সময় কলকাতা ডেস্ক: মহারণের আর দেরি নেই।কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয়ে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল।আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের ফুটবল বিশ্বকাপের দ্বৈরথের আবহে কাঁপছে গোটা ফুটবল বিশ্ব। ফুটবল ২২ জনের খেলা হলেও মাঠের বাইরে থেকে দুই কোচ কিভাবে আমাদের অস্ত্রকে মাঠে ব্যবহার করতে পারবেন তার উপরে নির্ভর করে আছে ফাইনালের ফলাফলের অনেকটাই। ব্যক্তিগত দক্ষতার দিকে তবুও তাকিয়ে থাকবেন দুই কোচ। এবং এখানেই দুই কোচের মূল অস্ত্র দুই তারকা ফুটবলার। দুজনেই এবার বিশ্বকাপে তাদের দেশের হয়ে পাঁচটি করে গোল করেছেন। লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপে- দুজনেরই ব্যক্তিগত নৈপূণ্যের দিকে তাকিয়ে থাকবেন দুই দেশের সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমীরা। মেসি ও এমবাপে দুজনেই যেকোনো মুহূর্তে পাল্টে দিতে পারেন খেলার ফল। গতি নির্ভর এমবাপে এবং স্কিল নির্ভর মেসির দ্বৈরথ এবারের ফাইনালের অন্যতম আকর্ষণ।
ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল শুরু হওয়ার আগেই প্রত্যেক ফুটবল প্রেমীর চর্চায় শুধু আর্জেন্টিনা নয়, শুধু ফ্রান্স নয়, আলোচনায় মেসি ও এমবাপে। গোল্ডেন বুট পাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের লড়াই এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এরকমটা সম্ভবত কোন বিশ্বকাপেই হয়নি। ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল্ডেন বুটের লড়াই থাকা কার্যত একই অংকে দাঁড়িয়ে থাকা দুই ফুটবলারকে নিয়ে উত্তাল হয়নি দুটি ফুটবল ফাইনালে অংশগ্রহণকারী দেশ। যদিও দুটি দেশের ফুটবল শক্তি বিচার করলে লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুতে। একথা বলাই বাহুল্য যতই আলভারেজ, ফার্নান্ডেজ বা রদ্রিগো দি পল আর্জেন্টিনার আক্রমণকে ক্ষুরধার করুন আর্জেন্টিনা মূলত মেসিভিত্তিক। মেসি জ্বলে না উঠলে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় যে আকাশ কুসুম সে নিয়ে আলোচনার অবকাশ নেই। অন্যদিকে এমবাপে ছাড়াও ফ্রান্সের আক্রমণভাগে রয়েছেন দুই অভিজ্ঞ প্লেয়ার অলিভার জিরু ও গ্রিজম্যান। ফলে এমবাপের ওপরে চাপ অনেকটাই কম। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই মেসির ওপরে রয়েছে প্রত্যাশার চাপ। ৩৫ বছর বয়সী লিওনেল মেসি এখনো বিশ্বকাপ জিতেন নি। অথচ ২৩ বছর বয়সী কিলিয়ান এমবাপে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপজয়ী হয়ে কাপ ছুঁয়ে দেখার স্বাদ পেয়েছেন। শুধু কি তাই? ফুটবল সম্রাট পেলের রেকর্ড ভেঙেছেন কদিন আগেই। ২৩ বছর বয়সে বিশ্বকাপের আসরে এত বেশি গোল করার রেকর্ড আর কারো নেই। অন্যদিকে লিওনেল মেসি নিজের দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড স্থাপন করেছেন এই বিশ্বকাপে। বাতিসতুতার রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। সার্বিক রেকর্ড থেকে সরে এসে যদি এবারের বিশ্বকাপের দিকে খালি নজর রাখা যায় তাহলে দেখা যাবে দুজনেই এবারের বিশ্বকাপে পাঁচটি করে গোল করলেও লিওনেল মেসি কাতার বিশ্বকাপে ৫৭০ মিনিট মাঠে থেকে ফাইনাল থার্ড সফল পাশ দিয়েছেন ১২১ টি। আর এখানেই পিছিয়ে কিলিয়ান এমবাপে। ফাইনাল থার্ডে এমবাপের সফল পাস তিরাশি টি। তথাপি মাথায় রাখতে হবে এমবাপের মূল শক্তি তাঁর গতি। ঘণ্টায় ৩৫.