্কোরকার্ডে পরিবর্তন না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। ট্রাইব্রেকারে ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক ও স্টিভেন ব্যারহাউসের শট বাঁচিয়ে দেন বার্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলো মার্টিনেজ। আর্জেন্টিনার হয়ে পেনাল্টি বাইরে মারেন এনজো। কিন্তু পঞ্চম শটে লাউতারো মার্টিনেজ ডাচ গোলরক্ষককে পরাস্ত করতেই ফের একবার উৎসবে মেতে ওঠে গ্যালারি। মধ্য রাতের উৎসবে সামিল হয় বার্সেলোনা থেকে কলকাতাও। সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতে সেমিফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা। শেষ চারে তাঁদের প্রতিপক্ষ মড্রিচের ক্রোয়েশিয়া। সেই ম্যাচ জিতলে কাঙ্খিত বিশ্বকাপ ট্রফির লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবেন মেসিরা।


More Stories
জিতল লাল হলুদ,অভিষেকে ইউসেফের জোড়া গোল
পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছেঁটে ফেলতে পারে আইসিসি?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বদলে আইসল্যান্ড? নেট- দুনিয়ায় হইচই