সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ জানুয়ারিঃ যোশীমঠ ঘিরে আতঙ্ক ক্রমাগত বাড়ছে। উত্তরাখণ্ডে পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এই শহরজুড়ে এখন শুধুই ফাটল। কোনও সময় বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে দেবভূমি। ফাটল দেখা দিয়েছে ৫৬১টি বাড়িতে। ফাটল দেখা দিয়েছে অবস্থিত যোশীমঠ-মালারি সড়কেও। ভারত-চিনের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এই রাস্তাজুড়ে নানা স্থানেই দেখা যাচ্ছে বড় বড় ফাটল। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ঘোষণা করে দিলেন, এই জনপদ বসবাসের উপযুক্ত নয়। এখানকার পুর এলাকাগুলিকে ‘বিপর্যস্ত’ তকমা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ধামির কাছে।

রবিবার পুষ্কর সিং ধামি টুইটারে জানিয়েছেন, মোদি তাঁকে ফোন করে সব খবর নিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও তাঁদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়ে খুঁটিনাটি খোঁজ করেছেন তিনি। এদিন দুপুরেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে ‘ডুবন্ত শহর’ যোশীমঠ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এদিকে যোশীমঠ নিয়ে মামলা পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। জ্যোতির্মঠের শংকরাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ শীর্ষ আদালতের আরজি জানিয়েছেন, এই সংকটকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার আরজিও জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে কাজে নামার অনুরোধও করেছেন শংকরাচার্য। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়নকে কাঠগড়ায় তুলে কার্যতই রাজ্যের বিজেপি সরকারকে তোপ দেগেছেন তিনি। এদিকে, ফাটল ঘিরে আতঙ্ক বাড়তে থাকায় যোশীমঠ খালি করে দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে চপারও।

এদিকে,শুক্রবার সন্ধ্যায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গত মানুষকে এয়ার লিফটের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করতে হবে। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারও পৃথক একটি টিম পাঠাচ্ছে যোশীমঠে। সেখানে পরিবেশ মন্ত্রক, কেন্দ্রীয় জল কমিশন, জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, ক্লিন গঙ্গা মিশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন। তাঁরা গিয়ে ওই এলাকার মাটির অবস্থা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী করণীয় সে ব্যাপারে রিপোর্ট দেবে দিল্লিকে। এই অবস্থায় পুনর্বাসনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার সারা রাত প্রবল ঠান্ডায় কয়েক হাজার মানুষ কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নীচে। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। তবে শুধু যোশীমঠ নয়, পার্শ্ববর্তী গ্রাম আউলিতেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। গোটা চামোলি জেলা জুড়েই বাড়ি-ঘর, এমনকি রাস্তাতেও চওড়া ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই ফাটল প্রত্যেক দিন বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। যোশীমঠে ফাটলের কারণে অন্তত তিন হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উত্তরাখণ্ড সরকার জানিয়েছে, ফাটল ধরার কারনে যাঁরা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের আগামী ৬ মাস মুখ্যমন্ত্রী ত্রান তহবিল থেকে বাড়িভাড়া বাবদ ৪ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে দেওয়া হবে। শহরের ভূমিকম্পপ্রবণ একটি এলাকার ৪০টি পরিবার ইতিমধ্যেই অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

যদিও জিওলজিস্ট থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী, অনেকেই যোশীমঠের অবস্থানের জন্য কী কী বিপদ ঘটতে পারে, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন অনেক আগেই। সূত্রের খবর,১৮৮৬ সালে প্রথমবার যোশীমঠ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, প্রাচীন যুগে এক ভয়াবহ ভূমিধস হয়েছিল উত্তরাখণ্ডে। সেই ধ্বংসস্তূপের ঠিক উপরেই তৈরি হয় যোশীমঠ। কার্যত সেকারণে স্বাভাবিকভাবেই যোশীমঠের ভিত খুবই দুর্বল।


More Stories
বিজেপি বিপক্ষ দল ভাঙাতে কত কোটি টাকা দিচ্ছে বলে অভিযোগ?
আক্রান্ত হলেন ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে
ভারতে তেলের দাম কি কমছে?