৩ কিলোমিটার বেগ তার যা কিনা মেসির চেয়ে অনেকটাই বেশি। গোল করার তীব্র খিদে রয়েছে এমবাপের। নিচে নেমেও তিনি রক্ষণে সহায়তা করতে পারেন। যেকোনো সময় উয়িং থেকে আক্রমণে উঠে বিপক্ষের গোল মুখ খুলে দিতে পারেন এমবাপে।
অন্যদিকে কি পারেন মেসি সে আলোচনার চেয়েও বলা ভালো কি পারেন না মেসি? বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা স্লথ হয়ে গেলেও বিপক্ষের ডিফেন্সকে বাঁ পায়ের জাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ করে নিজে গোল করতে পারেন, সতীর্থকে দিয়ে অনায়াসে গোল করাতে পারেন। ২০১৪ এবং ১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের কাছাকাছি এসেও নিজের চূড়ান্ত লক্ষ্য সফল করতে পারেননি। ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এমন সুযোগ লিওনেল মেসি আর পাবেন না। আর্জেন্টিনা বা ফ্রান্স দলগত শক্তিতে যে যতই এগিয়ে থাকুক, লিওনেল মেসি এবারের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজেকে উজাড় করে তো দেবেনই , তিনি চেষ্টা করবেন যেকোনো মূল্যে বিশ্বকাপ জেতার। আর এখানেই যেন এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল লিওনেল মেসির অগ্নিপরীক্ষা। এমবাপে নিজেকে প্রমাণের হয়তো অনেক প্রমাণই পাবেন এবং হয়তো বিশ্বকাপ ফুটবলে মেসিকে আর নাও দেখা যেতে পারে। তবুও তরুণ এমবাপের উপর প্রত্যাশা কম নয়। তবুও মেসি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠদের অন্যতম। মেসির ফুটবল জাদু মুগ্ধতা এনে দেয় প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে। এজন্যই ফ্রান্সের কোচ বলেছেন , তিনি শুনেছেন ফরাসীদের অনেকেই মেসির হাতে কাপ দেখতে চাইছেন। তিনি বলেছেন ” মেসিকে আটকানো রণকৌশল তো তৈরি করতেই হবে আমাকে “।মেসির জাদুর ঝলক বনাম ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশোর স্ট্রাটেজি এখানে অনেকটাই আলোচ্য। লড়াইটা আজ এম টেন বনাম এমটেনের। দুই দলের কোচ দুই দলের তারকা ফুটবলার কে আটকাতে কোন অস্ত্রের প্রয়োগ করেন সেটাও দেখার। একদিকে ওহেলিয় চুয়েমনিকে ব্যবহার করা হতে পারে আর্জেন্টিনার নটরাজ জাদুকরকে থামাতে এমনটাই সূত্রের খবর। অন্যদিকে,আর্জেন্টিনার দলীয় সূত্রের খবর, নাহুয়েল মলিনাকে ব্যবহার করা হতে পারে এমবাপে কে আটকাতে। কিন্তু তাতেও কি থামিয়ে রাখা যাবে মেসি বা এমবাপেকে ? দুই অসামান্য ফুটবলারের ফুটবল নৈপুণ্য দেখতে তাকিয়ে থাকছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।


More Stories
জিতল লাল হলুদ,অভিষেকে ইউসেফের জোড়া গোল
পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছেঁটে ফেলতে পারে আইসিসি?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বদলে আইসল্যান্ড? নেট- দুনিয়ায় হইচই